নতুন বছরের ডাক

নাজমুল হাসান চৌধুরী হেলাল | রবিবার , ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ

সময় এক নীরব যাত্রী নিঃশব্দ পায়ে হেঁটে চলে অনন্তের পথে। তারই এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়ায় ইংরেজি নববর্ষ। পুরোনো বছরের শেষ প্রহরে যখন ঘড়ির কাঁটা থমকে যায় এক মুহূর্তের জন্য, তখন মানুষের হৃদয়ে জন্ম নেয় নতুন আলোর ডাক। স্মৃতি, অভিজ্ঞতা আর নাবলা কথাগুলো পেছনে ফেলে জীবন নতুন করে শ্বাস নিতে শেখে।

একটি বছর বিদায় নেয় তার সমস্ত হাসিকান্না, সাফল্যব্যর্থতা বুকে নিয়ে। কিছু স্মৃতি হয় রৌদ্রোজ্জ্বল, কিছু হয় বিষণ্ন ছায়ার মতো। তবু নববর্ষের ভোরে সূর্য ওঠে নতুন রঙে, নতুন প্রত্যাশায়। মনে হয়এই বুঝি আবার শুরু; এই বুঝি সব ঠিক হয়ে যাবে। খ্রিষ্টীয় নববর্ষ যেন সময়ের দরজায় ঝুলে থাকা এক শুভ ঘণ্টাধ্বনি। তার শব্দে জেগে ওঠে ক্লান্ত মন, ভেঙে পড়া স্বপ্ন আবার ডানা মেলে। মানুষ নিজের ভুলগুলোর দিকে তাকায় নিঃশব্দ স্বীকারোক্তির মতো, আর ভবিষ্যতের দিকে তাকায় এক নির্ভীক আশার দৃষ্টিতে।

এই দিনে আকাশে ফুটে ওঠা আতশবাজির মতোই মানুষের হৃদয়ও আলোয় ভরে ওঠে। অচেনা মানুষের মাঝেও জন্ম নেয় আপনত্বের অনুভব। শুভেচ্ছার বাক্যে, হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক গভীর মানবিক বন্ধন। নববর্ষ তখন আর একক কোনো উৎসব থাকে না তা হয়ে ওঠে সমষ্টির অনুভব।

নববর্ষ আমাদের শেখায় থেমে না থাকতে। সময় যেমন থামে না, জীবনও তেমনি চলমান। অতীতের ভুলগুলো শিক্ষা হয়ে থাকুক, আর ভবিষ্যৎ হোক আশার ক্যানভাস। প্রতিটি নতুন দিন হোক নতুন কবিতা, নতুন গল্পের শুরু। শেষ পর্যন্ত বলা যায়, খ্রিষ্টীয় নববর্ষ কোনো ক্যালেন্ডারের তারিখ নয় এ এক অনুভূতির নাম। এটি আশার দীপশিখা, নতুন পথচলার প্রেরণা। এই নববর্ষে মানুষের জীবনে নেমে আসুক আলো, ভালোবাসা আর শান্তির কোমল ছায়া। শুভ নববর্ষ ২০২৬।

পূর্ববর্তী নিবন্ধতুমি নীল যমুনার জল
পরবর্তী নিবন্ধঅতিথি পাখি: শিকার নয়, সংরক্ষণেই আসুক মুক্তি