নতুন সরকারের শপথ কাল

সকালে এমপিদের, বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ । বিএনপির ইচ্ছাতেই সংসদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠান : আসিফ নজরুল । সার্কভক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আমন্তিত

আজাদী ডেস্ক | সোমবার , ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:২১ পূর্বাহ্ণ

প্রচলিত রীতি ভেঙে বঙ্গভবনের বাইরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেলে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে। এর আগে একই দিন সকালে একই স্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর গত শনিবার থেকেই এ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়।

গতকাল অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সংসদ সদস্যদের (এমপি) এবং বিকেল ৪টায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথপাঠ হবে। তিনি জানান, পরিস্থিতি অনুযায়ী, খুব সম্ভবত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন এমপিদের শপথ পড়াবেন। বিএনপি থেকে জানানো হয়েছে যে শপথের পরপরই তারা সেখানেই তাদের সংসদীয় দলের প্রধান নির্বাচন করবেন। সময় হতে পারে সাড়ে ১১টা বা ১২টার দিকে। বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথপাঠ অনুষ্ঠান হবে। এখন পর্যন্ত জানা গেছে, রাষ্ট্রপতিই শপথ পড়াবেন।

রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি সাধারণত বঙ্গভবনে নতুন সরকারকে শপথ পাঠ করান। বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম সিরাজ মিয়া শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পাঠ করাবেন, এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন।

তবে রীতি ভেঙে নতুন সরকারের শপথ বঙ্গভবনের বাইরে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজনের যে প্রস্তুতি চলছে, তা নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপির ইচ্ছাতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, দক্ষিণ প্লাজায় শপথের বিষয়ে বিএনপিই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিল। আমার ধারণা, এই সংসদটা একটু ভিন্ন। ছাত্রজনতার আত্মত্যাগ এবং এই গণঅভ্যুত্থান অনেক ত্যাগ, কষ্ট ও বেদনার বিনিময়ে এই সংসদ পেয়েছি। এসব কারণে সংসদটি অন্য সব সংসদের চেয়ে ভিন্ন। এই সংসদ প্রাঙ্গণে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। এখানে জুলাই সনদ ঘিরে যে অনুষ্ঠান, সেটাও এখানে আয়োজন করা হয়েছে। সুতরাং সংসদের দক্ষিণ প্লাজাটি বিভিন্ন কারণে আমাদের কাছে স্মরণীয়।

শপথ অনুষ্ঠানে কারা আমন্ত্রিত থাকবেনএ প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী যাদের আমন্ত্রণ জানানোর কথা, তাদেরই আমন্ত্রণ জানানো হবে। বিষয়টি কেবিনেট ডিভিশন দেখছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন কিনাএ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ সম্পর্কে তার জানা নেই। তবে বৈঠকে শুনেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কোনো প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।

সংবিধান অনুসারে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়। গত শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির গেজেট প্রকাশ করেছে। এই নির্বাচনে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৪৮ সালে প্রথম রাষ্ট্রভাষা দিবসে আহত হন অনেক ভাষাকর্মী
পরবর্তী নিবন্ধকোনো আসনে ৫৬ কোথাও ৯৬ ভোট, বাম জোটের কোনো প্রার্থীরই টেকেনি জামানত