সমপ্রতি মহামান্য উচ্চ আদালতের একাধিক বিয়ে সংক্রান্ত এক রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে সকল ধোঁয়াশা অবসান হয়েছে। সাধারণত এক স্ত্রী বহাল থাকা অবস্থায় ২য় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি লাগবে মর্মে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, প্রকৃত পক্ষে অনুমতি নিতে হয় শালিশি কাউন্সিলে। স্থানীয় পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদে এই শালিশি কাউন্সিল গঠিত হয়। ‘দ্বিতীয় বিবাহের জন্য প্রথম স্ত্রীর ব্যক্তিগত অনুমতি নয়; মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১–এর ধারা ৬ অনুযায়ী শালিশী কাউন্সিলের পূর্বানুমতিই আইনসম্মত ও বাধ্যতামূলক।’ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১–এর ধারা ৬ অনুযায়ী, বিদ্যমান স্ত্রী জীবিত ও বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় কোনো মুসলিম পুরুষ দ্বিতীয় বিবাহ সম্পাদন করিতে চাইলে, উক্ত বিবাহের পূর্বে সংশ্লিষ্ট শালিশী কাউন্সিল (Arbitration Council)-এর নিকট নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদনপূর্বক লিখিত অনুমতি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। আইন সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করছে যে, দ্বিতীয় বিবাহের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্মতি বা অনুমতিই একমাত্র বা চূড়ান্ত আইনগত শর্ত নহে; বরং আইনসম্মত কর্তৃপক্ষ হিসেবে শালিশী কাউন্সিল উভয় পক্ষের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় কারণ ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনা করে অনুমতি প্রদান বা প্রত্যাখ্যান করার এখতিয়ার রাখে। ধারা ৬–এর বিধান অনুসারে, শালিশী কাউন্সিল দ্বিতীয় বিবাহের যৌক্তিকতা, ন্যায়সংগত কারণ ও পারিবারিক স্বার্থ যাচাই করার নিমিত্তে প্রথম স্ত্রীর বক্তব্য গ্রহণ করতে পারবে; তবে উক্ত বক্তব্য গ্রহণের অর্থ এই নহে যে, প্রথম স্ত্রীর সম্মতির অভাবমাত্রেই দ্বিতীয় বিবাহ আইনত নিষিদ্ধ হবে। আইন প্রদত্ত কর্তৃত্ব কেবলমাত্র শালিশী কাউন্সিলের উপর ন্যস্ত। শালিশী কাউন্সিলের .অনুমতি ব্যতিরেকে দ্বিতীয় বিবাহ সম্পাদন করা হলে উক্ত বিবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বা অকার্যকর নহে, তবে তা আইন লঙ্ঘনের শামিল হবে এবং উক্ত স্বামী ধারা ৬(৫) অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধে দায়ী হবেন; পাশাপাশি প্রথম স্ত্রীর প্রাপ্য সম্পূর্ণ দেনমোহর তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধযোগ্য হবে। ইসলাম দ্বিতীয় বিবাহকে কখনোই নির্বিচার বা অবাধ অধিকার হিসেবে উপস্থাপন করেনি। বরং কুরআন, সহিহ হাদিস এবং ইসলামের মৌলিক ন্যায়নীতি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, দ্বিতীয় বিবাহ কঠোর শর্তাধীন, নৈতিক দায়িত্বসাপেক্ষ এবং সামাজিক ক্ষতি বিবেচনা নির্ভর একটি বিষয়। আধুনিক রাষ্ট্রীয় আইন সেই নীতিকেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে রূপ দিয়েছে।
কুরআনের সুস্পষ্ট শর্ত: সমতা না পারলে নিষেধ; আর যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীমদের ব্যাপারে ন্যায়বিচার করতে পারবে না। তবে তোমাদের পছন্দমতো নারীদের মধ্য থেকে দুই, তিন বা চার জনকে বিবাহ করো; কিন্তু যদি আশঙ্কা কর যে, ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে একটিই (বিবাহ করো) (সূরা আন–নিসা, আয়াত: ৪:৩)। পবিত্র কুরআন দ্বিতীয় বিবাহের অনুমতির সাথে সাথে কঠোর সতর্ক বার্তাও প্রদান করেছে তোমরা যদি আশঙ্কা কর যে, ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে একটিই (বিবাহ করো)। (সূরা আন–নিসা, আয়াত: ৪:৩) আরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে তোমরা কখনোই স্ত্রীদের মধ্যে পূর্ণ সমতা রক্ষা করতে পারবে না, যদিও তোমরা চেষ্টা করো। (সূরা আন–নিসা, আয়াত: ৪:১২৯) অতএব, কুরআনের আলোকে প্রতীয়মান হয় যে, সমতা রক্ষা করা দ্বিতীয় বিবাহের মূল শর্ত; এই শর্ত পূরণে অক্ষম হলে দ্বিতীয় বিবাহ শর্ত সাপেক্ষ, ইসলামি নৈতিকতায় নিরুৎসাহিত এবং কার্যত নিষিদ্ধ। দুঃখজনক বাস্তবতা হলো কিছু কথিত ইসলামিক স্কলার কেবল ‘চার বিবাহ বৈধ’ এই বাক্যটুকু প্রচার করেন, কিন্তু সমতা রক্ষার কঠোর শর্ত, নবী যুগের নিষেধাজ্ঞার দৃষ্টান্ত, এবং স্ত্রীকে কষ্ট দেওয়ার বিরুদ্ধে ইসলামের অবস্থান ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করেন। ইসলাম কখনোই জুলুম, মানসিক নির্যাতন বা পারিবারিক ধ্বংসকে বৈধতা দেয় না। আইন অনুযায়ী এক স্ত্রী জীবিত অবস্থায় আরেকটি বিয়ে করা যাবে না। তবে কোনো ব্যক্তির যদি এক স্ত্রী বর্তমান থাকাকালে আরেকটি বিয়ে করার প্রয়োজন পড়ে তাহলে তাকে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের মধ্যে শেষ স্ত্রীর এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে আরেকটি বিয়ে করার অনুমতি চেয়ে আগে আবেদন করতে হবে। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ ধারার ৬ মতে: দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে শালিশী পরিষদের কাছ হতে অনুমতি না নিলে বিয়ে নিবন্ধন হবে না। অনুমতির জন্য ফি দিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে ও আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিয়ের অনুমতি প্রদানে যেসব বিষয়ের প্রতি বিবেচনা করা হবে তার মধ্যে অন্যতম হলো: (১) বর্তমান স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব (২) শারীরিক মারাত্মক দুর্বলতা (৩) দাম্পত্য জীবন সম্পর্কিত শারীরিক অযোগ্যতা (৪) দাম্পত্য অধিকার পুনর্বহালের জন্য আদালত হতে প্রদত্ত কোনো আদেশ বা ডিক্রি বর্জন (৫) মানসিকভাবে অসুস্থতা ইত্যাদি। স্ত্রীর অধিকার লঙ্ঘনে আইনি প্রতিকার কী: কোনো পুরুষ যদি সালিসি পরিষদের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তবে তিনি অবিলম্বে বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীদের আশু বা বিলম্বিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করবেন। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী পূর্বাহ্নে সালিসি পরিষদের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি না নিয়ে কোনো পুরুষ একটি বিয়ে বলবৎ থাকাকালে আর একটি বিয়ে করতে পারবেন না। পূর্বানুমতি গ্রহণ না করে এই জাতীয় কোনো বিয়ে হলে তা মুসলিম বিয়ে এবং তালাক (রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯৭৪ সালের ৫২নং আইন মোতাবেক রেজিস্ট্রি হবে না)। বাংলাদেশের দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি তার পূর্ববর্তী বৈধ বিবাহ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও সেই তথ্য গোপন করে অন্য কোনো ব্যক্তিকে বিবাহ করে বা বিবাহে আবদ্ধ করে, তবে সেই কার্যক্রম ধারা ৪৯৫–এর আওতায় পড়ে। এই ধারা অনুযায়ী আগের বিবাহ গোপন করে দ্বিতীয় বিবাহ করা সরাসরি প্রতারণামূলক অপরাধ, যার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড প্রদানযোগ্য।
বিশেষত বিবাহকে হাতিয়ার করে অর্থ, যৌতুক, সম্পত্তি বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা আত্মসাৎ করা হলে, সেটি গুরুতর প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব ধারার অধীনে অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিন থেকে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড আরোপ করা যায়। বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে এই নীতিতে অটল যে বিবাহের নামে সংঘটিত প্রতারণা ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আদালতের দৃষ্টিতে, যখন প্রতারণা ও মিথ্যার ভিত্তিতে বিবাহ সংঘটিত হয়, তখন সেই বিবাহ সামাজিক পবিত্রতা হারিয়ে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধে পরিণত হয়। ২য় বিয়ের আবেদনপত্র সম্পর্কে সিদ্ধান্তকালে সালিসি পরিষদ এই সিদ্ধান্তের কারণসমূহ লিপিবদ্ধ করবে এবং কোনো পক্ষ নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সহকারী জজের পুনর্বিচারের জন্য আবেদন করতে পারবে। এতে সহকারী জজের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে ও এর বৈধতা সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না। বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের প্রাপ্য মুয়াজ্জল অথবা দেনমোহরের টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করবে। সে টাকা ওভাবে পরিশোধ করা না হয়, তাহলে বকেয়া ভূমি রাজস্ব রূপে আদায় করা হবে। বহু বিয়ের ক্ষেত্রে ইউপি চেয়ারম্যানের দায়–দায়িত্বে রয়েছে– বহু বিয়ের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান স্বামীকে অনুমতি দিতেও পারেন, আবার নাও দিতে পারেন। যদি কোনো স্বামী সালিসি পরিষদের মাধ্যমে অনুমতি পেয়ে যায়, তাহলে সেক্ষেত্রে চেয়ারম্যান তাকে স্মারক নং সহ ২য় বিয়ের অনুমতি প্রদান করবেন। অনুমতি ব্যতীত কোনো স্বামী বহু বিয়ে করলে চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বর্তমান স্ত্রীকে উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন। সালিসি পরিষদের অনুমতি ব্যতীত কোনো ব্যক্তি যদি অন্য একটি বিয়ে করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট একটি অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। বহু বিয়ের ক্ষেত্রে কাজীর দায় দায়িত্ব– বিয়েটি বরের বহু বিয়ে কি না তা কাজী যাচাই করবে। সালিসি পরিষদের লিখিত অনুমতি আছে কি না তা দেখবে কাজী। সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কাজী যেকোনো পন্থা অবলম্বন করতে পারেন, আবার যদি সন্দেহ হয় তাহলে বিয়েটি রেজিস্ট্রি করতে পারেনি প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বসবাসরত নাবালক সন্তানদের ভরণপোষণ দিতে পিতা আইনত বাধ্য থাকবেন। কোনো ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ও লিখিত সম্মতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়, তবে সেই সম্মতি চাপ, ভয় বা প্রতারণামুক্ত হতে হয়। বিশেষ সামাজিক বা ধর্মীয় প্রয়োজনের যুক্তিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে, কিন্তু সেক্ষেত্রেও স্বামীকে একাধিক স্ত্রীর মধ্যে ন্যায় ও সমতা রক্ষার বাস্তব সক্ষমতা প্রমাণ করতে হয়। আইন নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, স্বামীকে লিখিতভাবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করতে হয়। চেয়ারম্যান উভয় পক্ষের প্রতিনিধিসহ একটি শালিশী বোর্ড গঠন করেন। বোর্ড উভয় পক্ষের বক্তব্য, প্রমাণ ও পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দ্বিতীয় বিবাহ ন্যায়সংগত কি না তা নির্ধারণ করে এবং তারপর অনুমতি বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত দেয়। এই অনুমতি ব্যতীত ২য় বিবাহ আইনত অবৈধ। শালিশী বোর্ডের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করলে সংশ্লিষ্ট স্বামী এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা জরিমানায়, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। একই সঙ্গে প্রথম স্ত্রী চাইলে স্বামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্ণ অধিকার রাখেন। অর্থাৎ এটি শুধু ধর্মীয় বা সামাজিক অনিয়ম নয়; এটি সরাসরি দণ্ডনীয় অপরাধ। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ –এর ৬ ধারা এখনো বলবৎ, তথাপি আইন স্বামীকে স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা দেয় না। বরং এটি একটি কার্যকর চেক অ্যান্ড ব্যালান্স ব্যবস্থা। Mohammad Illius বনাম Jesmin Sultana (19 BLD (AD) 122) মামলায় আপিল বিভাগ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১–এর ৬ ধারা বাতিলের সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করে এ ধারার সাংবিধানিক বৈধতা পুনর্ব্যক্ত করেছে। সার্বিকভাবে বলা যায়, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১–এর ৬ ধারা বহুবিবাহকে নিয়ন্ত্রণ ও ন্যায্যতার মধ্যে আনতেই প্রণীত। আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ ও অনুসরণ করা হলে বহুবিবাহ সমাজে শোষণ বা বিতর্কের মাধ্যম না হয়ে একটি নিয়ন্ত্রিত ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে। কুরআন দ্বিতীয় বিবাহকে কোনো অবাধ অধিকার দেয়নি; বরং সমতা রক্ষাকে শর্ত করেছে এবং সেই সমতা রক্ষা মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব এই বাস্তবতা নিজেই ঘোষণা করেছে। ফলে সমতা রক্ষা করতে না পারলে দ্বিতীয় বিবাহ কুরআনের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ।
দ্বিতীয় বিবাহ কোনো ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয় নয়; এটি আইন, ন্যায়বোধ ও সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। সুতরাং, শালিশী বোর্ডের অনুমতি গ্রহণ ব্যতীত দ্বিতীয় বিবাহ শুধু বেআইনি নয়, বরং তা দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন কেবল বিবাহ নিয়ন্ত্রণ করে না এটি নারীর মর্যাদা, পারিবারিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আশা রাখি এ–ব্যাপারে সকল বিভ্রান্তির অবসান হবে।
লেখক : আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী,
কলামিস্ট ও সুশাসন কর্মী।










