দ্রুত পণ্য খালাসে সরকারের উদ্যোগ, আজ বৈঠক

বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ মাদার ভ্যাসেল ও লাইটার জাহাজ সংকট তৈরি হবে অ্যাকশন প্ল্যান

হাসান আকবর | মঙ্গলবার , ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:২১ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে কয়েক লাখ টন পণ্য নিয়ে অপেক্ষমাণ মাদার ভ্যাসেলের সংখ্যা ১শ ছাড়িয়ে যাওয়া, লাইটারেজ জাহাজের সংকট, রমজানে পণ্য সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কার প্রেক্ষিতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাহাজ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পণ্য খালাসে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আজ অংশীজনদের সাথে বৈঠকে বসছে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর। ঢাকায় অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, লাইটারেজ জাহাজের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, জাহাজ মালিক, আমদানিকারক, শিল্প গ্রুপের মালিক, লোকাল এজেন্ট এবং পণ্যের এজেন্টদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠক থেকে কার্যকর একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হবে জানা গেছে।

সূত্রে জানা যায়, মাদার ভ্যাসেল থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস নিশ্চিত করা এবং পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত লাইটার জাহাজগুলোকে অস্থায়ী গুদাম হিসেবে ব্যবহার বন্ধে কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা, বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস ও শিপিংলজিস্টিকস খাতের অংশীজনদের নিয়ে এই সভা আহ্বান করেছেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ শফিউল বারী। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের পরিবহন শাখা থেকে জারি করা একাধিক সরকারি চিঠিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আমদানিকৃত পণ্য দীর্ঘ সময় ধরে মাদার ভ্যাসেলে বা লাইটার জাহাজে পড়ে থাকছে। অনেক ক্ষেত্রে লাইটার জাহাজগুলোকে অস্থায়ী গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বিদ্যমান আইন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর ফলে নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় মারাত্মক জট সৃষ্টি হচ্ছে এবং সরবরাহ চেইনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পণ্য খালাসে অযথা বিলম্বের কারণে বন্দর ও নৌপথের সক্ষমতা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি আমদানি কার্যক্রমে অতিরিক্ত ব্যয় ও সময় ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। এই পরিস্থিতি নিরসনে মাদার ভ্যাসেল থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস এবং লাইটার জাহাজের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে সরকার।

এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিতে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সকল অংশীজনের নিয়ে সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), কাস্টমস, শিপিং এজেন্ট, লাইটার জাহাজ মালিক সমিতি, বিভিন্ন শিপিং ও লজিস্টিকস কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্প গ্রুপের মালিকদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

জানা যায়, সভায় উপস্থিত অংশীজনদের সাথে মাদার ভ্যাসেল ও লাইটার জাহাজ ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সমস্যা, দায়বদ্ধতা এবং সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস ও নৌপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে নীতিগত ও প্রশাসনিক কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, লাইটারেজ জাহাজের সংকটে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস অনেকটা থমকে গেছে। কয়েক লাখ টন আমদানি পণ্য নিয়ে অলস ভাসছে একশর বেশি মাদার ভ্যাসেল। লাইটারেজ জাহাজের সংকটের কারণে অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন রুটে পণ্য পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। আসন্ন রমজানে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের চিঠিতে আমদানিকারকরা লাইটারেজ জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে উল্লেখ করা হলেও বিএডিসির সার নিয়ে অনেক লাইটারেজ জাহাজ আটকে রয়েছে। এর বাইরে ভোগ্যপণ্য নিয়ে ভাসছে এমন লাইটারেজ জাহাজের সংখ্যা খুব বেশি নয় বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি) সূত্র দাবি করেছে। তারা জানায়, একটি গোষ্ঠী অভ্যন্তরীণ নৌপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চট্টগ্রামে চলাচল করত এমন পাঁচ শতাধিক জাহাজ মোংলা, পায়রা এবং ভারতে চালাচ্ছে। ফলে চট্টগ্রামে জাহাজের সংকট বেড়েছে। চট্টগ্রামে আগে যেসব জাহাজ চলাচল করত সেগুলোকে চট্টগ্রামে ফিরে আসতে বাধ্য করা হলে এই সংকট থাকবে না। দেশের আমদানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশ সম্পন্ন হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। চট্টগ্রাম বন্দর এবং বহির্নোঙর পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং গতিশীল থাকলে পণ্য সরবরাহ নেটওয়ার্ক পুরোপুরি সচল থাকবে।

বিষয়গুলো আজকের বৈঠকে আলোচিত হবে উল্লেখ করে সূত্র বলেছে, অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে দেশের জন্য কল্যাণকর একটি পথ খুঁজে বের করা হবে। নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দর ও নৌপথে যে জট তৈরি হয়েছে তা কমে আসবে। একইসাথে সামগ্রিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআজাদী সম্পাদকের সাথে ইইউ পর্যবেক্ষকদের মতবিনিময়
পরবর্তী নিবন্ধসিপিএ এজেন্ট ডেস্ক সিস্টেম চালু