কক্সবাজারের পেকুয়ার রাজাখালীর বদিউদ্দিন পাড়া থেকে নতুন ঘোনা বেড়িবাঁধের সমুদ্র উপকূলের একটি স্লুইস গেটের (জলকপাট) পাশের মাটি সরে গিয়ে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়। চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের শুরুতে (দুমাস আগে) কয়েক ঘণ্টার মাঝারি বর্ষণে এই সমস্যার সৃষ্টি হলেও তা মেরামতে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
এনিয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সেই গর্ত ভরাটসহ ভাঙা বেড়িবাঁধ মেরামতের অনুরোধ জানালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এই অবস্থায় চলমান পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ারের প্রভাবে বেড়িবাঁধটির বিশাল অংশ বিলিন হয়ে ব্যাপক এলাকায় লবণ পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ২০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে নিপতিত হবে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন বেড়িবাঁধটির ৮ নং স্লুইস গেট এটি। অন্তত ৬০ বছর আগে বাঁধের সঙ্গে এই স্লুইস গেটটি নির্মাণের পর রাজাখালী ইউনিয়নের বদিউদ্দিন পাড়ার অংশ কুতুবদিয়া সমুদ্র চ্যানেলের ভোলা খালের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়। প্রায় চার বছর আগে বেড়িবাঁধটির সর্বশেষ মেরামত করা হয়। সরজমিন দেখা যায়, বেড়িবাঁধটির ৮ নং স্লুইস গেটটির কিছুদূরের মাটি সরে গিয়ে বড় ধরণের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মাস দুয়েক আগে সেখানে মাটি ফেলে বেড়িবাঁধটির ভাঙনরোধের চেষ্টা করা হলেও তা টেকেনি। সাম্প্রতিক আবার মাঝারি বৃষ্টিপাত শুরু হলে সেই গর্ত এখন বিশালাকার ধারণ করে।
এই বিষয়ে কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম দৈনিক আজাদীকে বলেন, রাজাখালী ইউনিয়নের বদিউদ্দিন পাড়া টু নতুন ঘোনা পর্যন্ত ভঙ্গুর হয়ে পড়া দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ দ্রুত মেরামত করে জনগণকে দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ দিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী অরূপ চক্রবর্তী গতকাল রোববার বিকালে দৈনিক আজাদীকে বলেন, বর্ষার শুরুতে মাঝারি বৃষ্টিপাত হলে বাঁধটির কিছু অংশ ধসে যাওয়ার খবর পেয়ে পরিদর্শন করা হয়। এর পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এ নিয়ে লিখিতভাবে জানানো হয় জরুরি ভিত্তিতে এই সমস্যা সমাধানকল্পে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ না আসায় কাজ শুরু করা যায়নি। নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, সরজমিন আগামীকাল (আজ সোমবার) আবারও সেটি পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।








