নদীর ডানা

শাম্মী তুলতুল | বুধবার , ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ

নদী তার নিত্যদিনের কাজ শেষে বিছানায় শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখছে আর ভাবছে ইসসস আমার যদি দুটো ডানা থাকত, ঐযে পাখীর মতো উড়তে পারতাম। কেউ আমাকে স্কুলে যেতে বলত না, বাড়ির কাজ করতে দেরি হলে বকত না। মনের মত ইচ্ছামত যা খুশী তাই করতাম আহা। এভাবে ভাবতে ভাবতে নদী ঘুমিয়ে পড়ে।

হঠাৎ কে যেন তাকে ডাকছে নদী ও নদী শুনছ কি?

কে তুমি?

আমি তোমার বন্ধু ডানা

ডানা সে আবার কেমন নাম।

হুমম আমার নাম ডানা।আমার কাছে অনেক ডানা আছে তাই আমার নাম ডানা। আমার খুব ডানা দরকার তুমি কি আমায় দেবে?

দেব, এস আজ আমাদের সঙ্গে ডানায় ভর করে উড়বে।

সত্যি বলছো?

হে পাঁচ সত্যি।ডানা নদীকে ডানা পরিয়ে দিল। ডানাগুলো হরেক রকম। সুন্দর। সব ডানা রঙিন কাগজ দিয়ে মোড়ানো । আছে জড়ি ছিটানো।এত সুন্দর ডানা নদী আগে কোনদিন দেখেনি। সে দেখে বিস্মিত।

ডানা বলছে চল এবার উড়া যাক ।

কিন্তু আমার যে ভয় করছে আমি কি উড়তে পারব?

আরে বোকা ডানা হলেই উড়তে পারে এই যে দেখ আমি উড়ছি।

এইবার নদীর সাহস হল নদী শো করে ঘর থেকে আকাশে উড়াল দিল। নদীত অবাক সে আকাশে আর সবাই তার নিচে। আরে আরে সে তার বান্ধবী মনা কে দেখতে পাচ্ছে। নদী হাঁক দেয় মনা এই মনা দেখ আমি আকাশে।

মনা তাকে দেখে হাত নেড়ে টাটা দেয়। দেখতে পায় তার দাদীকে।

দেখতে দেখতে ঢুকে গেলো এক ফুলের রাজ্যে। এমা কি সুন্দর বাগান লাল, নীল সবুজ, হলুদ সব ফুলের বাহার।

ডানা বলে, কেমন লাগছে তোমার?

অনেক ভালো লাগছে। এত আনন্দ আমি কোথায় রাখব ভেবে পাইনা। এতো বড় বাগান কে দেখে গো।

লোক আছে তারাই বাগানের দেখাশোনা করে । একটু পর কিছু মেয়ে এসে হাজির তাদের হাতে থালা। সেই থালায় হরেক রকম ফল সাজানো।আছে কমলা, পেয়ারা, আম, জাম, আপেল, কলা আর কত কি?

নদী বলে, এসব কার জন্য ?

ডানা বলে, এসব তোমার জন্য। তুমি আমাদের অতিথি তাই। নদী অমনিতেই সব নিয়ে খেতে লাগল। একটু পর নদীকে সুন্দর একটি পরীর জামা পরিয়ে দেওয়া হল। নদী আনন্দে দিশেহারা। ইসসস কি আনন্দ আজ আকাশেবাতাসে। নদীর হাতে একটি ছড়ি দেওয়া হলো।

ডানা বলে, তুমি যা চাইবে এই ছড়িকেই বললেই হবে।

তাই বুঝি? আচ্ছা আমি প্লেনে চড়তে চাই এই মুহূর্তে। বলতে না বলতেই একটি প্লেন এসে হাজির। আমি মামনির সাথে ঘুরতে চাই। হুট করে মামনি এসে হাজির। মামনি নদী, নদী ডাকতে শুরু করল। নদীর ঘুম ভেঙে গেলো। নদী চোখ কচলে দেখে চারপাশে কিছু নেই ওমা এ বুঝি স্বপ্ন ছিল।

মা বলে, কি হয়েছে এভাবে ঘামছ কেন?

মা আমি প্লেনে ছড়ছিলাম তোমার সাথে।

তাই বুঝি?

হুমম ।

এই জন্য কি করতে হবে জানো ?

কি মামনি?

তোমাকে পাইলট হতে হবে ।

ওহ।

হুমম যে এরোপ্লেন চালায় তাকে পাইলট বলে সে আকাশে ইচ্ছামত উড়তে পারে।কিন্তু তার জন্য বেশ পড়াশোনা করতে হবে। তোমাকেও তাই করতে হবে।

তাইলে মামনি কথা দিচ্ছি আজ থেকে আমি মন দিয়ে পড়ব। বড় হয়ে পাইলট হব। মা বলে,দোয়া করি তাই যেন হও।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনগরীর পাঁচ স্পটে ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার স্থাপন করবে চসিক
পরবর্তী নিবন্ধশীতের হাসি