রাজনৈতিক সরকারের সময় নতুন ব্যাংক অনুমোদনের চাপ আসতে পারে এবং তা মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘না’ বলার সাহস থাকতে হবে বলে মনে করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, শুধু ‘না’ বললেই হবে না। এর পক্ষে যথেষ্ট নথি, তথ্য, যুক্তি ও আর্থিক কারণও তুলে ধরতে হবে। তারপরও অনুমোদন দিলে সেটা সরকারের বিষয়। গতকাল শনিবার ঢাকায় এক সম্মেলনে কথা বলছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এ অর্থ উপদেষ্টা। ‘রিস্ক কনফারেন্স অন ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স ২০২৬’ শিরোনামে রাজধানীর একটি হোটেলে এ সম্মেলন আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা–ডিনেট। খবর বিডিনিউজের।
সালেহউদ্দিন বলেন, দেশে অর্থনৈতিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অনেক নীতি রয়েছে। কিন্তু এগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন নেই, এটা হওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এ গভর্নর বলেন, করপোরেট ও রাজনৈতিক চাপ সব সময় থাকবে। সেই চাপ সামলাতে হবে ‘না’ বলে। এর পক্ষে গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরতে হবে। ক্ষতির বিষয়টি জানাতে হবে।
সম্মেলনে প্যানেল আলোচনায় অ্যাসোশিয়েশন অব ব্যাংকারস বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, আমরা বোকার স্বর্গে ছিলাম যে, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ২০ শতাংশের মতো ছিল; আসলে তা ৩০ শতাংশের উপরে। এটাই আসল কথা। সিটি ব্যাংকের এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আমাদের সংস্কৃতির মধ্যে সবচেয়ে বড় হচ্ছে তোষামোদি। ব্যাংকার বোর্ডকে তোষামোদ করতে ব্যাস্ত। এই সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে।
বেসরকারি এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ হচ্ছে পরিচালকদের পরিচিত ও গ্রুপের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান থেকে। তারা পরিচালকের স্বার্থ দেখতেই ব্যস্ত। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কখনোই কমবে না, যতদিন না প্রতিটি খেলাপির ধরন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নয়ত শুধু সময়ের জন্য পিছিয়ে ফেলা যাবে। ফের ঋণটি খেলাপি হয়ে যাবে। খেলাপি না কমার আরেকটি কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘স্টোলেন এসেট’ খেলাপির মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং খেলাপি কমবে না। স্টোলেন এসেট আলাদা না করলে খেলাপির পরিমাণ কমবে না।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজওয়ান দাউদ শামস বলেন, ঋণটা কার কাছে গেছে, তা জানতে হবে। চটপটি ওয়ালার কাছে যদি বড় ঋণটা চলে যায়, তাহলে সেই ঋণ কীভাবে ফিরবে। আসলে তিনি তো ঋণটা নেননি, তার নামে কেউ ঋণ নিয়েছে।
যাচাই করা ঋণও খেলাপি হচ্ছে মন্তব্য করে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সুশাসনই সবশেষ ভরসা। ঋণ প্রস্তাব থেকে বোর্ড অনুমোদন পর্যন্ত সুশাসন থাকা লাগবে। সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা থাকলে খেলাপি কমবে। তখন ভালো ঋণ অনুমোদন বেশি হবে।
প্যানেল আলোচনায় সঞ্চালক ছিলেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। ‘রিঙ বেজড সুপারভিশন’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিনেটের চেয়ারম্যান শাহ মো. আহসান হাবিব।













