নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে সাত ম্যাচের সাতটিতেই জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ। তাতে করে অপরাজিত থেকেই টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যাওয়া হলো বাংলাদেশের। নেপালের মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে গতকাল রোববার সকালে নেদারল্যান্ডের দেওয়া ১০৩ রানের লক্ষ্য ২০ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় লাল–সবুজের প্রতিনিধিরা। বল হাতে নাহিদা আক্তারের বিষাক্ত ঘূর্ণি আর ব্যাট হাতে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির হার না মানা ফিফটি, এই দুইয়ে ভর করে নেদারল্যান্ডসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। বাছাইপর্বে গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে সুপার সিক্স; টানা সাত ম্যাচের সবকটিতে জিতে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আগামী জুন–জুলাইয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের মূল পর্বে পা রাখবে বাংলাদেশ। এদিন টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই নাহিদা আক্তারের তোপের মুখে পড়ে নেদারল্যান্ডস। মাত্র ২৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ডাচরা যখন চরম বিপর্যয়ে, তখন হাল ধরেন রবিন রাইক ও সানিয়া খুরানা। তাদের ৭৮ রানের জুটির ওপর ভর করে ১০০ পার করে ডাচরা। নাহিদা ৪ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া মারুফা, স্বর্ণা ও রাবেয়া নেন ১টি করে উইকেট।
৩৯ রান করা রাইককে ইনিংসের শেষ ওভারে ফেরান মারুফা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশও। মাত্র ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলকে টেনে তোলেন অধিনায়ক জ্যোতি ও শারমিন সুলতানা সুপ্তা। সুপ্তা ব্যক্তিগত ১৫ রানে ফিরলে সোবহানা মোস্তারিকে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ৫৭ রানের জুটি গড়েন জ্যোতি। টি–টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১১তম ফিফটি তুলে নিয়ে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক। অন্যপ্রান্তে ৩৩ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিশ্চিত করেন সোবহানা। পুরো টুর্নামেন্টেই ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ছিলেন সোবহানা মোস্তারি। ৭ ম্যাচে ১৪৫.৫৫ স্ট্রাইক রেটে ২৬২ রান করে তিনি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
দুটি লক্ষ্য নিয়ে নেপালে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। পূরণ হয়েছে দুটিই। সেই সন্তুষ্টি আছে নিগার সুলতানার। তবে মূল পরীক্ষা হবে বিশ্বমঞ্চে। বাছাইয়ে অপরাজিত থাকার পর এবার ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে ভালো কিছু করতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক। নেপালে শেষ ম্যাচ জয়ের পর উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া জানান অধিনায়ক নিগার। বলেন, নেপালে আসার আগে আমাদের দল হিসেবে লক্ষ্য ছিল প্রথমে কোয়ালিফাই নিশ্চিত করা। তারপর ব্যাক অব দ্য মাইন্ড এটা ছিল, আমরা এই টুর্নামেন্ট জিততে চাই, মানে অপরাজিত থাকতে চাই। আমরা এটা করতে পেরেছি। এখানে সম্পূর্ণ কৃতিত্ব মেয়েদের। মেয়েরা অসম্ভব ভালো খেলেছে টুর্নামেন্ট জুড়ে। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে। যার যেটা ভূমিকা ছিল তা করার চেষ্টা করেছে।’












