দোহাজারী-চট্টগ্রাম রেলপথে যুক্ত হলো কৃষিপণ্যবাহী লাগেজ ভ্যান

চন্দনাইশ প্রতিনিধি | শুক্রবার , ২ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ

চন্দনাইশের দোহাজারী অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনের সুবিধার্থে দোহাজারীচট্টগ্রাম রেললাইনে অতিরিক্ত একটি লাগেজ ভ্যান সংযোজন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লাগেজ ভ্যানটির উদ্বোধন করা হয়। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্নবিলাস বিদ্যানিকেতনের উদ্যোগ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই লাগেজ ভ্যানটি যুক্ত করেছে। এর ফলে এখন থেকে স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সহজেই পরিবহন করতে পারবেন।

লাগেজ ভ্যান উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শহীদুল আনোয়ার, দোহাজারী স্টেশন মাস্টার ইকবাল হোসেন চৌধুরী, স্বপ্নবিলাস বিদ্যানিকেতনের উদ্যোক্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন, দোহাজারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সাইফুল আলম, জয়নুল আবেদীন কায়সার, আনাস মোহাম্মদ, জোবায়ের, মোহাম্মদ ফয়সাল, নাবিলা রহমান, নাসরিন সুলতানা, জামিউল আলম, আশরাফুল ইসলাম হাবিব, আরিক, আকলিমা, আরিফ, মিজান, সায়েম, শাহেদ, তানিম, আসিফ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য স্বল্প খরচে ও নিরাপদভাবে বাজারজাত করার ক্ষেত্রে এই লাগেজ ভ্যানটি সংযোজন একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এর ফলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবে, পরিবহন ব্যয় কমবে এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, স্বপ্নবিলাস বিদ্যানিকেতনের মতো একটি সেবামূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং রেলভিত্তিক কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলবে। এ সময় অনুষ্ঠানে আগত কৃষক ও সাধারণ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। কৃষকরা জানিয়েছেন, দোহাজারী অঞ্চলে উৎপাদিত সবজিগুলো দুপুর ১০টার মধ্যেই বাজারে বেচাবিক্রি শেষ হয়ে যায়। তখন ব্যবসায়ীরা ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহনে সবজিগুলো চট্টগ্রাম নগরীসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যায়। এ অঞ্চলের কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনের জন্য চট্টগ্রামদোহাজারী লাইনে যে লাগেজ ভ্যানটি যুক্ত করা হয়েছে তা দোহাজারী পৌছবে দুপুর ১টা ও একইদিন রাত সাড়ে ১০টার সময়। তখন লাগেজ ভ্যানটি দিয়ে সবজি পরিবহণ করা সম্ভব নয়।

তারা জানান, এ অঞ্চলের কৃষকদের সবজিসহ অন্যান্য মালামাল পরিবহনের সুবিধার জন্য আগের মতো সকালে একজোড়া লোকাল ট্রেন চালু করা গেলে কৃষিপণ্য পরিবহন ও যাত্রী যাতায়াতে সুবিধা হবে এবং এর সুফল পুরোপুরি পাবে কৃষকরা।

দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ইকবাল হোসেন চৌধুরী জানান, সকালে সৈকত এক্সপ্রেস হয়ে লাগেজ ভ্যানটি কক্সবাজার চলে যাবে এবং কক্সবাজার থেকে প্রবাস এক্সপ্রেস হয়ে দুপুরে লাগেজ ভ্যানটি দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন হয়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। একইদিন বিকেলে প্রবাল এক্সপ্রেস হয়ে কক্সবাজার পৌঁছাবে এবং সৈকত এক্সপ্রেস হয়ে রাত সাড়ে ১০টার সময় দোহাজারী স্টেশন হয়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। এ সময়ের মধ্যে কৃষকরা তাদের কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল চট্টগ্রাম নগরী ও কঙবাজারে পরিবহন করতে পারবেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধখাগড়াছড়িতে নতুন বই পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
পরবর্তী নিবন্ধইডেন স্কুল এন্ড কলেজে পুরস্কার বিতরণ