নতুন দফার হামলায় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার ইরানের

ইরানের ৪২ জাহাজ ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের ।। বিশেষায়িত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলে হামলা হিজবুল্লাহর ।। হরমুজ প্রণালির কাছে মাল্টার পতাকাবাহী তেলের ট্যাংকারে হামলা

আজাদী ডেস্ক | রবিবার , ৮ মার্চ, ২০২৬ at ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ

ইরান নতুন দফার হামলায় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটির দাবি, সাম্প্রতিক অভিযানের ২৫তম ধাপে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। আইআরজিসির সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সামরিক সহায়তা কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই অভিযানে হাইপারসনিক ‘ফাতাহ’ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ‘এমাদ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। খবর বিডিনিউজ, বাংলানিউজ ও বিবিসি বাংলার।

হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত শব্দের গতির চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিতে চলতে সক্ষম। ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজার ১৭৪ কিলোমিটার বা ৩ হাজার ৮৩৬ মাইল বেগে এটি ছুটতে পারে। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। গতকাল শনিবার ওই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসি আরব আমিরাতের আলধাফরা বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলায় একটি মার্কিন স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র, সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং ফায়ার কন্ট্রোল রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাৎক্ষণিকভাবে এ দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র তিন দিনে ইরানের নৌবাহিনীর ৪২টি জাহাজ ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া ইরানের বিমান বাহিনী এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাকেও ধ্বংস করার দাবি করেছেন তিনি। শুক্রবার ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকা ইরানে খুব ভালো করছেএটা অসাধারণ হয়েছে।

চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যেই যেসব মার্কিন কর্মী নিহত হয়েছেন, এই বক্তব্যের পর তাদের পরিবারকে শুভেচ্ছা জানানোর কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তারা সকলেই আমাদের দেশের মহান বীর, যারা ইরান থেকে তাদের ধারণার চেয়ে ভিন্নভাবে দেশে ফিরছেন। তিনি আরও বলেন যে, মার্কিন সৈন্যদের মৃত্যু সর্বনিম্ন রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।

বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা : বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ‘প্রিসিশন মিসাইল’ দিয়ে হামলা চালানোর দাবি জানিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনীআইআরজিসি। তারা বলেছে, হরমুজ প্রণালির একটি দ্বীপে পানি শোধনাগারে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা এই আক্রমণ চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমফারসনাতে দেওয়া এক প্রতিবেদনে আইআরজিসি বলেছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে।

এদিকে বাহরাইনে সাইরেন বাজিয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাজধানী মানামার একটি বাড়ি এবং এর আশপাশের ভবনগুলোতে আগুন লাগার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার তথ্যও দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ইরানের ১৬ বিমান ধ্বংসের দাবি ইসরায়েলের : ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করছে, তেহরানে রাতভর চালানো হামলায় তারা আইআরজিসির কুদস ফোর্সের ১৬টি বিমান ধ্বংস করেছে। এক বিবৃতিতে তেহরানজুড়ে বিস্তৃত হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। মেহরাবাদ বিমানবন্দরেও হামলার দাবি করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের দাবি, ওই বিমানবন্দরটিকে লেবাননের হিজবুল্লাহসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে ‘অস্ত্র ও অর্থ পাঠানোর কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহার করত কুদস ফোর্স। আল জাজিরা লিখেছে, ইসরায়েলি বাহিনীর এসব দাবি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে যাচাই করা যায়নি। ইরান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি হিজবুল্লাহর : ইসরায়েলের দুটি লক্ষ্যবস্তুতে শনিবার হামলার চালানোর দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি বলেছে, তারা ইসরায়েলি শহর একরের পূর্বে শনিবার সকালে তজরিফিন ঘাঁটিতে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। হিজবুল্লাহ আরো বলছে, তাদের যোদ্ধারা দুপুরে লেবাননের সীমান্তবর্তী শহর কাফারকেলার ফাতিমা গেইট ক্রসিংয়ের কাছে যানবাহন লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে। লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা আক্রমণের দাবি করেছে হিজবুল্লাহ।

মাল্টার পতাকাবাহী তেলের ট্যাংকারে ইরানের হামলা : উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রিমা নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ এবং পরিস্থিতি অনিরাপদ হওয়া সত্ত্বেও নৌবাহিনীর বারবার দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় ট্যাংকারটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে আইন লঙ্ঘনকারী ট্যাংকারটির ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। মেরিন ট্রাফিক ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রিমা একটি তেল ও রাসায়নিক পদার্থ বহনকারী ট্যাংকার; যা মাল্টার পতাকাবাহী হিসেবে নিবন্ধিত।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিয়াম সাধনায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রোগ-ব্যাধির প্রতিকার ঘটে
পরবর্তী নিবন্ধক্রুড অয়েল বোঝাই দুটি জাহাজ দেশে আনার চেষ্টা