ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা শুরু হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ, গণভোটের রায় এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ ঘিরে নতুন রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে। ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় সরকারি দলের সদস্যরা রাষ্ট্রপতির ভাষণকে স্বাগত জানালেও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও অন্য দলের কয়েকজন সদস্য জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রশ্ন সামনে আনেন। চব্বিশের অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে সংসদে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সময়কার রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার সমালোচনাও এসেছে তাদের আলোচনায়। খবর বিডিনিউজের।
গতকাল অধিবেশনে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু তা সমর্থন করেন। এরপর আলোচনা শুরু হয়। প্রথম দিন ১৪ জন সংসদ সদস্য ধন্যবাদ প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নেন। এর পরে অধিবেশন আগামী ২৯ মার্চ বিকাল ৩টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।
সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ শুরু হয়। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ওইদিন অধিবেশন আহ্বান করেন এবং প্রথম দিনই ভাষণ দেন। এরপর গতকাল সকাল ১১টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি করা হয়।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী দলের সদস্যদের প্রতিবাদ ও ওয়াক আউটের ঘটনায় এদিন মুলতবি অধিবেশন শুরুর আগে থেকেই উত্তাপের আভাস ছিল। শনিবার কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত আসে। সেদিন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়ে বিরোধী জোট আন্দোলনে নামার হুমকি দেয়। ফলে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় জুলাই জাতীয় সনদ, গণভোটের রায় ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য শপথ প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির অবস্থান নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলের সদস্যরা। অন্যদিকে সরকারি দলের কয়েকজন সদস্য রাষ্ট্রপতির ভাষণকে স্বাগত জানিয়ে নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন চাহিদা সামনে আনেন।
চট্টগ্রাম–১ আসনের সদস্য নুরুল আমিন মীরসরাইয়ের রাস্তাঘাট, পুল–কালভার্ট উন্নয়নের দাবি তোলেন। তিনি বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। একইসঙ্গে খাল কাটা কর্মসূচি শুরু করার জন্য সরকারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি দক্ষিণাঞ্চলের মতো অন্য এলাকাতেও প্রভাব ফেলবে।












