আজ বিশ্ব নারী দিবস। পার্বত্য চট্টগ্রামে নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন পাহাড়ি নারীরা। চাকরি না করে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন অনেক নারী। তবে পাহাড়ে নারী উদ্যোক্তা হওয়ার পথে বড় বাধা পুঁজির স্বল্পতা। ব্যাংক লোনের জটিলতা, সরকারি প্রণোদনা না পাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে পড়ছেন নারী উদ্যোক্তারা।
২০২৩ সালে প্রশিক্ষণ শেষে কলার চিপস বানানোর কাজ শুরু করেন নারী উদ্যোক্তা লাকি চাকমা। কাঁচা কলা থেকে চিপস বানিয়ে তিনি মাসে আয় করছেন ৩০ হাজার টাকা। লাকির তৈরি করা কলার চিপসের চাহিদাও বেশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার সুবাধে কলার চিপস খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে।
তবে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে নানা বাধার কথা উল্লেখ করে লাকি চাকমা দৈনিক আজাদীকে বলেন, উদ্যোক্তা হওয়ার পথে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। আমি যদি বড় পরিসরে কলার চিপস উৎপাদন করতে যাই তাহলে আমার অনেক টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। কিন্তু ব্যাংক লোনের ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা পোহাতে হয়। এছাড়া আমরা সরকারিভাবে কোনো প্রণোদনা পাই না। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পাহাড়ের নারী আরো এগিয়ে যেতে পারবে।
৮ বছর আগে নিজের জমানো ১৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে খাবার ব্যবসা শুরু করা খাগড়াছড়ির নেইম্রা মারমার স্বপ্নচূড়া রেস্টুরেন্টে বর্তমানে কাজ করে ১২ জন নারী। খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজ সড়কে ছোট দোকান থেকে এখন বড় রেস্টুরেন্টের মালিক হয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে নেইম্রা মারমা বলেন, মাত্র ১৫ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছি। ছোট্ট একটি দোকান নিয়ে শুরু করেছি। এখন আমার রেস্টুরেন্টের আয়তন বেড়েছে। ১১ জন কর্মচারী কাজ করে। মাসে তিন থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার মতো লাভ হয়। ব্যাংক থেকে লোন নিতে গেলে জমির কাগজ চায়, কিন্তু অনেকে সেটা দিতে পারে না। ফলে তারা লোনও পায় না। সরকার যদি নারীদের সহজ শর্তে ব্যাংক লোনের ব্যবস্থা করে সেক্ষেত্রে অনেক নারী স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবে।
তবে নারী উদ্যোক্তাদের ৭ শতাংশ ঋণ সুবিধায় মর্টগেজ বা বন্ধক ছাড় তিন লক্ষ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয় বলে জানিয়েছেন সোনালী ব্যাংক খাগড়াছড়ি শাখার এজিএম সমীর কান্তি চাকমা। তিনি বলেন, আমাদের থেকে ঋণ নিয়ে অনেক নারী উদ্যোক্ততা স্বাবলম্বী হয়েছেন। কোনো ভোগান্তি ছাড়াই তারা ঋণ সুবিধা পাবেন।
নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন বিষয়ে ট্রেনিংসহ সার্বিক সহযোগিতা করছে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ–পরিচালক সুস্মিতা খীসা বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেয়া হচ্ছে।










