নাহিদ রানার তাণ্ডবে উড়ে গেল পাকিস্তান

২০৯ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার , ১২ মার্চ, ২০২৬ at ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশপাকিস্তান প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে সব আলো যেন কেড়ে নিলেন বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানা। গতি আর বাউন্সে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে আতঙ্ক ছড়িয়ে যেন ধ্বংসযজ্ঞ চালালেন নাহিদ। তরুণ পেসারের বিধ্বংসী বোলিংয়ে বড় জয়ে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে পাকিস্তানিদের ৮ উইকেট হারাল মেহেদী হাসান মিরাজের দল। প্রথমে ব্যাট করা পাকিস্তান ১১৪ রানে গুটিয়ে যায়। জবাবে স্বাগতিকরা ১১৫ রান তুলে নেয় ২ উইকেট খরচায়।

মিরপুরে গতকাল বুধবার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান শুরুটা করেছিল বেশ ভালোই। দশম ওভারে আক্রমণে আসেন নাহিদ। তার প্রথম স্পেলেই পাকিস্তানের ব্যাটিং রূপ নেয় অনেকটা ধ্বংসস্তূপে। প্রথম ওভারেই দলকে এনে দেন তিনি প্রথম ব্রেক থ্রু। সেই পথ ধরে ছুটে প্রথম পাঁচ ওভারের প্রতিটিতেই উইকেট শিকার করেন তিনি। তার সঙ্গে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের দারুণ বোলিংয়ে ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। রান তাড়ায় তানজিদ হাসানের ঝড়ো ফিফটিতে বাংলাদেশ জিতে যায় ২০৯ বল বাকি রেখে।

টস জিতে শাহিন শাহ আফ্রিদি বলেছিলেন, ২৭০২৮০ রান করতে চান তারা। কিন্তু তাদের জন্য বিভীষিকা হয়ে আসেন নাহিদ। ক্যারিয়ারের আগের পাঁচ ওয়ানডেতে তার মোট উইকেট ছিল পাঁচটি। এবার এক ম্যাচেই তার প্রাপ্তি ২৪ রানে ৫ উইকেট। ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড এটি। এর আগে পাঁচ উইকেট ছিল কেবল মোস্তাফিজুর রহমানের (/৭৫)

ব্যাটিং লাইন আপে চার অভিষিক্তকে নিয়ে একাদশ সাজায় পাকিস্তান। তাদের দুজন সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত মোটামুটি ভালো শুরু এনে দেন দলকে। প্রথম ৯ ওভারে উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ। এরপর নাহিদের হাতে বল তুলে দেন মিরাজ। ওভারের চতুর্থ বলে আলগা ডেলিভারিতে চার হজম করেন তিনি। ওভারের শেষ বলে ধরা দেয় উইকেট। সেই বলও মারার মতোই ছিল। কিন্তু গতির কারণেই পয়েন্টে ধরা পড়েন সাহিবজাদা। তিনি ৩৮ বলে ২৭ রান করেন। সেই থেকে শুরু নাহিদ রানার।

আরেক অভিষিক্ত শামিল হোসেন উইকেট হারান গতি সামলাতে না পেরেই। শুরু থেকে সাবলিল থাকা সাদাকাত (১৮) বিদায় নেন শর্ট বলের তোপে। পাকিস্তানের অনভিজ্ঞ এই ব্যাটিং লাইন আপে সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ রিজওয়ান। তার জন্যই সেরা ডেলিভারিটি জমা রাখেন নাহিদ। গতিময় আউট সুইঙ্গার ছুঁয়ে যায় রিজওয়ানের ব্যাটের কানা, উইকেটের পেছনে ভালো ক্যাচ নেন লিটন দাস। পরের ওভারে আবার শর্ট বলে সালমান আলি আগাকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন তিনি ৫ উইকেট। টানা ছয় ওভারে ছয় উইকেটও হতে পারত তার।

ম্যাচে তার সবচেয়ে গতিময় ডেলিভারিটি (১৪৮.) ছোবল দেয় ফাহিম আশরাফের প্যাডে। আম্পায়ার আউট দেননি, বাংলাদেশ রিভিউ নেয়নি। রিপ্লেতে দেখা যায়, আউট ছিলেন ফাহিম। টানা সাত ওভার বোলিং করে বিশ্রামে যান নাহিদ। এরপর আর বোলিং পাননি। ততক্ষণে অভিষিক্ত আব্দুল সামাদকে শূন্য রানে ফেরান মিরাজ। পরে হুসাইন তালাত ও শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ফেরান তিনি এক ওভারেই। পাকিস্তানের নবম উইকেটের পতন হয় ৮২ রানে। শেষ জুটিতে লড়াই করে ৩২ রান যোগ করেন ফাহিম আশরাফ, সেখানে আবরার আহমেদের অবদান ১০ বলে শূন্য। ৩৭ রান করা ফাহিমকে ফিরিয়েই পাকিস্তানের ইনিংস শেষ করেন মোস্তাফিজুর রহমান।

বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন রান এই ১১৪। আগের সর্বনিম্ন ছিল ১৯৯৯ বিশ্বকাপের সেই স্মরণীয় ম্যাচে ১৬১। বাংলাদেশ রান তাড়ায় সাইফ হাসানকে () দ্রুত হারায়। তবে তানজিদ হাসানের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের রান বাড়তে থাকে তরতরিয়ে। তিনে নেমে দারুণ সঙ্গ দেন নাজমুল হোসেন শান্তও। ৩২ বলে ফিফটি করা তানজিদ শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৭টি চার এবং ৫ ছক্কায় ৪২ বলে ৬৭ রান করে। জয়ের কাছে গিয়ে আউট হন শান্ত। তিনি ৩৩ বলে ২৭ রান করেন। লিটন কুমার দাসকে নিয়ে মাঠের কাজ শেষ করে আসেন তানজিদ।

২০৯ বল রেখে জয় পায় বাংলাদেশ। এর চেয়ে বেশি বল বাকি রেখে জয় আছে তাদের স্রেফ দুটি২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২২১ বল রেখে জয়, ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২২৯ বল আগেই জয়। ম্যাচ সেরা বাংলাদেশের নাহিদ রানা। ১০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি খেলবে কাল শুক্রবার।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদস্তগীর হোটেলসহ তিন প্রতিষ্ঠানকে লাখ টাকা জরিমানা
পরবর্তী নিবন্ধঅকটেন-পেট্রোল বিক্রিতে বিপিসির নতুন নির্দেশনা