রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক মো. শহীদুল্লাহর (২৪) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার শিলক ইউনিয়নের ফকিরাঘাট এলাকায় নিখোঁজ যুবকের লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করেন। শহীদুল্লাহ কোদালা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড সিকদার বাড়ি গ্রামের মো. ফজল করিমের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রী। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কোদালা ইউনিয়নের ধোপাঘাট এলাকায় আট বন্ধুসহ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। গত শুক্রবার শহীদুল্লাহর বাবা ফজল করিম দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। নিহত শহীদুল্লাহ ছিল পরিবারে চার সন্তানের মধ্যে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তার বাবা মা।
গতকাল কথা হয় শহীদুল্লাহর সাথে মাছ ধরতে যাওয়া বন্ধু মো. গিয়াস ও মো. মানিকের সাথে। তারা জানায়, তারা শখের বশে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন সেদিন। কর্ণফুলী নদীর কোদালা ধোপাঘাট ব্রীকফিল এলাকায় কেউ ডিঙি নৌকায় এবং কেউ কেউ পানিতে নেমে মাছ ধরছিল। এ সময় অজ্ঞাতনামা সংঘবদ্ধ দল তাদের উদ্দেশ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। তখন তারা সবাই নদীতে সাতার কেটে অপর পাড়ে পালিয়ে গেলেও পালাতে পারেননি শহিদুল্লাহ।
স্থানীয় ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. লিয়াকত আলী বলেন, যেই স্থানে মাছ ধরতে গিয়েছিল, সেখানে আগে থেকেই পেশাদার মাছ ধরা ব্যক্তিরা মাছ ধরতেন। তারা সেখানে মাছ ধরার বিশেষ ফাঁদ পেতে রেখেছিল। সেই ফাঁদের মধ্য থেকেই মাছ ধরতে যাওয়ায় সম্ভবত এই হামলা চালিয়েছে তারা। শুক্রবার সারাদিন ইঞ্জিন নৌকায় করে ফায়ার সার্ভিস ও স্বজনরা নিখোঁজ ব্যক্তির খোঁজ করেছিলেন। শনিবার লাশটি উদ্ধার হয়।
নিহতের পিতা মো. ফজল করিম জানান, তার সন্তানের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এমনকি লজ্জাস্থানেও আঘাতের চিহ্ন ছিল। কোদালা ১নং ওয়ার্ড ডংগের মুখ এলাকার আলমশাহর ছেলে মনির নামে এক ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে মাছ ধরার সময় এই হামলা চালিয়েছে বলে তার অভিযোগ। তার নেতৃত্বেই সংঘবদ্ধ হয়ে বেধড়ক মারধর করে হত্যা করে তার সন্তানকে পানিতে ফেলে দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
লাশ উদ্ধার করতে যাওয়া স্থানীয় মো. সোলেমান জানান, উদ্ধারের সময় শহীদুল্লাহ্র শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন তিনি।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি ওবাইদুল ইসলাম বলেন, কর্নফুলী নদীতে ভাসমান অবস্থায় নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় দাগ রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে লাশটি পাঠানো হবে।
এদিকে একইদিন বিকাল ৫টায় কোদালা পুরাতন মাদ্রাসা মাঠে নামাজের জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তার স্বজনরা। অন্যদিকে এটিকে হত্যাকান্ড উল্লেখ করে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এলাকাবাসী।












