নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনে জাতীয় জাগরণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নারী দিবস বিশেষ তাৎপর্যবহ। বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার শতকরা ৪৯ ভাগ নারী। সেদিক থেকে নারীরা দেশের অর্ধেক মানব সম্পদ অর্থাৎ অর্ধেক শ্রম শক্তির প্রতিনিধি। কিন্তু তাসত্বেও প্রচলিত সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুশাসনে নারীরা শিক্ষা,কর্মসংস্থান, উন্নয়ন প্রকৃিয়ায় অংশগ্রহণসহ নানারকম সুযোগ থেকে বঞ্চিত। নারী মৃত্যুর হারও পুরুষদের তুলনায় বেশি। অল্প বয়সে বিয়ে, সন্তান জন্মদান, অপুষ্টিজনিত রোগ, স্তন ক্যান্সার,জরায়ু ক্যান্সারের মত দুরারোগ্য রোগেও নারী মৃত্যুর হার বেশী। আবার আত্মহত্যা, খুন, শারীরিক নির্যাতন ও যৌতুকের কারণে নারী মৃত্যুর হার বেশী। প্রচলিত সমাজ নারীকে বেঁচে থাকার জন্য অনুকূল নিরাপদ পরিবেশ,সম্মান নিয়ে বাঁচার অধিকার দিতে পারেনি। আজ নারীরা রাস্তাঘাটে, বাসে, গাড়িতে, হচ্ছে যৌন হয়রানি, ধর্ষণ আর নির্যাতনের শিকার। তাই নারী দিবস এখনো শুধু সভা সেমিনারেই সীমাবদ্ধ। অথচ জীবিকার তাগিদে নারীরা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি সেক্টর তৈরী পোশাক শিল্পে কাজ করছে বিপুল সংখ্যক নারী শ্রমিক। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আর ঘাম ঝরানো কাজে আসছে বৈদেশিক মুদ্রা। অথচ নারীরা সমাজের প্রতিটি সেক্টরে সমান অবদান রাখার পর ও বৈষম্যের শিকার। জাতীয় সম্পদে নারীর অসম অধিকার, পারিবারিক আইনে নারীর অসম অধিকার, বাবার সম্পত্তিতে নারীর অসম অধিকার নারীকে বঞ্চিত করে রেখেছে। নারীর মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি, অধিকার, মূল্যায়ন এখনো তিমিরেই রয়ে গেছে। কিন্তু কবির ভাষায়, ‘কোনকালে একা হয়নিকো জয়ী পুরুষের তরবারি, প্রেরণা দিয়েছে, শক্তি দিয়েছে বিজয় লক্ষ্মী নারী’। যদি তাই হয় নারী কেন শুধু অত্যাচারিত, লাঞ্ছিত, বঞ্চিত হবে? নারী আজ চায় সম্মান, আত্মমর্যাদা আর মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন। এটাই হোক নারী দিবসের অঙ্গীকার।










