নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে আজ নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ করবে বিএনপি। বিকেলে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আজ সকাল ১০টায় শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সকাল ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ গ্রহণ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। এ বিষয়ে গতকাল বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে দেওয়া ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ–সদস্যদের এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ পাঠ ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ গ্রহণ কক্ষে পরিচালনা করবেন।
পরে বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরো জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর শনিবার থেকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়।
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের পরিবর্তে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন।
নিয়ম অনুসারে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ গ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপির সংসদীয় বোর্ডের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তাদের সংসদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করবেন এবং তাকে জানাবেন যে সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করবেন। রাষ্ট্রপতি সংসদ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তীতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করবেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পাঠ করাবেন, এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন। সংবিধান অনুসারে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়।
জানা যায়, সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আজ মঙ্গলবার ঢাকায় আসবেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু। এতে দক্ষিণ এশীয় দুই দেশের ঘনিষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল্লাহ খালিল। গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ একজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অবিস্মরণীয় জয়ের জন্য দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান মুইজ্জু। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট তার অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন।
এদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত রোববার এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মঙ্গলবার বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ গ্রহণকারী নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশ এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। পুলিশ অধিদপ্তর সূত্র বলছে, নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং অনুষ্ঠানস্থলকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে।
শপথ অনুষ্ঠানে হেফাজতের আমিরকে আমন্ত্রণ : নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গতকাল সোমবার বিএনপি মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এছাড়াও সন্ধ্যায় বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, সোমবার দুপুরে টেলিফোনে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান এবং মঙ্গলবার (আজ) অনুষ্ঠিতব্য নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে আমন্ত্রণ জানান। খবর বাসসের।
জানা গেছে, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে সর্বস্তরের অংশগ্রহণমূলক ও তাৎপর্যপূর্ণ করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে হেফাজতে ইসলামের আমিরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।












