নগরে অবৈধ বিলবোর্ড, ব্যানার-ফেস্টুন উচ্ছেদে অভিযান শুরু

নিজের ছবি সম্বলিত ব্যানার নিজ হাতে সরালেন মেয়র

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ

নগরে অবৈধ বিলবোর্ড, ব্যানারফেস্টুন উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। গতকাল বুধবার দুপুরে নগরের চকবাজার অলিখাঁ মসজিদ মোড় থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। প্রথমদিনের অভিযানে নেতৃত্ব দেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। অভিযানে নিজের ছবি সম্বলিত বেশ কয়েকটি ব্যানার উচ্ছেদ করেন তিনি। এছাড়া ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা হকার ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন তিনি। এক সপ্তাহের মধ্যে শহরকে অনেকটা ক্লিন করার ঘোষণা দিয়ে মাসব্যাপী অভিযান চলবে বলেও জানান মেয়র।

এদিকে বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযান বলা হলেও প্রথমদিন বড় কোনো বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়নি। তবে বিলবোর্ডের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মেয়র। বলেন, কোনো বিলবোর্ড হবে না। শুধু এলইডি, যারা ডিজিটাল ডিসপ্লে করে তারা হয়তো বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এটা করতে পারে।

জানা গেছে, ঈদের ছুটির আগে ও ছুটি চলাকালে চকবাজারসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদল নেতাদের পক্ষ থেকে নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বেশ কিছু ব্যানার তোলা হয়। অনেকে নিজেকে আগামীতে চসিক নির্বাচনে নিজেকে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী পরিচয় দিয়েও ব্যানার লাগিয়েছে। চকবাজার এলাকায় স্থাপন করা এ ধরনের বেশ কিছু ব্যানারে সংশ্লিষ্ট বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি মেয়রেরও ছবি ছিল। অভিযানে এ ধরনের কয়েকটি ব্যানার নিজে অপসারণ করেন মেয়র।

নিজের ব্যানার উচ্ছেদ করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডা. শাহাদাত উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু আমি নিজের ব্যানারই খুলে ফেলছি সেখানে অন্যদের ব্যানার অবশ্য খুলে ফেলা হবে। আমি চাচ্ছি, অন্যরা যারা ব্যানার লাগিয়েছেন তারা যদি নিজেরা খুলে ফেলেন সেটা ভালো হয়, এতে উদাহরণ সৃষ্টি হবে। আসলে আমি বলার চেষ্টা করছি, আমি নিজের ব্যানার নিজে ছিঁড়ছি, কাজেই অন্যান্য যেসব নেতা আছেন তারা যেন তাদের ব্যানার খুলে ফেলেছি বলে মনে কষ্ট না পায়।

উচ্ছেদ অভিযান কত দিন চলবে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে শহরটাকে আমরা অনেকটা ক্লিন করব ইনশাল্লাহ। তারপরও মাসব্যাপী কাজগুলো চলতে থাকবে।

ডা. শাহাদাত বলেন, আমাদের যে চিন্তাভাবনা, শহরটাকে ক্লিন ও গ্রীন রাখা সেটা আমরা করবো। যে কোনোভাবে এটা করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, শহরটাকে যে কোনোভাবে আমাদের ক্লিন রাখতে হবে, মানুষের চাহিদা মত শহরটা যেন জঞ্জালমুক্ত থাকে।

এসময় তারের জঞ্জাল দেখিয়ে মেয়র বলেন, এগুলো আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাবে। আমরা এটাকে স্মার্ট সিটি বলছি। অলরেডি পরীক্ষামূলকভাবে দুটো ওয়ার্ডে দুটো কোম্পানিকে আমরা দিয়েছি। এখানে সফল হলে শহরের ৪১ ওয়ার্ডের ক্যাবলগুলো আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাবে। তখন শহরের তারের জালি আর দেখা যাবে না।

অভিযান চলাকালে ফুটপাত দখল করে ব্যবসায়িক মালামাল রাখার অভিযোগে দোকান মালিকদের সতর্ক করেন মেয়র। তিনি বিভিন্ন দোকানের সামনে গিয়ে ফুটপাত থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ফুটপাত পথচারীদের জন্য। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবর্ণমালা লিখতে না পারায় শিক্ষকের চড়-থাপ্পড়ে ছাত্রী অজ্ঞানের অভিযোগ
পরবর্তী নিবন্ধদায়িত্ব নিলেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী