নগরে ১৫ হাজার বেওয়ারিশ কুকুরকে ভ্যাকসিন দিচ্ছে চসিক

জলাতঙ্কমুক্ত করতে উদ্যোগ, কার্যক্রম উদ্বোধনে মেয়র

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ

নগরকে জলাতঙ্কমুক্ত করতে ৪১ ওয়ার্ডে ১৫ হাজার বেওয়ারিশ কুকুরকে ভ্যাকসিন দিচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। গতকাল সোমবার দুপুরে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

এ সময় মেয়র বলেন, কোনো একটি এলাকায় যদি অন্তত ৭০ শতাংশ কুকুর ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আসে, তবে সেখানে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি হয়। এর ফলে জলাতঙ্ক ভাইরাসের বিস্তার কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। তিনি ভ্যাক্সিনেশনের জন্য নির্ধারিত ছয় দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান।

ডা. শাহাদাত বলেন, আমরা চট্টগ্রাম শহরকে একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি অ্যান্ড সেফ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যবান নগর গড়তে জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নগরীতে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি, কুকুরের কামড় এবং জলাতঙ্ক রোগ নিয়ে জনসাধারণের উদ্বেগ রয়েছে। এসব সমস্যা মানবিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সমাধান করতেই আমরা কুকুর নিধনের পথ পরিহার করে ভ্যাকসিনেশনের উদ্যোগ নিয়েছি। যেহেতু পরিবেশগত ও আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে কুকুর নিধন সম্ভব নয়, তাই ভ্যাকসিনেশনের মাধ্যমেই টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা হচ্ছে।

মেয়র বলেন, জলাতঙ্ক একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। মূলত জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। তবে সব কুকুরের কামড়েই জলাতঙ্ক হয় না। ভাইরাস বহনকারী কুকুরের ক্ষেত্রেই ঝুঁকি থাকে। তিনি জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুরের সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ, লক্ষ্যহীন দৌড়াদৌড়ি, সবকিছু কামড়ানোর প্রবণতা এবং চলাফেরায় অসুবিধার কথা উল্লেখ করেন। এ ধরনের লক্ষণ দেখা গেলে সাধারণ মানুষকে ওই কুকুরের কাছ থেকে দূরে থাকার এবং তাৎক্ষণিকভাবে সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান।

কুকুরের সঙ্গে মানুষের আচরণ সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেন মেয়র। তিনি বলেন, কুকুরও প্রাণী। তাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে হবে। খাওয়ার সময়, ঘুমের সময় কিংবা বাচ্চাদের দুধ পান করানোর সময় কুকুরকে বিরক্ত করা যাবে না। কুকুর দেখলে দৌড়ানো, পাথর নিক্ষেপ করা বা চোখে চোখ রেখে তাকানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি। কোনো কুকুর তেড়ে এলে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে অন্যদিকে তাকানোর কথাও উল্লেখ করেন মেয়র।

তিনি বলেন, জলাতঙ্ক শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। নিয়মিত ভ্যাকসিনেশনের মাধ্যমে পোষা কুকুর ও বিড়ালকেও নিরাপদ রাখতে হবে। এ বিষয়ে নগরবাসীর সচেতন সহযোগিতা ছাড়া আমাদের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমাম হোসেন রানা, উপসচিব রাশেদা আক্তার, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জোবাইদা আক্তার, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী চৌধুরী, সিনিয়র অ্যাডভোকেট তারিক আহমেদ, কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ, মাহমুদুল ইসলাম মারূফ, জায়েদ বিন রশিদ, জসীম উদ্দীন হিমেল, আশরাফি বিনতে মোতালেব, মোরশেদুর রহমান, ইসকান্দর আলম, অ্যাডভোকেট কানিজ কাউসার, ইকবাল হোসেন ও মুর্শিদ আলম।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাঙামাটিতে বেড়েছে শীত
পরবর্তী নিবন্ধটাইগারপাস থেকে বন্দুক ও গুলিসহ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার