নতুন বছরে দেশের জন্য নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচিত হোক

স্বাগত ২০২৬

| বৃহস্পতিবার , ১ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ

দেখতে দেখতে আরো একটা বছর বিদায় নিলো আমাদের জীবন থেকে। কালের গর্ভে হারিয়ে গেল সেই বছরটি ২০২৫। শুরু হলো নতুন বছর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ। ২০২৫ সালের উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল প্রচুর। নতুন বছরে বাংলাদেশের জন্য নতুন নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচিত হবে, এই বিশ্বাস নিয়ে আমরা ২০২৬ সালকে স্বাগত জানাই।

পুরাতন বিদায় নেবে। নতুনের আগমন ঘটবে। এটাই নিয়ম। একটি বছর শেষ, মানে নতুন বছরের পদধ্বনি শোনা। মেলাতে হচ্ছে অনেক হিসাব। পাওয়া না পাওয়ার হিসাব। তবে নতুন বছরে ভালো থাকার প্রত্যাশা থাকে। সব কিছুতে ইতিবাচকতাহোক নতুন বছরের অঙ্গীকার।

অনেক প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণকে পিছনে ফেলে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এক নতুন প্রত্যাশার আলোকবর্তিকাকে সামনে নিয়ে। বিগত বছরের হতাশা ব্যর্থতা ও গ্লানিকে পায়ে ঠেলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর মাধ্যমে আমরা পৌঁছে গেলাম নতুন স্বপ্নযজ্ঞে।

বিদায়ী বছরের বার্তা অনুযায়ী সদ্য শুরু হওয়া বছরটিতে তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপত্তা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া নিরাপদ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার প্রায় অসম্ভব। আমাদের সাইবার অঙ্গনকে সুরক্ষিত রাখতে হলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করে কাজ করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে ততটা সুফল পাওয়া যাবে না। আমরা আশা করি, সকলে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করবে এবং নিরাপদ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতন হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সাল ছিল ঐতিহাসিক মোড়, আকস্মিক ত্বরণ এবং গভীর পরিবর্তনের এক বছর। রাজনীতি, অর্থ, প্রযুক্তি এবং খেলাধুলা এমন প্রতীকী ব্যক্তিত্ব তৈরি করেছে যারা সময়ের চেতনাকে ভালো বা খারাপ উভয়ভাবেই উপস্থাপন করতে সক্ষম।

বিশ্লেষকদের মতে, গত বছর আমাদের রাজনৈতিক অর্জন অসামান্য ছিল এবং এগুলো সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক ও সামগ্রিক উন্নয়নকে ছাড়িয়ে গেছে। সে কারণেই, ২০২৬ সালে অর্থনীতির পুনর্জাগরণের দিকে আমাদের বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। বিদায়ী বছরে আমদানি কমলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি আসেনি। যার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়েনি এবং তা সার্বক্ষণিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা ও ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, বেসরকারি বিনিয়োগের চিত্র খুবই হতাশাজনক থেকেছে এবং বেশ কয়েক বছরের মধ্যে খেলাপি ঋণ পরিস্থিতিও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এসব চ্যালেঞ্জের মাঝে অন্তর্বর্তী সরকারকে কাজ করতে হয়েছে। বলা যায়, জরুরি ও টেকসই উদ্যোগ না নেওয়া হলে দেশের অর্থনীতিকে টেকসই উন্নয়নের পথে ফিরিয়ে আনা বেশ ঝামেলাপ্রদ হবে। ২০২৬ এর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন। একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়া রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। এ প্রসঙ্গে বলা যায়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন ও প্রধান উপদেষ্টার নিজেই নেতৃত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত একটি আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ। সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের মধ্যে ঐকমত্য থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং যত দ্রুত সম্ভব একটি সুসংহত জাতীয় পর্যায়ের আলোচনার আয়োজন করাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। সম্ভবত এসব লক্ষ্য পূরণে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য ২০২৬ সাল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের বছর।

আমাদের প্রত্যাশা, ২০২৬ সাল মনুষ্যত্বের জন্য শুভ সংবাদ নিয়ে আসবে। বিগত বছরের ক্ষতগুলোকে সারিয়ে নিয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বরণ করতে চাই নতুনকে। অপেক্ষা, আশা আর প্রত্যাশার শেষ নেই আমাদের। গত বছরও ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণের অনেক প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশা ছিটেফোঁটা পূরণের শেষ প্রান্তে এসে বিদায় নিয়েছে। নতুনের কাছে আবারও প্রত্যাশা, সব ঝড়জলোচ্ছ্বাস বিদায় নেবে; সুসংবাদ আসবে ঘরে ঘরে, আসবে রাজনীতিতে, আসবে আমাদের গণতন্ত্রসহ সবক্ষেত্রে।

আসুন আমরা সবাই দেশকে নিজের মায়ের মতো ভালোবাসতে শিখি। তবেই দেশে উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকবে। মাতৃভূমিকে বন্ধু ভেবে সবাইকে দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করা উচিত। নতুন বছরে তারুণ্য জেগে উঠুক নবউদ্যমে। আমাদের সকলের কামনা হোক সবার মঙ্গল। আমরা দেখতে চাই ভালো কাজে নিয়োজিত তারুণ্য। বাস্তবতা যত বৈরী হোক তরুণ প্রজন্মকে ধৈর্য ধরে তা মোকাবিলা করতে হবে। নতুন বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে আরো উন্নয়ন দেখতে চাই। শিক্ষার অভাব পূরণ হলে অন্যান্য প্রয়োজনীয়তা স্বাভাবিকভাবেই আর অবশিষ্ট সামাজিক, অর্থনৈতিক নানা সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে গেলেও রাজনৈতিক অনৈক্য, সংঘাত, সহিংসতা, সন্দেহ, অবিশ্বাস এক প্রধান সমস্যা হিসেবেই এখানে রয়ে গেছে। যে কোনো মূল্যে আমরা সুন্দর একটা আগামী চাই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে