ধর্মীয় স্থাপনাগুলো স্থাপিত হয় শান্তির বার্তা ছড়াতে

খাগড়াছড়িতে ধর্মসম্মেলনে বক্তারা

| শনিবার , ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:৪৫ পূর্বাহ্ণ

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমে নবনির্মিত শ্রীরামকৃষ্ণ মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান তিনদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার মধ্যদিয়ে গত ২৭ ডিসেম্বর সম্পন্ন হয়। বিশিষ্ট সমাজসেবক অজয়কৃষ্ণ দাশ মজুমদারের সম্পূর্ণ অর্থায়নে ২য় দিবসে শ্রীমন্দিরের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী শক্তিনাথানন্দজী মহারাজ। উৎসব উদযাপন পরিষদের আহবায়ক অজয়কৃষ্ণ দাশ মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ধর্মালোচনায় বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা রামকৃষ্ণ আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী বিশ্বেশ্বরানন্দজী মহারাজ, নারায়ণগঞ্জ রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের সম্পাদক স্বামী একনাথানন্দজী মহারাজ, ফতেয়াবাদ রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমের তত্ত্বাবধায়ক স্বামী পূর্ণব্রতানন্দজী মহারাজ, চট্টগ্রাম রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমের স্বামী জীবানন্দজী মহারাজ। রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সম্পাদক জয় প্রকাশ ত্রিপুরার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উৎসব উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব প্লাবন ত্রিপুরা ও রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সভাপতি ভুবন মোহন ত্রিপুরা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উৎসব উদযাপন পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক আশুতোষ সরকার, রহমতগঞ্জ রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ ট্রাস্টের সভাপতি লায়ন দুলাল কান্তি মজুমদার, উৎসব উদযাপন পরিষদের সমন্বয়কারী তাপস হোড়, রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সহসভাপতি সমর চক্রবর্তী, রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের কোষাধ্যক্ষ উত্তম সরকার, রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম পরিচালনা কমিটির সদস্য লিটন ত্রিপুরা। এর আগে সমপ্রীতি শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি জেলা এপিবিএন’র কমান্ড্যান্ট ও ডিআইজি পরিতোষ ঘোষ। ১ম দিবসে দরিদ্রদের মাঝে কম্বল ও মশারী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বালাজী গ্রুপের চেয়ারম্যান রঘুপতি সেন ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিহির কান্তি নাথ। এতে প্রায় ১ হাজার দরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল ও মশারী বিতরণ করা হয়। রামকৃষ্ণ লীলাকীর্ত্তন পরিবেশন করেন ডক্টর সুজিত দাশ। ধীনা ত্রিপুরা ও বিধান রায় বিশ্বাসের পরিচালনায় নৃত্যানুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা। এছাড়াও অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিলবাল্যভোগ ও ভজন কীর্তন, শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীমা ও স্বামীজীর পূজা, ধর্মসম্মেলন, প্রসাদ আস্বাদন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ধর্মীয় স্থাপনাগুলো মূলত শান্তি, আধ্যাত্মিকতা এবং নৈতিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই স্থাপিত হয়, যেখানে মানুষ অভ্যন্তরীণ শান্তি খুঁজে পায় এবং সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ শেখে। প্রতিটি ধর্মের মূল শিক্ষা শান্তি। সব ধর্মই শান্তির কথা বলে, শান্তির শিক্ষা দেয়। তারপরও সমাজে অশান্তি আর নৈরাজ্য সৃষ্টি করতেই যেন মানুষ তৎপর।

পূর্ববর্তী নিবন্ধতানিয়া রবের সম্পদ স্বামী আ স ম রবের ১৪ গুণ
পরবর্তী নিবন্ধআয় কমলেও নগদ টাকা বেড়েছে জিএম কাদেরের