নতুন লোগো নিয়ে নতুন লক্ষ্যে বিজিএমইএ

| বুধবার , ৬ জুলাই, ২০২২ at ৭:২৩ পূর্বাহ্ণ

নয়টি বিন্দুতে নয়টি লক্ষ্যকে সামনে রেখে নতুন করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজিয়েছে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংগঠনটির নতুন একটি লোগো উন্মোচন করা হয়। তিন রঙের নয়টি বিন্দুকে প্রাধান্য দিয়ে সাজানো হয়েছে এই লোগো।

বিজিএমইএর সহসভাপতি মিরান আলী বলেন, উন্নয়নের সাথে সাথে পরিবর্তন আসবেই। তার জন্য প্রয়োজন নিজেদের ভেতর ও বাইরের জগতের সঙ্গতি। আমাদের মূল আদর্শ প্রকাশের জন্য পরিচয় রূপান্তরের সময় এসে গেছে। বিজিএমইএ নাইন ডট লোগো দিয়ে অসংখ্য ভূমিকাকে স্বাগত জানায় এবং নতুন লিগেসির গল্প বলে, যা শুধু লোগো নয়, আমাদের নতুন পরিচয়। খবর বিডিনিউজের।

নতুন লোগোর এসব ডট দিয়ে জনগণ, অন্তর্ভুক্তি, স্বচ্ছতা, অবকাঠামো, উদ্ভাবন, আবর্তন, গ্লোবাল নেটওয়ার্ক, ব্র্যান্ড বাংলাদেশ ও পরিবেশকে বোঝাচ্ছে বিজিএমইএ। বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান অনুষ্ঠানে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানিতে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়ে চলেছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। আর ডেনিমে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে সব দেশকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ প্রথম। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাকের শেয়ার ছিল ৬.২৬ শতাংশ, অর্থাৎ আমাদের সামনে সুযোগ অপরিসীম। যদিওবা ২০২১ সালের পরিসংখ্যানটি এখনও প্রকাশ হয়নি, আশা করছি ২০২১ সালে আমাদের বৈশ্বিক শেয়ার ৭ শতাংশ অতিক্রম করবে। ২০২৫ সালের মধ্যে আমরা আমাদের শেয়ার ১০ শতাংশে নিয়ে যেতে পারব।

গত ৪০ বছরে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ব্যাপক অগ্রযাত্রার বর্ণনা দিয়ে ফারুক হাসান বলেন, আমরা আমাদের এই শিল্পটিকে একটি টেকসই পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। বিশেষ করে, বিগত দশকে নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি, সবুজ শিল্পায়ন, শ্রমিকের কল্যাণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিপুল অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বের সর্বাধিক পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানার আবাসস্থল এখন বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশে ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের সনদপ্রাপ্ত ১৬৩টি লিড (এলইইডি) সার্টিফায়েড গ্রিন কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে প্লাটিনাম ৪৯টি এবং ১০০টি গোল্ড। বিশ্বের সেরা ১০০টি লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার মধ্যে ৪১টি বাংলাদেশে। আরও ৫০০টির মতো কারখানা লিড সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

গত এক দশকে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, যেখানে ২০০৮০৯ অর্থবছরে অপ্রচলিত বাজারগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৪৮ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার, ২০২১২২ অর্থবছরে তা ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। এশিয়ার দেশ জাপান, যা কিনা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক আমদানিকারক দেশ, সেখানে আমাদের পোশাক রপ্তানি গত অর্থবছর এক বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। পোল্যান্ডে আমাদের রপ্তানি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার স্পর্শ করছে। আমরা যদি সামগ্রিকভাবে অপ্রচলিত বাজারগুলোর ব্যাপারে আরও মনোযোগী হই, তাহলে আমাদের সামনে বিপুল সম্ভাবনার জায়গা রয়েছে। এত সাফল্যের মধ্যেও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিসহ আরও কিছু চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন ফারুক হাসান।

জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অনুষ্ঠানে বলেন, বিশ্বায়নের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে বিজিএমইএকে খাপ খাইয়ে চলতে হবে। সে লক্ষ্যেই নতুন লোগোতে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিজিএমইএ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহোটেল ম্যানেজারকে জিম্মি করে চাঁদা আদায়
পরবর্তী নিবন্ধক্যাবল ‘অত্যন্ত নিম্নমানের’ বৈদ্যুতিক পোলেও সমস্যা