দেশের সব হাসপাতালে পার্কিং সুবিধা নিশ্চিতসহ ৬ দফা দাবি আদায়ে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটের ঘোষণা দিলেও পরে তা স্থগিত করেছে বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতি। রোববার দেয়া ঘোষণায় আজ (২৫ জুলাই) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বেসরকারি সব অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছিল মালিক সমিতি। তবে ঘোষণার একদিন পর গতকাল সোমবার রাতে এ কর্মসূচি স্থগিত করেছে তারা। ঢাকায় পুলিশের সাথে বৈঠকের পর কর্মসূচি স্থগিত করার এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে চট্টগ্রামেও বেসরকারি সকল অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতি। তবে সোমবার (গতকাল) রাতে কর্মসূচি স্থগিত করার বিষয়টি ঢাকা থেকে তাদের জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি নুর মোহাম্মদ।
তিনি আজাদীকে বলেন, ঢাকায় পুলিশের সাথে আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আলোচনার প্রেক্ষিতে ২৫ জুলাই থেকে ডাকা ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। দাবি পূরণের আশ্বাস এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ধর্মঘট থেকে সরে আসার কথা জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। এই সিদ্ধান্তের ফলে আমাদের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস অব্যাহত থাকবে। বন্ধ হচ্ছে না।
বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে– সেবাখাতে বিআরটিএ কর্তৃক অ্যাম্বুলেন্সে প্রাইভেট কারের মতো আয়কর (এটিআই) নেয়া বন্ধ করা, অবিলম্বে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন, টোল ফ্রি ঘোষণার অবিলম্বে বাস্তবায়ন, দেশের প্রতিটি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত করা, অ্যাম্বুলেন্সে রোগী থাকা অবস্থায় দ্রুত তেল–গ্যাস প্রদানের ব্যবস্থা করা এবং সড়কে হয়রানি মুক্ত ও নির্বিঘ্নে চলাচলের নিশ্চয়তা।
দীর্ঘদিন ধরে এসব দাবি জানিয়ে আসলেও কেউ আমলে নেয়নি জানিয়ে অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির নেতারা বলছেন– এখন বাধ্য হয়ে তাদের আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হয়েছে। তবে দাবি পূরণে পুলিশের আশ্বাস এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ধর্মঘট থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। বৈঠক শেষে অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা গণমাধ্যমকে জানান, আমরা ওখানে গিয়েছিলাম। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে, এই অবস্থায় ধর্মঘট করলে রোগীরা বিপদে পড়বেন। এছাড়া কোনো কারণ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স চালকদের হয়রানি করা হবে না, মামলা দেওয়া হবে না– পুলিশের পক্ষ থেকে এমন আশ্বাস দেয়া হয়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে ধর্মঘট আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনায় জাতীয় নীতিমালা তৈরির যে দাবি ছিল, তা তিন মাসের মধ্যে করা হবে, এমন আশ্বাসও পেয়েছেন বলে জানান গোলাম মোস্তফা।












