চট্টগ্রাম কাস্টমসে প্রকাশ্য নিলামে প্রতি কেজি সুপারির সর্বোচ্চ দর উঠেছে ২৩৩ টাকা। ২৭ হাজার কেজি (২৭ টন) ওজনের এসব সুপারি চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সংরক্ষিত মূল্য ধরেছে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৯ হাজার ৮৬০ টাকা। কেজি হিসেবে ৫৮১ টাকা। নগরীর জামালখান ওয়ার্ডের আসকার দীঘির পাড় এলাকার মো. এয়াকুব চৌধুরী ৬৩ লাখ টাকা বিড করে পণ্যগুলো কিনে নেন।
জানা গেছে, পচনশীল পণ্যের দ্রুত নিলাম আয়োজনের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্থায়ী আদেশ জারি করে। কিন্তু চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মকর্তাদের অনীহার কারণে সেই আদেশ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বিগত সময়ে অনেক খাদ্যপণ্য পচে যাওয়ায় তা মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়েছে। এতে সরকার রাজস্ব পাওয়া দূরে থাক, উল্টো পণ্য ধ্বংসে অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পচনশীল পণ্যসহ নিলামযোগ্য পণ্যের নিলাম দ্রুততার সাথে কার্যকর করছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, এনবিআরের নির্দেশনায় আমরা অনলাইন নিলামের পাশাপাশি প্রকাশ্য নিলামে পণ্য বিক্রি করছি। চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড খালি করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। বিডাররা বলছেন, নিলামে এখনো কিছু ভোগান্তি রয়ে গেছে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে–পণ্য অনুমোদন দিতে বিলম্ব করা। এতে বিডারদের পে অর্ডার মাসের পর আটকে থাকছে। দ্রুততার সাথে পণ্যের বিক্রয় অনুমোদন দিলে কাস্টমস ও বিডার উভয়পক্ষের জন্য ভালো হয়।
উল্লেখ্য, আমদানিকৃত পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারককে সরবরাহ নিতে হয়। এই সময়ের মধ্যে কোনো আমদানিকারক পণ্য সরবরাহ না নিলে তাকে নোটিশ দেয় কাস্টমস। নোটিশ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই পণ্য সরবরাহ না নিলে তা নিলামে তুলতে পারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এছাড়া মিথ্যা ঘোষণায় জব্দ পণ্যও নিলামে তোলা যায়। সর্বমোট ৪৫ দিনের মধ্যে নিলামে তোলার এই নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর করতে পারেনি বন্দর ও কাস্টমস। এতে করে বন্দরের ইয়ার্ডে এসব কন্টেনার পড়ে থাকে। আমদানি পণ্য যথাসময়ে খালাস না নেয়ায় বন্দরগুলোতে প্রায়ই কন্টেনার জট লাগে। দিনের পর দিন কন্টেনার পড়ে থাকলেও বন্দর কর্তৃপক্ষও চার্জ পায় না।












