নারীর নামে বরাদ্দ স্টল পরিচালনায় পুরুষ, অনিয়মে ক্ষুব্ধ দর্শনার্থীরা

পটিয়ায় নারী উদ্যোক্তা মেলা

পটিয়া প্রতিনিধি | রবিবার , ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ at ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ

পটিয়ায় জাতীয় মহিলা সংস্থা আয়োজিত নারী উদ্যোক্তা মেলায় নারীর নামে স্টল বরাদ্দ দিয়ে বেশকিছু স্টল পুরুষদের কাছে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। টাকার বিনিময়ে স্টল বাণিজ্য ও অনিয়মের এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেলায় আসা নারী উদ্যোক্তা ও দর্শনার্থীরা। অভিযোগের মুখে আয়োজকরা ‘মেলা জমিয়ে তোলার’ যুক্তি দেখালেও স্থানীয়দের দাবি এটি প্রতারণা।

গত শুক্রবার দুপুরে পটিয়ার আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুই দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পরই বেরিয়ে আসে অনিয়মের নানা চিত্র। ব্যানারে নারীর নাম থাকলেও বেশ কয়েকটি স্টল পরিচালনা করছে পুরুষরা। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক দর্শনার্থী। মেলায় পুরুষ পরিচালিত বেশ কিছু ফুচকার দোকানও দেখা যায়। মেলা ঘিরে কিশোর গ্যাং ও বখাটে যুবকদের দৌরাত্ম্য থাকলেও এসব নিয়ন্ত্রণে মেলা কমিটির নেই যথাযথ কোনো পদক্ষেপ। এতে মেলায় আসা অনেক নারী দর্শনার্থী ও নারী উদ্যোক্তারা বিব্রতকর অবস্থার শিকার হন। মেলায় অংশ নেয়া ৩১ নং স্টলে দায়িত্বে থাকা তরুণ উদ্যোক্তা মো. নিমন বলেন, ‘আমি কোনো প্রশিক্ষণ নেইনি। ওয়েল সুইটস নামে স্টল নিতে আমি আম্মুর নাম জমা দিয়েছি। পরবর্তীতে স্যারেরা নিজেরা মোছা. জান্নাত নাম দিয়ে ব্যানার করিয়ে দেন। তারা বলেন, যারা কমিটিতে আছে তাদের ফি দিতে হবে না। যারা বাইরে থেকে অংশগ্রহণ করবে তাদের ২ হাজার টাকা করে দিতে হবে।’

২৭ নং স্টলে দোহাজারী থেকে আসা দীপক নামে এক বিক্রেতা বলেন, ‘খোকন কাকা স্টল নিয়েছেন।’ ব্যানারে থাকা উদ্যোক্তার নাম ইয়াছমিন আক্তার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি।

মেলায় আসা আফরোজা বেগম নামে এক নারী দর্শনার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নারী উদ্যোক্তা মেলার নামে আসলে এখানে পুরুষদের ব্যবসা চলছে। নারী উদ্যোক্তাদের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে টাকার বিনিময়ে স্টল পুরুষদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এটা প্রতারণা।’

পিস অব হেভেন নামে দেওয়া স্টলের স্বত্ত্বাধিকারী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এখানে বলা হয়েছে নারী উদ্যোক্তা মেলা। কিন্তু নারীর নামে ব্যবসা করছে পুরুষরা। এটি শুধুই বাণিজ্যিক কারচুপি।’

পুরুষ উদ্যোক্তাদের স্টল বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় মহিলা সংস্থার প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা রোকন মিয়া বলেন, ‘এই মেলার বাজেট ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। মোট ৩২ টি স্টল রয়েছে। নারী মেলায় নারী পুরুষ আসবে। কোনো পুরুষ নারীর নামে স্টল নিয়ে চিট করলে আমাদের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। আমরা বিষয়টা দেখবো।’ তবে টাকার বিনিময়ে পুরুষদের স্টল দেয়ার বিষয়টা সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।

মেলার উদ্বোধন করেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মহিলা সংস্থার চট্টগ্রাম জেলা কমিটির চেয়ারম্যান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফরিন ফারজানা পিংকি। স্থানীয়দের দাবি, নারী উদ্যোক্তা মেলার উদ্দেশ্য ছিল নারীর অগ্রগতি। কিন্তু সেই মেলায় পুরুষদের আধিপত্য, টাকার বিনিময়ে স্টল বরাদ্দ ও আয়োজকদের বিতর্কিত ব্যাখ্যা পুরো আয়োজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সরকারি উদ্যোগের নামে এই অনিয়মের ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়া জরুরি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসকল আশ্রয় প্রার্থীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া স্থগিত রাখল যুক্তরাষ্ট্র
পরবর্তী নিবন্ধমামলায় আটকে আছে ঠিকাদার নিয়োগ