ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের বেশির ভাগ মার্কেটই মানছে না–বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি নির্দেশনা। চট্টগ্রামে প্রবর্ত্তক মোড়ে অভিজাত দুটি মার্কেট, টেরিবাজার, রেয়াজুদ্দিন বাজার, জিইসি মোড়, নিউ মার্কেট, চকবাজার, আগ্রাবাদ, কাজীর দেউড়ি, বহদ্দারহাট, লালখানবাজার, খুলশী এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন বিপণিবিতান ও শপিং মলে চলছে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা। এসব এলাকার শপিং মলগুলো সাজানো হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জায়।
এদিকে পবিত্র রমজান মাস, গ্রীষ্মকাল, সেচ মৌসুম এই তিন চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে সাতটি জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। কিন্তু গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর নগরীর বেশ কয়েকটি মার্কেটে ঘুরে দেখা গেছে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি নির্দেশনার কোনো তোয়াক্কাই নেই নগরীর বেশির ভাগ মার্কেটে। নগরের বিভিন্ন বিপণিবিতান ও শপিং মলে চলছে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা।
সাধারণ মানুষের আশংকা এখনই আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎসংকট প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক বাজারে দ্রুততার সাথেই বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। সারা বিশ্বে তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় অচিরেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেল সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দোকানপাট এবং শপিংমলে আলোকসজ্জা ও অপ্রয়োজনীয় বাতি বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
চট্টগ্রামে পিডিবির এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জানান, মার্কেটগুলোতে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা না করার সরকারি নির্দেশনা আছে। আমরা চিঠি দিয়েছি। তার পরও অতিরিক্ত আলোকসজ্জা হচ্ছে আমরা খবর পেয়েছি। বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, বিদ্যুতের অপচয় রোধে দোকান, শপিং মলে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে। এমনকি পিক আওয়ারে (বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা) যেখানে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সরঞ্জাম বন্ধ রাখার কথা, সেখানে অনেক মার্কেটেই কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও শোরুমের অতিরিক্ত লাইট পূর্ণ মাত্রায় চালু রাখা হচ্ছে। এদিকে চট্টগ্রামে সীমিত পরিসরে লোডশেডিং শুরু হয়েছে। সমানের দিনগুলোতে লোডশেডিং আরো বাড়তে পারে বলে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন।












