নারীদের জন্য শ্রমকল্যাণ কেন্দ্র

কালুরঘাটে চালু হবে আগামী মার্চে ৯১০ জনের আবাসন, থাকছে স্বাস্থ্যসেবাও

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ২৩ অক্টোবর, ২০২১ at ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ

কালুরঘাট শিল্প এলাকায় নির্মিত হতে যাচ্ছে সমন্বিত একটি শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র। যাতে প্রায় হাজারো নারী শ্রমিকের আবাসনের ব্যবস্থা থাকছে। সরকারি অর্থায়নে সেনা কল্যাণ সংস্থার তত্ত্বাবধায়নে প্রায় ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে শ্রম অধিদপ্তর।
জানা যায়, ১১৫ কোটি ৭ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাটে নারী শ্রমিকদের জন্য দুটি শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু করোনা প্রাদুর্ভাবে বিলম্বিত হয় পুরো প্রকল্পের নির্মাণ কাজ। সর্বশেষ এক বছর সময় বাড়ানো হয়। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নারী শ্রমিকদের আবাসন সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের কালুরঘাট শিল্প এলাকায় ‘চট্টগ্রাম কালুরঘাটে মহিলা শ্রমজীবি হোস্টেল এবং ৫ শয্যার হাসপাতাল সুবিধাসহ শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৬ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। কর্মজীবী মহিলা শ্রমিকদের জন্য স্বল্প ব্যয়ে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা করা, সুষ্ঠু ও সামাজিক মানসম্মত আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, সামাজিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বসবাসরত মহিলা শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা এবং শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের আধুনিক ও উন্নত শ্রম কল্যাণ সুবিধাদি নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে, বিদ্যামন শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র হতে দেওয়া সেবাগুলো বাদেও শ্রমিক প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা, চিত্ত বিনোদন সেবা ও পরিবার কল্যাণ সেবাদির মান আধুনিকায়ন করা হবে।
প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর মো. এমদাদ জানান, নতুন নির্মাণাধীন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রটিতে ৯১০ জন শ্রমজীবী ব্যাচেলর মহিলা স্বল্প ব্যয়ে বসবাস করার সুযোগ পাবেন। ভবনটিতে ৪ বেড, ২ বেড ও সিঙ্গেল বেডের আলাদা আলাদা কক্ষ রয়েছে। রয়েছে ৫ বেডের একটি হাসপাতালও। এখানে দুইজন চিকিৎসক, নার্স কম্পাউন্ডার রয়েছে। এর মাধ্যমে শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রে বসবাসকারী মহিলাদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।
শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও পরিসংখ্যান) ও প্রকল্প পরিচালক আবু আশরীফ মাহমুদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, শ্রমজীবী মহিলাদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত আবাসন নিশ্চিতের লক্ষ্যে শ্রম অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। শুধু আবাসন সুবিধা নয়, যেসব নারী শ্রমিক থাকবেন, তাদের অধিকার নিশ্চিতে ও সচেতনতা বাড়াতে নানান প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রটিতে। বৈশ্মিক মহামারী করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে আগামী বছরের মার্চ এপ্রিলের দিকে শ্রমজীবী মহিলাদের সেবা দেওয়ার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশিশুদের জন্য ফাইজারের টিকার কার্যকারিতা ৯০.৭%
পরবর্তী নিবন্ধএকাধিক প্রকল্পের জটিলতা নিরসনে মেয়র ঢাকায়