দেশ হতে দেশান্তরে

হাবুব /খামছিন/ শামাল

সেলিম সোলায়মান | রবিবার , ১৫ মার্চ, ২০২৬ at ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ

পাছে লোকে কিছু বলে” ছোট বেলায় পড়েছি যখন এই কবিতা, বুঝিনি তা খুব একটা। তবে বড় হতে হতে যখন বুঝতে শুরু করেছিলাম, সেই থেকেই ওটা শিরোধার্য করার চেষ্টা করে যাচ্ছি আপ্রাণ!

কিন্তু, আছি তো এখন প্রবাসে। তাও সৌদিতে। এখানে তো বরং মনোবিদরা যে বলেন, পারসেপশন ইজ রিয়ালিটি, ওটাই মান্য করা শ্রেয়। কারণ ব্যক্তিকে দিয়েই এরা যে হরহামেশাই করে দেশ ও জাতির বিচার, তা তো দেখেছি, শুনেছি এমন কি বুঝেছিও হাড়ে হাড়ে। দেশ ও জাতির জন্য এপর্যন্ত কোন শ্লাঘার কারণ তো হতে পারিনি! হবো কেন তবে দেশ ও জাতির দুর্নামের কারণ? নাহ, ভুলেও যেন ওরকম দুর্মতি না হয় কখনো আমার!

বিষয় হচ্ছে, অফিসিয়ালি গতকাল অতিরিক্ত দায়িত্ব ঘাড়ে উঠার ঘোষণা এলে ধীরস্থির শান্তভাবেই দিয়েছিলাম কাঁধ এগিয়ে। যদিও চলছিল ভেতরে ভেতরে, কোনদিক কিভাবে সামলাবো, সেই চিন্তার ঝড়। অন্যদিকে গোটা অফিস তুমুল কলরবে ও শোরগোলে দেগেছিল এদিকে যে রকম অভিনন্দনের গোলা, তাতে তো মনে হচ্ছিল, ধরে নিয়েছে তারা; হয়েছে বিশাল প্রমোশন আমার!

জানি না, এমতাবস্থায় সৌদিতে, ক্যাবসা পার্টি দেওয়াই দুরস্ত কী না? নাকি খেজুর আর এরাবিয়ান কফি পার্টিতেই চলে? ঘুর ঘুর করছিল বিষয়টা মাথায় গতকাল বিকেল থেকেই। ঠিক করেছিলাম তখনই, সৌদিতে অবশ্যই সৌদি তরিকার পার্টিই দেব। তবে থাকবে তাতে বাঙ্গালিয়ানার ছাপও। অতএব মিষ্টির আয়োজনই করবো, বেশুমার। সমস্যা হচ্ছে বাংলার মিষ্টি এখানে তো নাই। ঠিক আছে! দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো, বাক্লাভা কোনাফাই ভরসা তবে।

সাতপাঁচ এসব ভাবতে ভাবতে, গত বিকেলে অফিস থেকে বেরুবার আগে ফোন করেছিলাম রিয়াদে আমার এ জাতীয় মুশকিলের আসান, জিয়াকে। ভাবছিলাম বেশ কয়েকদিন ধরেই। রোজার আগে বাজার করে আনি, হারা নাকি বাথায় যে বাংলাদেশী দোকান আছে, তা থেকে। কিন্তু একে তো নিজে চিনি না ঐ এলাকা, দ্বিতীয়ত গিয়েছিল জিয়া দাম্মামে। হয়ে উঠেনি তাই তা। ঐদিকে আমার ফোন পেতেই, গাড়ীতে উঠে সেটির নাক ঘুরিয়ে দিয়েছিল এদিকেই, জিয়া।

অতঃপর জিয়ার গাড়িতে বাথার বাংলা মার্কেটের দিকে যেতে যেতে, কথায় কথায় হঠাত আলাদীনের চেরাগে ঘষা লেগে হাজির হওয়া দৈত্যের মতো, ওর মুখ ফুটে বেরিয়েছিল, ঐখানের এক বাংলাদেশীর মিষ্টির দোকানের খবর। আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো আনন্দেই মন নেচে উঠেছি তাতে তা ধিন তা! একই সাথে ভেসে উঠেছিল মনে ঢাকা আর কুমিল্লার আমার পছন্দের মিষ্টির দোকানগুলোর চেহারা। উপরের সেলফগুলোর কাঁচের ওপাশে সাজানো রসালো লালমোহন, চমচম, কালোজাম, বক সাদা ফকফকে কাঁচা ছানার সন্দেশ দেখছিলাম পরিষ্কার। নীচের সেলফে বড় বড় গামলার একটিতে চিনির ঘন রসে ডুবছিল ভাসছিল ইয়া বড় বড় রসগোল্লা। অন্যটির ঘন দুধের ক্বাথে পিঠ ভাসিয়ে দেখেছিল রসমালাইয়ের ছোট ছোট গুল্লিরা! কিন্তু হায়! দ্রুতই তাল কেটে গিয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছিল সেই মোহন দৃশ্য। গাড়ি চালাতে চালাতে ঐ মিষ্টির দোকানের শানে নজুল বলছিল জিয়া।

কোন এক বাংলাদেশী নাকি বছর বিশেক আগে বাথায় ছোট্ট করে ঐ দোকানটি খুলেছিল। তারপর ক্রমশ ঐ মিষ্টির স্বাদ বাথা ছাড়িয়ে রিয়াদ এমনকি গোটা সৌদি আরবের বাংলাদেশীদের মধ্যে চাউর হয়ে গেলে, বিশাল হয়েছিল সেই ব্যবসা। অথচ সেই লোকটিকে এক কী, দু বছর আগে জোর করে উঠিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে দেশে! দখল নিয়েছে সে দোকানের এখন, সৌদি মালিক! এরকম হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে, জিয়ার বয়ানের সাথে এরই মধ্যে কাজ করতে গিয়ে নিজলব্ধ জ্ঞান মিলিয়ে বুঝেছিলাম, আইনের যে ফাঁক থাকে, সেই ফাঁক দিয়ে নয়! ঘটেছে এই অবিচার একদম আইনসিদ্ধভাবেই! হায়রে হায়! আইন কখনোই কোন দেশ বা সমাজেই তো দেখছি পারে না ঠেকাতে, শক্তিমানের অনৈতিকতা, অবিচার!

সৌদি আইনে, কোন অসৌদি সৌদিতে কোন ব্যবসার মালিক হতে পারে না। অতএব ২০ বছর আগে খোলা ঐ মিষ্টির দোকানটি, অবশ্যই ছিল সৌদি মালিকের নামেই। মৌখিকভাবে ঐ সৌদিমালিক আর বাংলাদেশী উদ্যোক্তার মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া থাকায়, সমস্যা হয় নি কোন; এতো বছর! কিন্তু যেই না বছর দুয়েক আগে, বার্ধক্যজনিত কারনে ঐ সৌদি মারা গেলেন, অবধারিতভাবেই দৃশ্যপটে হাজির হয়েছিল ছেলেরা। নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি বোঝাপড়া শেষে, যে ছেলের ভাগে পড়েছিল ঐ মিষ্টির ব্যবসা, ঠিক করেছিল সে, নেবে গোটা ব্যবসার দখল। তাই বের করে দিয়েছে ঐ বাঙ্গালীকে একদম সৌদি থেকেই। তবে মিষ্টির কারিগরদের যেহেতু তাড়িয়ে দেয়নি, আছে সেটা এখনো। তবে কোয়ালিটি আর আগের মতো নাই। এসব বলতে বলতে ততোক্ষণে বাথা এলাকার কাছাকাছি এসে পড়েছি, জিয়া এ কথা জানাতেই, চারদিকের পুরানো দালান ও রাস্তাঘাটের মলিন চেহারায় মনে হল, এ হচ্ছে আদি রিয়াদ। এরপর আরেকটু গভীরে ঢুকতেই, ফুটপাতের চৌদ্দরকম পশরা আর ভিড়ে মনে হচ্ছিল, ঢাকার গুলিস্তান বা ফার্মগেটে এসেছি। লোকজনের চেহারা, পোশাক, আশাক বলছিল একদম বাংলাদেশী না হলেও এ হচ্ছে অবশ্যই উপমহাদেশীয় এলাকা।

এদিকে এই রাস্তা থেকে ঐ রাস্তা ঘুরে ঘুরে, খুঁজছে জিয়া পার্কিংয়ের ফুরসৎ। তার কথায়, এ এলাকা গাড়ী চোরদেরও স্বর্গ! কিছুটা অবাক হয়ে চোর কারা? জিজ্ঞেস করতেই জানিয়েছিল, সৌদি অসৌদি সবধরনের চোরই আছে। সৌদিদের জিজ্ঞেস করলে বলবে, সব চোরই বিদেশী। মানে হয় উপমহাদেশীয় নয়তো মিশরি, ইয়েমেনি কিম্বা সুদানী। তবে জিয়ার ধারনা, সৌদিরা অবশ্যই ধোয়া তুলসি পাতা না।

এই পাওয়া গেছে, পাওয়া গেছে বলতে বলতে, বড়সড় এক বাংলাদেশী দোকানের সামনে গাড়ী থামিয়েছিল জিয়া সেসময়। যদিও ওটা তার পরিচিত দোকান না, তারপরও, গাড়ী পার্কিং করতে পারার বদৌলত জিয়া প্রস্তাবে ওখানেই সেরেছিলাম দ্রুত মুদিবাজার। তারপর রওয়ানা করেছিলাম সেই মিষ্টির খোঁজে।

নির্দিষ্ট সেই দোকানে এসে, ক্যাশে বসে থাকা গম্ভীরমুখো সৌদিটিকে দেয়া সালামের জবাবে পেয়েছিলাম ঠাণ্ডা উত্তর। আর ভেতরে ঢুকে, মিষ্টির পসরা দেখে মনে হয়েছিল, মিষ্টিগুলোর চেহারা দেশী হলেও, সাজানোর ভঙ্গি আর আবহটা সৌদি।

কি মিষ্টি দিমু?’

মিষ্টি দেখায় ব্যস্ত আমাকে এ সময় দেশী সেলসম্যান প্রশ্ন করতেই বলেছিলাম, শোনেন ভাই ,জানি তো যদি জিগাই কোন মিষ্টি ভালো? কইবেন আপনি সেই বিখ্যাত গোয়ালার মতো, সবই ভাল। কথা সেইটা না। বেশ কিছু মিষ্টি কিনবো, মিশরি আর সৌদিদের খাওয়াইতে। ভাইরে দেশের ইজ্জত মাইরেন না। ঠিক কইরা কন, কোন কোনটা নিমু।

আসলেই সবই ভাল। তবে যদি একদম আইজকার মিষ্টি নিতে চান তবে, চমচম, ল্যাংচা, সন্দেশ আর রসমালাই নিতে পারেন। দইও নিতে পারেন”দেন তাইলে এক কেজির প্যাকেটে যেগুলি কইলেন সেগুলির একেকটার তিন প্যাকেট কইরা। দই এক কেজির পাঁচটা?

কী বলেন সেলিম ভাই?“

তুমুল অবাক জিয়াকে হাতে নেড়ে বলেছিলাম, ঘটনা শুইনেন পরে। এদিকে অর্ডার শুনে সেলসম্যান একটু ভির্মি খেলেও, সাথে সাথেই লেগে গিয়েছিল কাজে। মজার ঘটনা হচ্ছে, এক এক করে প্যাকেটগুলো যখন রখাছিল সে কাউন্টারে, ক্যাশের সৌদির চেহারায় হচ্ছিল পরিবর্তন তাতে। কী যেন বলছিলও সে তার মাতৃজবানে। পাত্তা দেইনি। শুধু দাম মেটানোর সময় এক ঝলক তার চোখের দিকে চোখ যেতেই মনে হয়েছিল, সেলফ থেকে দুটো রসগোল্লা বুঝি, নিয়েছে স্থান ঐ কোঠরগুলোতে! এরপর গাড়ির ডিকি ভরা মিষ্টি নিয়ে ফিরতে ফিরতে, ঐ মিষ্টি কেনার শানে নজুল শুনে হো হো করে হাসতে হাসতে বলেছিল জিয়া– “এইটা তো একটা ফাটাফাটি ঘটনা ঘটাইতেছেন গুরু।”

বাথা থেকে আমার অফিসে ফিরে আমার গাড়ীতে বাজার ট্রান্সফার করার বদলে, জিয়াও এসেছিল পিছু পিছু বাসা পর্যন্ত। মহানন্দে আমার সাথে হাত লাগিয়ে ঘরের ফ্রিজে সব মিষ্টি সাজিয়ে, ফিরছিল জিয়া যখন, বাধ্য করেছিলাম তাকে একটা করে দই আর মিষ্টির প্যাকেট নিতে।

তারপর আজ সকালের নাস্তা শেষে ফ্রিজ থেকে মিষ্টির প্যাকেটগুলো সব গাড়ীর ডিঁকিতে তুলে অফিসের পার্কিংলটে এসে ড্রাইভার সাইফের দেখা পেতেই, তার হাতে চাবি দিয়ে বলেছিলাম ডিকি থেকে ওগুলো রুমে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে।

সে মোতাবেক অফিসের একমাত্র বাংলাদেশী গার্ড হারুন মিয়া আর ভারতীয় টি বয়ের সহায়তায় সব মিষ্টির প্যাকেট এনে রুমের ভিজিটর টেবিল আর মূল টেবিলে সাজিয়ে, গাড়ীর চাবি ফেরত দিতে দিতে আমতা আমতা করে বলেছিল সাইফ

স্যার, হাবুব। গো হোম!”

হাবুব কী? তুমি বাড়ি যাবে তো যাও? তবে যাওয়ার আগে মিষ্টি খেয়ে যেও। সাইফকে এ উত্তর দিয়ে, এই মিষ্টি খাওয়া পর্বটি কোন তরিকায় সম্পাদন করা যায়, তা নিয়ে কথা বলার জন্য গিউসিকে ফোন করে সালাম দিতে না দিতেই

ওপাশ থেকে “ওয়ালাইকুম” এর সাথে হড়বড় ভেসে এসেছিল “ইন দ্য আফটারনুন দেয়ার উইল বি এ ব্যাড খামছিন। এভেরিওয়ান নিড টু গো হোম, বিফোর ভিজিবিলিটি গোস ডাউন টু জিরো। ওয়াঞ্চ ফিল ইন অফিস, উইল গেট হিজ এপ্রুভাল টু ডিক্লেয়ার হাফ ডে অফ”

আরে ভাই, খামছিন কী? একটু আগে সাইফ কইলো হুবুব। ঘরে যাইবো। এতদিনে তো শিখলাম যে খামছিন মানে পঞ্চাশ। এখন আবার কী বলছো? আসো তো একটু আমার রুমে– “ওহ হো, আমরা মিশরিরা যে মরুঝড়কে খামছিন ডাকি তা যে তুমি জানো না, মনে ছিল না।“ সাতসকালের প্রায় শূন্য অফিসের করিডোরের ওপাশের রুম থেকে এদিকে এদিকে আসতে উঁচু গলায় বলতে বলতে রুমে ঢুকেই দুই টেবিলের দিকে তাকিয়ে চোখ বড় বড় করে বললো গিউসি

এ কী কাণ্ড?”

শোন তুমিও জানো, আমিও জানি যে ঘাড়ে উঠেছে আমার বাড়তি জোয়াল। কিন্তু গোটা অফিস ওটাকে প্রমোশন মনে করে যেভাবে মোবারকবাদ জানালো গতকাল, এ হল তার বাংলাজবাব। আচ্ছা বলো তো, আমার ঘাড়ে বাড়তি বোঝা চাপায় তারা খুশি হয়েই কি ওরকম অভিনন্দনের ভড়ং ধরেছিল? “না না ওরা আসলেই ওটাকে প্রমোশন মনে করেছে। কিন্তু ভায়া আবহাওয়া বিভাগতো আজ বিকেলে বেশ ভাল রকমের মরুঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। হ্যাঁ, ঐ ঝড়কে আমরা মিশরিরা খামছিন, সুদানিরা হাবুব আর সৌদিরা শামাল নামে ডাকে।“

তার মানে, এ হল একই অঙ্গে এত রূপ অবস্থা। বলেই মনে হল, আরেহ তাই তো! সকালে বেরিয়াছিলাম যখন ঘর থেকে, তখন কেমন যেন বাড়তি বাতাস লাগছিল গায়ে। রোদটাকেও শানদেওয়া তলোয়ারের মতো ঝকঝকে লাগছিল না। ভাবতে ভাবতে জিজ্ঞেস করি, খুব ডেঞ্জারাস নাকি? মরুঝড়ের কথা শুনলেও, অভিজ্ঞতা তো নাই। আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালে হরহামেশাই কালবোশেখি হলেও, ঐজন্য অফিস তো বন্ধ হয় না।

সেজন্যই তো বসের পারমিশন লাগবে। এমনিতেই সৌদি কেউ অফিসে আসবে না আজ, এই উসিলায়। অবশ্য খলিল আলাদা। ও আসবে। বারোটা একটা পর্যন্ত নিবিঘ্নে অফিস করা যাবে।”

হাই গাইস! হোয়াটস আপ? গিউসি ডু উই নিড টু ডিক্লেয়ার অফিস ক্লোজার? হলি কাউ! হোয়াটস বিইং কুকট?”

ট্রেডমার্কম ডাবল নাকি ট্রিপল এক্সেল টিম্বারল্যান্ড সুতি হাওয়াই চেক শার্ট, খাকি ডেনিম পড়া বিশাল বপু ফিল, মুখভর্তি ধোঁয়া রুমের মধ্যে উগড়ে দিয়ে টেবিলে সাজানো মিষ্টির প্যাকেট দেখে আঁতকে উঠতেই , জানালো গিউসি

আজ বিকেলে বাইরে মরুঝড় উঠলেও, এখনি অফিসের ভেতরে এ হল সেলিমের বাংলাঝড়!”

আরে দূর এ আর কী? আমাদের দেশে তো যে কোন উসিলাতেই মনে মনে রসগোল্লা বিলায় মানুষ। তা আর পারলাম কই? জাস্ট ট্রায়িং টু বি রোমান ইন রোম। হাসতে হাসতে চোখ টিপে, “গট ইট।” বলেই ফিল এসময় একটা বাক্স খুলে ল্যাংচা মুখে তুলে নিতেই দিলাম তাড়া গিউসিকে, উদ্বোধন তো হয়ে গেল। তুমি আর বসে আছো কেন?

এরপর, দুপুর বারোটা পর্যন্ত যখন ঢুকেছে যে অফিসে, সেই এসেছে মিষ্টি চাখতে আমার হুজরায়। অন্যদিকে একে একে সবাই বাড়ির পথ ধরেছে বারোটার আগেই। তবে রুম থেকে বেরিয়ে পার্কিংলটের দিকে এগিয়েছি আমি কাটায় কাটায় বারোটায়। এখন রাস্তায় উঠেই বুঝলাম, বেড়েছে বাতাসের বেগ ঢের। ঝকঝকে মরু দুপুরের রোদেকে জড়িয়ে ধরেছে কেমন যেন ধোয়াটে কালচে বাদামি চাদর। মনে হচ্ছে নামছে রিয়াদের বুকে অকাল এক ভুতুড়ে সন্ধ্যা । ছুটছে সব গাড়ী উর্ধ্বশ্বাসে। ছুটছে আমারটাও বরাবরের চেয়ে ঢের বেশী স্পিডে।

লেখক : ভ্রমণসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপরিবার বনাম ডিভাইস
পরবর্তী নিবন্ধরমজান ও সামাজিক ন্যায়বোধ