বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। নারী ক্রিকেটারদের নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দেশের নারী ক্রিকেটের প্রসারে প্রথমবারের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের এই আয়োজন বিসিবির। আগামী ৪ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে বিসিবি। ৩টি দল নিয়ে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের প্লেয়ার্স ড্রাফট অনুষ্ঠিত হবে ১৪ মার্চ। ড্রাফটের আগে স্থানীয় ক্রিকেটারদের পাঁচটি আলাদা ক্যাটাগরিতে ভাগ করার কাজ শুরু করেছেন নির্বাচকেরা। সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে থাকছে ‘আইকন’ ক্যাটাগরি। জাতীয় দলের তিনজন শীর্ষ ক্রিকেটারের মধ্য থেকে প্রতিটি দল একজন করে আইকন খেলোয়াড় দলে ভেড়াবে। এ তালিকায় অধিনায়ক নিগার সুলতানার থাকা নিশ্চিত ধরা হচ্ছে, পাশাপাশি সহ–অধিনায়ক নাহিদা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারির নামও বিবেচনায় রয়েছে। নারী বিপিএলের প্রতিটি দলে অন্তত ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৩–৪ জন বিদেশি খেলোয়াড় খেলার সুযোগ পাবেন। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো চাইলে ড্রাফটের আগেই সরাসরি বিদেশি খেলোয়াড়দের সাথে চুক্তি করতে পারবে। টুর্নামেন্টের গভার্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রুবাবা দৌলা জানান, বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যেও গ্রেড অনুযায়ী পারিশ্রমিক নির্ধারিত হয়েছে– ‘এ’ গ্রেডে ৮ হাজার ডলার, ‘বি’ গ্রেডে ৬ হাজার এবং ‘সি’ গ্রেডে ৩ হাজার ডলার। দেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে ‘আইকন’ ক্যাটাগরিতে থাকা ক্রিকেটাররা পাবেন ১০ লাখ টাকা। এছাড়া ‘এ’ গ্রেডে ৭ লাখ ও ‘বি’ গ্রেডে ৫ লাখ টাকা পারিশ্রমিক ধরা হয়েছে। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকবেন ছয়জন ক্রিকেটার। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি সেখান থেকে দুজন করে খেলোয়াড় নিতে পারবে। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে থাকছেন ১২ জন, এ ছাড়া ‘সি’ ক্যাটাগরিতে প্রায় ২০ জন ক্রিকেটার থাকবেন। যাদের পারিশ্রমিক ৩ লাখ টাকা। ড্রাফটের প্রথম ধাপে অবিক্রীত থাকা ক্রিকেটারদের পরবর্তীতে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে পুনরায় তোলা হবে। কোনো ক্রিকেটার কোন ক্যাটাগরিতে থাকবেন, সেটি চূড়ান্ত হবে কয়েক দিনের মধ্যেই এমনটাই জানিয়েছেন নারী দলের নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ। এবারের আসরের উদ্বোধনী পর্ব অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামে। এখানে শুরুর দিকের ম্যাচগুলো শেষে টুর্নামেন্ট ঢাকায় ফিরবে। রুবাবা দৌলা জানিয়েছেন, ‘উৎসবের আমেজ দিতে আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনাল ও সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।’ শুরুতে ৩ এপ্রিল থেকে টুর্নামেন্ট শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও এক দিন পিছিয়ে ৪ এপ্রিল থেকে মাঠে খেলা গড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। চট্টগ্রামের ভেন্যু প্রসঙ্গে রুবাবা জানান, দীর্ঘদিন সেখানে নিয়মিত ম্যাচ না হওয়ায় নতুন উদ্দীপনা তৈরির লক্ষ্যেই বন্দরনগরীকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তিনটি দল লিগ পর্বে একে অপরের মুখোমুখি হবে। মোট ৬টি ম্যাচ শেষে পয়েন্ট টেবিলের সেরা দুই দল নিয়ে আয়োজিত হবে ফাইনাল। দ্রুত সময়ের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে বিসিবি। বিপিএলের পারিশ্রমিক নিয়ে অতীতে হওয়া সমস্যাগুলো মাথায় রেখে এবার আগে থেকেই পরিকল্পনা সাজিয়েছে বিসিবি। রুবাবা দৌলা আশ্বাস দিয়েছেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সক্ষমতা যাচাই করেই দল হস্তান্তর করা হবে যাতে খেলোয়াড়রা সময়মতো তাদের প্রাপ্য পেয়ে যান। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে নারী ক্রিকেটারদের সামর্থ্য বিশ্বমঞ্চে আরও বেশি দৃশ্যমান হবে বলে আশা করছে বিসিবি।









