কাল ৮ মার্চ। বিশ্বনারী দিবস। দিবসটি প্রতি বছরই এক একটি বার্তা নিয়ে আসে নারীর পথচলা স্বাধীন, অবাধ ও নিরাপদ করার জন্য। আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে প্রায় অর্ধশতক পেরিয়ে গেছে, অথচ নারীরা ধরতে গেলে একই জায়গায় রয়ে গেছে। দেশে এখন একটি নির্বাচিত সরকার এসেছে। এবারের নারী দিবসে নতুন সরকারের কাছে কি প্রত্যাশা করছেন আসন্ন সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রার্থী নারীরা চলুন শুনি।
ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বলেন, নারী দিবসে সর্বস্তরের নারীদের শুভেচ্ছা জানাই। নারী দিবস তখনই পালন সার্থক হবে, যখন নারী তার সঠিক মর্যাদা ও অবস্থান সমুন্নত রাখতে পারবে। বিশেষ করে নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা নতুন সরকার এই বিষয়টিকে বিশেষভাবে নজর দেবেন। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ও সঠিক পদক্ষেপ ও কর্মসূচি হাতে নিয়ে তা বাস্তবায়নে জোরালো ভূমিকা রাখবেন।
জাসাস নেত্রী জেলী চৌধুরী বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন নারী সমাজকে বাদ দিয়ে কোনভাবেই সম্ভব নয়। একটি উন্নত ও সমৃদ্বিশালী রাষ্ট্র গঠন করতে গেলেই নারী শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। নারী দিবসে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে নারীর অগ্রগতি, উন্নয়ন আর কল্যাণে কাজ করবে নতুন সরকার। নারীর সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার কাজ করবেন।
জাতীয় মহিলা সংস্থা চট্টগ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. কামরুন্নাহার দস্তগীর বলেন, নারীর উন্নয়ন ও কল্যাণে প্রথমেই শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করা জরুরি। নারীরা নিজের স্বাস্থ্য এবং পুষ্টি নিয়ে চিন্তা করেন না। সরকার এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেবেন। আর নারীর পথচলা নিরাপদ ও সহিংসতা মুক্ত করতে কঠোর আইনি প্রক্রিয়া এবং এর সঠিক বাস্তবায়ন প্রয়োজন। সমাজে এখন নারী ও কন্যাশিশুরা যেভাবে সহিংসতার শিকার হচ্ছে, সেটি কাম্য না। এই ধরনের সহিংসতায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের প্রক্রিয়ায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মূল কথা নারীদেরকে স্বাবলম্বী করতে হবে আর তাদের ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
রাজনীতির মাঠে ময়দানে দাপিয়ে বেড়ানো নারী ফাতেমা বাদশা বলেন, আমরা নারীরা বরাবরই অবহেলিত। নির্যাতিত এবং নিগৃহীত। নারীদের প্রাপ্য সম্মান আর মর্যাদা এখনো সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নারী যতই কাজ করুক কোন মূল্যায়ন নেই। নারীর সমঅধিকার আর মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করে নারীকে আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত করতে হবে। দেশে এখন নতুন সরকার। আমরা আশা করবো সরকার নারীদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবেন।
সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খান বলেন, আমরা নারীবান্ধব সরকার চাই। নারী ও শিশুর প্রতি যে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত, এইসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির আইনি প্রক্রিয়ায় দ্রুত ও কঠিন শাস্তি চাই। আমরা এখনো ৩৩% এ পৌঁছাতে পারিনি। এখনো পর্যন্ত নারীদের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কোন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে রাখা হয় না। কোন একটি কমিটি করলেও সেখানেও জায়গা দেয়া হয় না। নারীদের সম্মান আর উপযুক্ত মর্যাদার জায়গাটা নিশ্চিত করা খুবই জরুরি।









