শৈশবে অভাবের কারণে যাঁর কনসার্টের টিকিট কাটার সামর্থ্য ছিল না, আজ সেই কিংবদন্তির সাথে মাইক্রোফোন হাতে গাইলেন তিনি। বলছিলাম, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার সন্তান সংগীতশিল্পী ও সুরকার পিজিত মহাজনের কথা। নচিকেতা চক্রবর্তীর সাথে দ্বৈত কণ্ঠে গান গেয়ে নিজের এক যুগের সংগীত ক্যারিয়ারের এক স্বপ্ন পূরণ করলেন এই তরুণ শিল্পী। সমপ্রতি ঢাকার রামপুরার একটি স্টুডিওতে নচিকেতা চক্রবর্তী ও পিজিত মহাজনের দ্বৈত কণ্ঠে ‘মধ্যবিত্ত’ শিরোনামের একটি গান রেকর্ড করা হয়েছে। গানটির কথা ও সুর করেছেন আমিরুল মোমেনিন মানিক এবং সংগীতায়োজন করেছেন নাদিম ভূঁইয়া। গানটি সম্পর্কে নচিকেতা চক্রবর্তী বলেন, পিজিত আমার গানের অনুরাগী এবং সংগীতপাগল ছেলে। গানটি খুব সুন্দর হয়েছে, আশা করি শ্রোতাদের ভালো লাগবে। পিজিত মহাজন বলেন, দাদার গান শুনে বড় হয়েছি। একসময় টাকার অভাবে উনার শো দেখতে পারিনি, আর আজ তাঁর সাথে একই গানে কণ্ঠ দিলাম–এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ঠান্ডাছড়ি গ্রামে পিজিতের জন্ম। বাবা ছিলেন রানীরহাটের মুদি দোকানি এবং মা ছিলেন মন্দিরের সেবিকা। সংগীতের প্রতি ভালোবাসা তাকে ঘরছাড়া করেছিল। চট্টগ্রামের কোতোয়ালীর মেঘনা হোটেলের ছোট্ট ঘর থেকে শুরু হয়ে আজ দুই বাংলার সংগীত অঙ্গনে পিজিত এক পরিচিত নাম। তিনি চট্টগ্রামের ব্যান্ড ‘চাঁটগা’–র প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৬ সালে আইয়ুব বাচ্চুর সাথে একই মঞ্চে গেয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। পিজিত একজন মানবিক যোদ্ধাও। তার প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘মানুষ’–এর মাধ্যমে তিনি সংগীত থেকে অর্জিত অর্থের বড় একটি অংশ ব্যয় করেন অসহায় মানুষের সেবায়। পিজিত বলেন, কোটি ভিউ নয়, আমি এমন কিছু গান রেখে যেতে চাই–যা মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে। নিজের জন্মস্থান রাঙ্গুনিয়া নিয়ে পিজিত সবসময়ই গর্বিত। তিনি বলেন, যখন কেউ আমাকে চিনত না, তখন রাঙ্গুনিয়ার মানুষই আমাকে ভালোবাসা দিয়ে আজকের পিজিত বানিয়েছে। আমি তাদের কাছে চিরঋণী।













