নতুন সূর্যোদয়

মিতা দাশ | মঙ্গলবার , ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ

কাক ডাকা ভোরে বের হয়ে যখন ঠিক করা গাড়ি আসে না, ফোনের পর ফোন দিয়েও গাড়ির ড্রাইভার কল রিসিভ করে না, তখন মনের ভেতর বেশ ভয় কাজ করতে শুরু করে। মাথায় চিন্তা ঘুরপাক খায় এত অন্ধকারে আরেকটা গাড়ি পাওয়া যাবে কি? ঠিকসময়ে পৌঁছাতে পারব কি? দায়িত্ব পালনে দেরি হয়ে যাবে নাতো? অপেক্ষা চলে গাড়ি ধরার, এদিক ওদিক ছোটাছুটি। ঘড়ির কাটার সাথে সাথে মনের ভেতরও টিকটক করতে থাকে বুকের ধুকপুকানি। শেষ পর্যন্ত অনেক বেশি দাম দিয়ে একটা রিকশা হাতে পাওয়া। তবু শান্তি লাগলো যে, অন্তত যাওয়াটা নিশ্চিত হলো। আজান শেষ আলোর আভাস দেখা দিচ্ছে। হ্যাঁ, মনের ভেতরের চাপ একটু কমেছে, পুরোপুরি এখনো কমেনি গন্তব্যে পৌঁছালে তবে কমবে হয়তো । সেই সাথে মনে সার্বক্ষণিক চিন্তা পরিস্থিতি কেমন হবে?

আলো ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে, কলরব, দায়িত্বের চাপ, লোকজনের সমাগম, সব মিলিয়ে শীতের সকালের সৌন্দর্য আর উপভোগ করা হয়নি। দেখার সুযোগ হয়নি শীতের শেষ বেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। গরম গরম এক কাপ চাও জুটেনি কপালে। কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন এখন সবার আগে। চলতে থাকে কাজের পর কাজ, একের পর এক মানুষের সান্নিধ্য। চোখ, কান, মনোযোগ সব দিয়ে চলছে সরকারি দায়িত্ব পালন, দেশের জন্য আত্মত্যাগ। তার উপর জবাব দিহিতার চাপও তো আছে মনে, কাজের। এক কাপ চায়ের জন্য মাথা কামড়াচ্ছে খুব, কিন্তু ভাবার সময় নেই। ঘড়ির কাটা চলতে চলতে দুপুরে পৌঁছে গেছে। সামান্য শুকনো নাস্তা কাজের ফাঁকে পেটে দিতেই হবে। নয়তো পেট আর সহ্য করতে পারবে না ক্ষিদে। তাই একটু নীরবতার ফাঁকে নাস্তা খেয়ে আবার শুরু হলো কাজ বিকেল হতে হতে একটু চাপ কমতে থাকে।

এত কিছুর মাঝে মনে হলো, লোকের উপস্থিতি হলে ভালো লাগছে বেশি। কম হলে ভালো লাগছে না। মুখরিত পরিবেশ যেন কাজের আনন্দ বাড়িয়ে দিচ্ছিলো। শেষ ঘণ্টা বাজার পর একটা দায়িত্ব শেষ হলেও আরো একটা দায়িত্ব রয়ে গেলো। সেই কাজ শেষ করতে করতে আবার অন্ধকার গভীর হলো। রাত আটটায় পথে বের হয়ে আরেক চিন্তা গাড়ি কোথায় পাই? খোঁজাখুঁজির পর গাড়ি পেলে অনেকটা ভালো লাগে। পথে কয়েকটা আনন্দ মিছিল, শ্লোগান মনকে ভরিয়ে দেয়, মনে মনে ভাবতে থাকি সারাদিনের এত কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা, শরীরের অবসতা, একটানা বসে কাজ করার ক্লান্তি সব যেন চলে গেলো মানুষের উল্লাস দেখে, তাদের মতামত প্রকাশ করার এত সুন্দর আয়োজন ছিলো দেখে। বিগত তিনদিন রাতে দুশ্চিন্তায় কেটেছিলো পরিস্থিতি কেমন হবে? পরিবারের সবাই চিন্তায় ছিলো। আর হাতের ফোন ছিলো আলমিরাতে বন্ধ। তবু সব আজ সুন্দর ছিলো চারিদিকে, এতেই মনটা ভরে গেলো সকাল থেকে। পথে আসার সময় এই অন্ধকারেও মনে হলো একটা নতুন সূর্যোদয়ের অপেক্ষায় ছিল দেশের সকলে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইতিহাস ও ঐতিহ্যে বাংলাদেশ
পরবর্তী নিবন্ধবসন্তের রঙে নিজেকে সাজাতে মেতে উঠেছে প্রকৃতি