২০২৫ সালে বিদায় নিয়ে আমাদের মাঝে এলো নতুন বছর ২০২৬। কেমনভাবে গেল ২০২৫ সাল। এই বছরটিও বিশ্ব আঙিকে বাংলাদেশের জন্যও ছিল নানা প্রেক্ষাপটে ঘটনাবহুল। মূল্যায়নের পালায় ২০২৫ ইতিহাসের পাতাজুড়ে আনন্দ বেদনা, পাওয়া না পাওয়া সুখ শান্তি জনগনের নানা কষ্ট ও ভোগান্তির জটিল সমীকরণের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপি অর্থনৈতিক মন্দা, জলবায়ু ইস্যু, যুদ্ধবিগ্রহ, গণহত্যা নানা উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে যেমন বিশ্ব রাজনৈতিক অশান্ত ছিল, তেমনি বাংলাদেশও নানা ঘটনাবহুল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে ২০২৫ সালকে বিদায় দিয়েছে। সুখ সমৃদ্ধি ও পাওয়ার ঝুলি খুব একটা ভরপুর ছিল না। রাষ্ট্রীয় সংস্কার, রাজনৈতিক টানাপোড়ন ও বিভাজন, ভারতের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে টানাপোড়ন, রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম, সংঘাত বিদ্রোহ, নির্মম হত্যাযজ্ঞ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ভূমিকম্প ও সড়ক দুর্ঘটনায় অকাল মৃত্যু, রুজিরোজগারের জন্য শিক্ষক ও পেশাজীবীদের রাজপথে আন্দোলন, চাঁদাবাজি, দখল, ব্যাংককিং সংকট ও অব্যবস্থাপনা, নতুন রাজনৈতিক দলের উত্থান ও ভাঙন আদর্শিক বিভাজনে নাটকীয় ধূম্রজাল তৈরি লক্ষ্যণীয় ছিল। তবে এটাও সত্য যে, সামগ্রিক অর্থে একটা স্থিতিশীলতায় কোথাও কোথাও নতুন নতুন প্রশংশিত কাজ দেখা গেছে এবং তা মানুষ উপকৃত হওয়ায় প্রশংসাও কুড়িয়েছে সরকার। ঘরে বাহিরে বহুকেন্দ্রিক চাপের মুখে সরকার সাহসিকতার সাথে দণ্ডায়মান থেকে যে শান্তমেজাজে তা মোকাবিলা করতে পেরেছে তা সত্যি সাধুবাদযোগ্য।
২০২৫ সালের শেষদিকে এসে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত, হৃদয়বিদারক ও দুঃখজনক ঘটনা সমগ্র দেশের মানুষকে বেদনা ও শোকে নিমজ্জিত করে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক সংকটাপন্ন অবস্থা, ইনকিলাব মঞ্চের শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা, তার চিকিৎসা ও পরবর্তীতে মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড বিচারের দাবীতে রাজপথে লক্ষ মানুষ নেমে আসা, জমায়েত মিছিল স্লোগান এবং ঐদিন রাতে একটি দুষ্কৃতকারী মহল প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকায় আগুন দেয়া এইসব ঘটনায় এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। অন্যদিকে বছরের শেষমাসের শেষদিকে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এক অভূতপূর্ব ঘটনা ও দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। দেশের মানুষ বিশেষ করে বিএনপি‘র সর্বস্তরের নেতা কর্মী সমর্থকদের মাঝে ছিল সীমাহীন উল্লাস উদ্দীপনা। তার সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় তারেক রহমান মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছিলেন – ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি’। যা পরবর্তীতে দেশের মানুষের কাছে টগ অব দ্য কান্ট্রি হয়ে যায়।
২০২৬ সালের বাংলাদেশের জনগণ নতুন নির্বাচনে ভোট দেবেন। সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও দেবেন। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক, নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রের দায়িত্বভার গ্রহণ করুক, কৃষক শ্রমিক সাধারণ খেটে–খাওয়া মানুষের মুখে হাসি ফিরে আসুক। সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধিতে দেশ এগিয়ে ২০২৬ সাল হোক ঐতিহাসিক বছর। এটাই দেশপ্রেমিক সকল মানুষের কাম্য।
লেখক : প্রাবন্ধিক, সাবেক জনসংযোগ কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।












