দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা

| বৃহস্পতিবার , ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ

দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে দেশে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি জোরদারের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে প্রযুক্তির হাত ধরেই।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশচীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো২০২৬’এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আগামী পৃথিবী মৌলিকভাবে ভিন্ন হবে। আজ যা আমরা কল্পনাও করতে পারছি না, সেটাই বাস্তবতায় পরিণত হবে। পৃথিবী দ্রুত বদলাচ্ছে। এই বৈশ্বিক গতির সঙ্গে যদি আমরা নিজেদের গতি বাড়াতে ও সামঞ্জস্য আনতে না পারি, তাহলে আমরা কতটা পিছিয়ে পড়ব, তা ভেবে দেখা দরকার। খবর বাসসের।

তিনি বলেন, দেখে মনে হতে পারে বাংলাদেশ অন্যদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়েচিন্তায় পিছিয়ে, কাজে পিছিয়ে এবং নিজেদের প্রস্তুতিতেও পিছিয়ে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার কারণেই এই পিছিয়ে পড়া। আইসিটিকে তিনি ‘মূল খাত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই খাত থেকেই ভবিষ্যৎ তৈরি হবে। আমি এই খাতের কথা বলছি, কারণ এটি একটি প্রধান খাত। ভবিষ্যৎ এই খাত থেকেই গড়ে উঠবে।

এ কারণে এখনই প্রস্তুতি শুরু করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এই খাতের নীতিমালা প্রণয়নে সংশ্লিষ্টদের প্রচলিত চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

এঙপো প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের আয়োজনগুলোতে আমরা কী ধরনের আলোচনা করি, কী ধরনের ভবিষ্যৎ কল্পনা করি এবং সে অনুযায়ী কী ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করিদেশের ভবিষ্যৎ অনেকটাই তার ওপর নির্ভর করবে।

চার দিনব্যাপী এই প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। ‘বাংলাদেশ টু দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই এঙপো চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

ইন্টারনেট বন্ধের কারণে মহাশক্তিশালী একটা সরকারকে পালাতে হয়েছে

বিডিনিউজ জানায় : চব্বিশের অভ্যুত্থানে ইন্টারনেট বন্ধ করাই ‘তরুণদের ক্ষোভকে বিস্ফোরণে পরিণত করেছিল’ এবং এর পরিণতিতে ‘একটি মহাশক্তিশালী সরকারকে পালাতে হয়’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট যখন বন্ধ করে দেওয়া হল, তখন সারাদেশের তরুণরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সে বিক্ষোভের মাত্রা এতটাই ছিল, তারা ফুটন্ত তেলের মত টগবগ করছিল। কী হয়েছে? ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন বুঝতে পারেন, ইন্টারনেট তাদের জীবনে কতটা প্রিয়। তারা এটি সহ্য করতে পারেনি। এই উত্তেজনা ও ক্ষোভের ফলেই শেষ পর্যন্ত একটি মহাশক্তিশালী সরকারকে পালাতে হয়েছে।’ এই বাস্তবতা সামনে রেখে প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে রাষ্ট্র ও নীতিনির্ধারণকে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান ইউনূস। তিনি বলেন, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম শুধু বাংলাদেশের নাগরিক নয়, তারা বিশ্বনাগরিক।

জালিয়াতিতে বাংলাদেশ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

বাংলানিউজ জানায় : প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ একটি বিষয়ে পৃথিবীর চ্যাম্পিয়ন এখন।

আপনাদের সবার জানা আছে হয়তো। তবু আমি আবার বলব। পৃথিবীর চ্যাম্পিয়ন, কিসে? জালিয়াতিতে। সব জিনিস জাল। বহু দেশ আমাদের পাসপোর্ট গ্রহণ করে না। ভিসা জাল, পাসপোর্ট জাল। তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই পত্রিকায় দেখেছেন আমেরিকার ভিসা জাল। এটা একটা জালিয়াতের কারখানা বানিয়েছি আমরা। আমাদের বুদ্ধি আছে নইলে আমরা এটা করতে পারতাম না। কিন্তু খারাপ কাজে লাগাচ্ছি। যে জালিয়াতি করতে জানে তার কাছে অনেক ক্রিয়েটিভিটি। ড. ইউনূস বলেন, কী হবে? এই প্রযুক্তি সে জালিয়াতির কাজে লাগাবে। যদি না আমরা আগে থেকে আমাদের নিজেদের সংশোধন করি।

এই গোড়াগুলো কেটে দেই। হাজারে হাজারে মানুষ, সব কিছু ভুয়া। পারমিশন ভুয়া, ব্যাংক সার্টিফিকেট ভুয়া। এবং আমরা এগুলো ইস্যু করছি, যেখান থেকে যাওয়ার কথা সেখান থেকে ইস্যু করছি। কাজেই আমাদের প্রযুক্তিতে আসতে হলে ন্যায্য জিনিস নিয়ে আসতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই দেশ জালিয়াতির কারখানা হবে না। এটাকে আমরা করতে চাই না। আমরা নিজ গুণে সারা দুনিয়াতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। আজ প্রযুক্তির এই বৈঠকে আমরা সেইভাবে মন ঠিক করি যে, আমরা জালিয়াতি থেকে নিজেদের হয়ে আসব। আমরা তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ করে দেব। মানুষের সহায়ক সরকার করব, ওই ভাবে আমাদের চলতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপদ্মার ভাণ্ডারে কয়েক হাজার অবিক্রিত গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার
পরবর্তী নিবন্ধপরিকল্পনার ৩০% বাস্তবায়ন করতে পারলেও জনসমর্থন পাব