নগরে ৫০টি রাস্তার সঙ্গে হবে ওভারপাসও

এক বছর পূর্তিতে মেয়র জানালেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা । চালু করা হবে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সিস্টেম মভবিষ্যতে ডোর টু ডোর ময়লা সংগ্রহের জন্য নাগরিকদের কাছ থেকে টাকা না নিয়ে উল্টো কেনা হবে বর্জ্য । হকার পুনর্বাসনে শহরের স্থায়ী বাসিন্দাদের প্রাধান্য দেয়ার পরিকল্পনা । নগরবাসীকে তার প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ৭ নভেম্বর, ২০২৫ at ৫:০৮ পূর্বাহ্ণ

হকার পুনর্বাসনে চট্টগ্রাম শহরের স্থায়ী বাসিন্দাদের প্রাধান্য দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এক্ষেত্রে হকারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) চেক করে নিশ্চিত হবেন তারা এই শহরের বাসিন্দা কীনা। দায়িত্বগ্রহণের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিজের এ পরিকল্পনা তুলে ধরেন মেয়র। এসময় তিনি দায়িত্ব পালনকালে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিজের সাফল্য রয়েছে দাবি করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নের ফিরিস্তিও তুলে ধরেন। একইসঙ্গে চটগ্রাম শহরকে ক্লিন, গ্রীন, হেলদি ও সেইফ সিটিতে রূপান্তরে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি নগরবাসীকে তার প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমি আপনাদেরই মানুষ। আমি আপনাদের কাছ থেকে উঠে এসেছি। আমি জানি আপনাদের কি সমস্যা। আমার প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে।

গতকাল দুপুরে কাজীর দেউড়ির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (আইসিসি) এক বছর পূর্তির এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এতে সাংবাদিক ও নাগরিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মেয়র। এসময় ডা. শাহাদাত নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে জানান, শহরে প্রায় ৫০টি বড় বড় রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। নির্মাণ করা হবে ৩৮টি ফুটওভার ব্রিজ। যানজট কমাতে ওভারপাস নির্মাণে নেয়া হবে প্রকল্প। নাগরিকদের কাছ থেকে সরাসরি অভিযোগ ও পরামর্শ পেতে লঞ্চ হবে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপস। নগরের ৫টি জোনে স্থাপন করা হবে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার। নাগরিকদের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য চালু করবেন প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সিস্টেম। বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করে ভবিষ্যতে ডোর টু ডোর ময়লা সংগ্রহের জন্য নাগরিকদের কাছ থেকে কোনো টাকা না নিয়ে উল্টো বর্জ্য কেনা হবে। এসময় গৃহস্থালির বর্জ্য সংগ্রহে বাড়তি ফি নিলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার না করে সরাসরি অভিযোগ করার অনুরোধ করেন মেয়র।

চসিক সচিব মো. আশরাফুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নূরী, চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি মনোয়ারা বেগম, সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তারা মেয়রের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে এআই হেলথ কেয়ার সিস্টেমের উদ্বোধন করেন মেয়র যেটি ব্যবহার করে নাগরিকদের স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন ডাটা সংরক্ষণ ও আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করে রোগ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। অনুষ্ঠানে মেয়রের এক বছরের কার্যক্রমের ওপর তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও উন্নয়ন প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

৫০ টি রাস্তার সঙ্গে হবে ওভারপাসও : অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘বর্ষা শেষ হয়েছে, এবার নগরের ভাঙা সড়ক সংস্কারে কাজ শুরু করা হবে কীনা? উত্তরে ডা. শাহাদাত বলেন, এবারের বর্ষাকাল কিন্তু অনেক বিলম্বে গেছে। বর্ষাকাল ছিল প্রায় পাঁচ মাসের অধিক। এটা আগে কখনো চোখে পড়েনি। এটা ভৌগলিক কারণে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হচ্ছে। এই জায়গায় আমি বলতে চাই, ইতোমধ্যে ১৪টা রাস্তার টেন্ডার হয়ে গেছে। আরো ৩৪ টা রাস্তার টেন্ডার হবে। কাজেই ৫০টা বড় বড় রাস্তা ইনশাআল্লাহ আমি আপনাদেরকে উপহার দিব। এতে ৪০০৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। তখন চট্টগ্রাম শহরের চেহারা অনেক পরিবর্তন হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, আমাদের ৩৮টি ফুটওভার করা লাগবে। এগুলোও করে দিব। ওভারপাসএর জন্যও একটি ডিপিপি (প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাবনা) করব। পাহাড়তলিতে যেখানে রেল সংযোগ আছে, সেখানে যানজটের কারণে অনেক্ষণ বসে থাকতে হয়। ওভারপাস হলে খুব সহজেই গাড়িগুলো পার হবে, যানজটমুক্ত হবে।

হকারদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখা হবে : হকার উচ্ছেদ করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শাহাদাত বলেন, আমি বলব না, সফল হয়েছি। ফুটপাত জনগণকে যেভাবে ব্যবহার করার কথা সেভাবে আমরা করতে পারিনি। এটা নিয়ে এ বছর কিছু কাজ করেছি। স্টেশন রোডে দুইদিন আগেও অভিযান করে বলে দিয়েছি, সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত যেন কেউ না বসে। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট প্রচুর কাজ করছেন। পুলিশ ও প্রশাসন যদি আমাদের সাথে কাজ করে তাহলে একটা পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারব। আমরা হকারদের যে জায়গায় পুর্নবাসন করতে পারব সে জায়গায় করছি। আগ্রাবাদে বসতে দিচ্ছি না। সেখানে নাইট মার্কেট করে দিচ্ছি।

তিনি বলেন, আরেকটা বিষয়ে আমরা যাচ্ছি, ফুটপাতে যারা আছে তারা এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) ধারী কীনা, তারা শহরের নাগরিক কীনা সেটা আমাকে দেখতে হবে। কারণ প্রথমে আমার নাগরিকদের প্রায়োরিটি দিতে হবে, তারা কিন্তু অধিকার রাখে। আর যারা বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে, রাজশাহী, খুলনা তারপর অন্যান্য জায়গা থেকে এসেছে, এখানে চট্টগ্রাম শহরে মোটামুটিভাবে আমাদের শহরটাকে অপরিষ্কার করছে তাদের ব্যাপারে কিন্তু আস্তে আস্তে আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিব।

বর্জ্য ও ডোর টু ডোর প্রকল্প নিয়ে যা বললেন : ডা. শাহাদাত বলেন, নগরে প্রতিদিন ৩০০০ থেকে ৩১০০ মেট্রিক টন ময়লা উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে ২২০০ মেট্রিক টন আমরা কালেকশন করছি, বাকি ৮০০ থেকে ৯০০ মেট্রিক টন আমরা কালেকশন করতে পারছি না। কি কারণে পারছি না এটা হয়তোবা আপনাদের মনের মধ্যে প্রশ্ন আসে। এই ৯০০ মেট্রিক টন ময়লা দেখবেন কেউ বাসা থেকে জানালা দিয়ে ফেলে দিচ্ছেন। চলতি পথে গাড়ি থেকে বাইরে ফেলে দেন। এ ময়লাগুলো কোথায় যাচ্ছে? সরাসরি নালাতে যাচ্ছে। নালা থেকে খালে, খাল থেকে পরে কর্ণফুলী নদী, হালদা নদী দূষিত হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দৈনিক সৃষ্ট সব আবর্জনা সংগ্রহ করতে পারলে আর জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকবে না। বর্জ্য যাতে বাইরে পড়ে না থাকে সে জন্য বাসাবাড়ি ও দোকানপাট থেকে সরাসরি বর্জ্য সংগ্রহে ডোর টু ডোর কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এ জন্য বাসাবাড়ি থেকে ফি নিতে পারবে সর্বোচ্চ ৭০ টাকা। কিন্তু নিয়োগ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর কেউ কেউ হয়তো বেশি নিচ্ছে। এ বিষয়ে ফেসবুকে দিলে হয়তো ভিউ পাওয়া যাবে, তবে কাজের কাজ হবে না। সিটি কর্পোরেশনকে সরাসরি অভিযোগ দিলে যারা বেশি নিচ্ছে তাদের বাদ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমি সুখবর দিতে চাই, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম চট্টগ্রামে আমরা আবর্জনা থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনে কোরিয়ান একটা কোম্পানির সাথে ফিজিবিলিটি স্টাডি শুরু করে দিয়েছি হালিশহরে। হয়তোবা দুই মাস তিন মাস পর বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহ কার্যক্রম বিনামূল্যে করে দেব। একটা পয়সাও আপনাদের আর দিতে হবে না। এটা আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি। একদেড় বছর পরে গিয়ে আমরা যখন ইনকাম করব উল্টা ময়লা নেওয়ার জন্য আপনাদেরকে আমরা টাকা দিব।

শাহাদাত বলেন, একটু ধৈর্য ধরতে হবে। শহরটাকে ক্লিন রাখার জন্য এবং আমার প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে। আমি আপনাদেরই মানুষ। আমি আপনাদের কাছ থেকে উঠে এসেছি। আমি জানি আপনাদের কি সমস্যা। কিন্তু এই শহরটাকে ক্লিন রাখতে হলে ময়লা কমপ্লিটলি আমাদেরকে কালেকশন করতে হবে। না হয় এই ময়লা আলমেটলি নালায় ভরে গিয়ে জলাবদ্ধতা হচ্ছে। খালগুলো ভরে গিয়ে কর্ণফুলী ও হালদা নদী দূষণ হচ্ছে।

ডা. শাহাদাত বলেন, বর্জ্য সংগ্রহ না করতে পারলে আমাদের হাজার হাজার কোটি টাকা, এই দেশের যে সম্পদ সেটা নষ্ট হয়ে যাবে। শুধুমাত্র এইজন্য ডোর টু ডোর প্রকল্প আমরা সফল করতে চাই। শতভাগ ময়লা আমরা যাতে নিতে পারি। আপনারা শুনে খুশি হবেন, যেখানে ২২০০ মেট্রিক টন ময়লা আমরা কালেকশন করতাম এই ডোর টু ডোর প্রজেক্টের কারণে এই মাসে আগের তুলনায় ৫০০ মেট্রিক টন বেশি বর্জ্য কালেকশন করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করতে না পারলে জলাবদ্ধতা সমস্যার কোনো দিন সমাধান হবে না। আমাদের বর্জ্য থেকে গ্রিন এনার্জি উৎপাদন করব।

এসময় নাগরিক সেবাকে সহজ করতে প্রযুক্তির সাহায্য নেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে শাহাদাত বলেন, ১০টি সেবা নিয়ে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ নামের একটি অ্যাপস লঞ্চ করব আগামী ডিসেম্বরে। অ্যাপটিতে ময়লা পরিষ্কার, নালা পরিষ্কার, রাস্তা সংস্কার, আলোকায়ন, মশা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ ছবি তুলে এই অ্যাপে আপনারা জমা দিতে পারবেন।

জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য : ডা. শাহাদাত বলেন, সবাইকে নিয়েই আমরা সমন্বিত প্রচেষ্টার মধ্যে চট্টগ্রামবাসীর গত ৩০ বছরের যে জলাবদ্ধতার সমস্যা সেটা আমি অর্ধেকে নামিয়ে এনেছি। এখন নগরের মানুষকে পানির মধ্যে বাস করতে হচ্ছে না। আগের মেয়রের ঘরেও পানি ঢুকে যেত, বাসা থেকে বের হতে পারতেন না। বহদ্দারহাট, মুরাদপুরে পানি জমে থাকত। এ নিয়ে মানুষ নানা কৌতুক করতেন। এবার টানা ৫ মাস ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। তবু জলাবদ্ধতার সমস্যা হচ্ছে না।

মেয়র বলেন, ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে চট্টগ্রামে আমরা জোন করেছি। লিভার ক্যান্সারের জন্য সচেতনতা তৈরিতে আমরা কাজ করেছি। টাইফয়েডের ভ্যাকসিন দিচ্ছি শিশুদের। আমাদের যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমাদের যে অবকাঠামোর অভাব ছিল সেগুলো আমরা করে দিচ্ছি। আমাদের প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টারগুলোতে আধুনিক মেডিকেল ইকুইপমেন্ট সরবরাহ করা হচ্ছে। মেমন২ হসপিটালে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করে স্বল্প মূল্যে, একদম কম মূল্যে সেবা দেয়া হবে। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম স্কুল হেলথ কার্ড কার্যক্রম চালু করেছি আমরা।

তিনি বলেন, জনপ্রিয় একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পলাশের সংগঠনের সাথে যৌথভাবে চসিক নগরীতে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার চালু করবে এবং নাগরিক সচেতনতা নিয়ে কাজ করবে।

তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এ বিষয়ে যদি সমাধান না করতে পারি তাহলে যে যুব সমাজ কিশোর সমাজকে নিয়ে আমরা একটা নতুন চট্টগ্রাম, নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি সেটা আসলে মুখ থুবড়ে পড়বে। উনাদের একটা টিম কাজ করবে যেটা প্রত্যেকটা স্কুলে যাবে, প্রত্যেকটা ইন্সটিটিউশনে যাবে, প্রত্যেকটা কলেজে যাবে, এমনকি যারা স্কুলে যায় না তাদের কাছেও যাবে। তাদের সাথে তারা কথা বলবে। তাদের মেন্টাল হেলথ কীভাবে ডেভেলপ করা যায়, তারা যাতে সংঘর্ষের পথ থেকে, মাদকের পথ থেকে একটি সুস্থ ধারায় ফিরে আসতে পারে এ বিষয়ে তারা কাউন্সেলিং করবে।

তিনি বলেন, অতীতে যেসব নাগরিকের রাজস্ব অধিক হারে নির্ধারণ করা হয়েছিল সেগুলো আমি রিভিউ বোর্ড করে যাচাই করে সঠিক পরিমাণে করে দিচ্ছি। তবে, কমার্শিয়াল হোল্ডিং ট্যাঙ যাতে কেউ ফাঁকি দিতে না পারে সে ব্যাপারে আমি কঠোর অবস্থান নিয়েছি। এজন্য একটি ডিজিটাল প্লাটফর্মও চালু করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অধিকার আমি নিশ্চিত করব।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নগর জামায়তের সাবেক আমীর শাহজাহান চৌধুরী, নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, নগরর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, নগর জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলাম, নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, সিডিএ’র বোর্ড মেম্বার জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম জেলা এ্যাবের সভাপতি প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী মোহাম্মদ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শামসুল হক হায়দারী ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান।

মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, সারাদেশের মানুষ নিশ্বাস নিতে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বেড়াতে আসেন। তাই পুরো চট্টগ্রামকে নিশ্বাসের জায়গায় পরিণত করতে হবে। চট্টগ্রাম শহরে ভালো কোনো পার্ক নেই। ঢাকার রমনা পার্কের মতো পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও অ্যাকুয়ারিয়াম দেখতে চাই।

হাসিব আজিজ বলেন, আমাদের জেলা পুলিশ লাইনে কোমর পানি হয়ে যেত, প্যারেড করা যেত না। জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হয়েছে। জলাবদ্ধতার মূল কারণ ছিল পানি নিষ্কাশনের পথে লোকজন দোকান গড়ে তুলেছিল। এখন যেভাবে কাজ হচ্ছে সেভাবে সামনের দিনে সবাই মিলে বাসযোগ্য শহর হিসেবে চট্টগ্রামকে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে পারব।

প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, মেয়র ডা. শাহাদাত বিনয়ী ও সৎ মানুষ। আপসহীন রাজনীতিক। জলাবদ্ধতা নিরসনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে চসিক ও সিডিএ একত্রে কাজ করছে। মেয়রের নেতৃত্বে নতুন চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে পারব আমরা।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী প্লাস্টিক ও পচনশীল বর্জ্য ফেলার জন্য নগরে লাল ও সবুজ রঙের বিন দেওয়ার জন্য মেয়রের প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি নগরবাসীকে প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যবহারে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, ডা. শাহাদাত নিজের আরাম ও সুখশান্তিকে বিসর্জন দিয়ে নগরবাসীর সুখশান্তির জন্য কাজ করছেন। নগরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর নজরুল ইসলাম বলেন, কোনো পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকার কারণে, প্রশাসন নির্ভর হওয়ার কারণে সব জায়গায় আমরা শৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে দেখেছি। জনগণের দুর্ভোগ শুনার ও দুর্ভোগ সমাধানের মানুষ নেই। মৌলিকভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া কোনো সমাধান সম্ভব নয়, সেটাই এ কয়েক মাসে প্রমাণিত হয়েছে। তার ব্যতিক্রম হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এখানে একজন জননেতা থাকার কারণে, মানুষ সুখদুঃখের কথা শেয়ার করে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধওয়েডিং অ্যান্ড লাইফস্টাইল এক্সপোর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন
পরবর্তী নিবন্ধগুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, বিচার শেষ করতে হবে ১২০ দিনে