শব্দ হলো, বোমা ফাটার মতোই। আক্ষরিক অর্থেই শব্দ হল। অথচ এমন হওয়ার কোন কারণ আছে বলে মনে করিনি। অবশ্য, এখানে আসার পর থেকেই দেখছি, এখানে কাজের চেয়ে আওয়াজ বেশী। ব্যবসাবাণিজ্য হোক কিম্বা হোক তা মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ভাল মন্দ, আনন্দ বেদনা, জয় পরাজয় এসব চলে হাত ধরাধরি করেই।
যদিও ঘটনা ঘটে প্রায়ই একই, সর্বত্র। তারপরও এখানে ভাল কিছু ঘটলে, উচ্চ নিনাদে হৈ চৈ কলরব তুলে, এখানকার যদু, মধু, রহিম করিম, নরেশ পরেশ, সকলেই যেমন তারস্বরে কৃতিত্ব দাবি করে; তাতে প্রায়শই জন এফ কেনেডির বলা কথাকে একটু বদলে আমিও যে আওড়াই সাকসেস হ্যাজ ম্যানি ফাদারস, ফেইলিউর ইজ অরফান; মানে সফলতার বাবার অভাব নাই কিন্তু ব্যর্থতা একদম এতিম, পিতৃমাতৃহীন, ঐ কথাটি মরুর কাঠফাটা রোদের মতই সত্য মনে হয়, অধিকাংশ সময়।
হ্যাঁ, কোন ব্যর্থতারই দায় নেয় না কেউ ভুলেও এখানে। অবশ্য তুমুল প্রতিযোগিতামূলক কর্পোরেট জগতে, ব্যর্থতা ক্ষমাহীন কবিরা গুনাহই। আর হয় যদি তা ইউরোপিয়ান বা আম্রিকান কর্পোরেট সংস্কৃতি, তবে তো কথাই নাই। তথাকথিত উন্নত বিশ্বে, ব্যক্তির বিজয়রথই সদম্ভে মাড়িয়ে যায় সমষ্টিকে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এরকম মনোভাব মোটেও যে স্বাস্থ্যকর নয়, ঐ প্রথম বিশ্বেরই কর্পোরেট বুদ্ধিজীবীরাই বুঝেছেন তা। নতুন কিছু করতে গেলে বেশীরভাগ সময়ই যে আসে তা, অনেক ব্যর্থতার ঔরস ঘুরেই, এ সত্য হৃদয়ঙ্গম করেছেন তাঁরা। মানেন তাঁরা তাই প্রতিযোগিতায় জিতে সামনে এগুতে হলেও যে শিখতে হবে প্রতিনিয়ত, নানান হোঁচট খাওয়া ব্যর্থতা থেকেও। শুধু বলেন যে, মাথায় রাখতে হবে যাতে একই ভুল বা ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়। সেই জেরে বেশ অনেকদিন ধরেই আমাদের কোম্পানির নানান দেশের অপারেশনে এটি অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, সব ভুলেই বা যে কোন ব্যর্থতাতেই চালানো যাবে না কর্পোরেট চাবুক। কাজ করতে গেলে ভুল হবে। ব্যর্থও হবে মানুষ। ভালো নেতার কাজ হবে, কারো শুধু ভুল বা ব্যর্থতাকে চেপে রেখে নতুন কিছু করার চেষ্টাকে উৎসাহিত করা। কারণ মহামতি আইনস্টাইনই তো নাকি বলেছিলেন, একই কাজের একইরকম পুনরাবৃত্তি করে নতুন ফল আশা করাটাই হল আসল পাগলামি।
অথচ এই মরুতে আসার পর থেকে দেখছি, বেশির ভাগেরই কাজকর্ম ও আচরণ বলছে, সর্বক্ষণ ঢেরা পিটিয়ে, ভুল স্বীকার করে বা ব্যর্থতার দায় নেয় উন্মাদই শুধু। অতএব কোন কাজে উল্টাপাল্টা কিছু ঘটলেও, আর সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে উচ্চকণ্ঠেয় ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করে ব্যাপারটা। করেছিল কিছুদিন আগেও যেমন আফিফি, আমার সাথে।
ঘটনা হচ্ছে, আফিফি সে সময় সৌদির বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট বিশেষজ্ঞকে নিয়ে মক্কায়, তথাকথিত এক বৈজ্ঞানিক মিটিং করতে গিয়েছিল। সেই সেমিনার আয়োজনে, তার খামখেয়ালিপনা বা অসতর্কতায় লেগেছিল ভজঘট। তাতে বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল সম্মানিত সেই বিশেষজ্ঞদের। অথচ ও অফিসে ফেরার পর যখন জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেমন হয়েছে সব? বড় গলায় উত্তর দিয়েছিল– “আলহামদুলিল্লাহ ডঃ সেলিম, এভ্রিথিং ওয়াজ ফাইন!”
এরপর আসল ঘটনা কানে আসার পর তাকে সে ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেই, নানানজনকে সে দোষারোপ করেছিল, অবলীলায়। নাহ, এরা যে প্রায়শই নতুন কিছু করার চেষ্টা করে তারপর ভুল করে বা ব্যর্থ হয়, ব্যাপার মোটেও তা নয়। আবার পুরানো কাজ পুরানো নিয়মে করলেও যে কারো ভুল হবে না, এমনও তো বলা যাবে না ঠিক সত্যি করে। বিষয় হচ্ছে, কেউ যদি কোন কাজের দায় পুরোপুরি না নেয়, তবে ভুল যে হবে নৈমিত্তিক কাজেও, সেটাই সত্য। এক্ষেত্রে কর্পোরেট বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শ হল, টেকসই সিস্টেম, প্রসেস দাঁড় করানো। তাতে নৈমিত্তিক ঘটনায়, ভুল কমে। কিন্তু তাতেও বড় বিষয় হল, দায়িত্ব নিতে হবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে। নিতে হবে সফলতা এবং ব্যর্থতা দুটোরই দায়িত্ব। কিন্তু দেখি হায় এখানে সবাই বড়ই একচোখা। যেমন, আমাদের রিয়াদ এবং দাম্মাম অফিসের স্টোরে, চিকিৎসকদের উপহার হিসেবে কেনা, প্রতিটি ৪/৫ হাজার টাকা দামের ক্রস কলমের প্রায় শ’তিনেক, বছরখানেকের উপর পড়ে থাকতে দেখে, সেটি কেনা হয়েছিল যে প্রডাক্টের বিপরীতে সেটির ম্যানেজার, মোহাম্মদ হাশিশকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ওগুলো ওভাবে পড়ে আছে কেন? বলেছিল সে, “ওগুলো তো ব্যবহারযোগ্য নয়।” কেন তা ব্যবহারযোগ্য নয়? আমি তো দেখলাম কলমগুলো লিখছে চমৎকার। ‘বুঝলে না ড. সেলিম, কলমগুলোর গায়ে যে ডাক্তারদের নাম লেখা হয়েছে, তাতে বানান ভুল আছে। তাই ওগুলো দেয়া যাচ্ছে না।’ নাম ভুল হল কিভাবে?
“তা আমি জানি কিভাবে? সেলসের লোকজনদের কাছে নাম চেয়েছিলাম, তারা যা দিয়েছে তাই তো ছাপিয়েছে সাপ্লায়ার।” এ কেমন কথা বলছ তুমি? এর কোয়ালিটি কন্ট্রোল করার দায়িত্ব কার, বল তো শুনি? এতে হাশিশ কামান দেগেছিল, স্ট্রাটেজি ডিপার্টমেন্টের ইসামকে লক্ষ্য করে। বলছিল, নাম নিয়েছে সে ইসামের সিস্টেম থেকে, অতএব দোষ ইসামের। ইসাম হল আমাদের কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজম্যান্টের যাবতীয় তথ্যের হর্তাকর্তা । ফলে করেছিলাম ফোন তাকে। উত্তর পেয়েছিলাম ইসামের “আমি বা আমার লোকরা কি জানে না কি কোন ডাক্তারের কী নাম? ওটা সেলসের লোক যা দিয়েছে, তাই লেখা হয়েছে।”
শুনে এরপর ধর্না দিয়েছিলাম সেলস হেড খলিলের কাছে। খলিল তার লোকজনদের ডেকে ঐ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেই তাদের কেউ কেউ তীর ছুড়তে শুরু করেছিল ঐ ইসামের দিকে তো অন্যেরা ছুড়তে শুরু করলো শক্তিশেল প্রডাক্ট ম্যানেজার হাশিশের দিকে।
অর্থাৎ পড়ে গিয়েছিলাম এক্কেবারে মরুর চোরাবালিতে। এদিকে ওতগুলো টাকার ওভাবে নষ্ট হওয়াটাও হজম করতেও পারছিলাম না। ফলে হাশিশকে বলেছিলাম, ওই কলমগুলো থেকে দশটা কলম নিয়ে, তাতে নামের বানান যা আছে, সে গুলো প্রথমে মেলাবে সে ইশামের ডাটাবেজের সাথে। তারপর মেলাবে সেলস থেকে ইসামকে যে লিস্ট দেয়া হয়েছিল সেটির সাথে। তাতে সে যা পাবে তা নিয়ে একটা রিপোর্ট দেবে আমাকে। সময় একদিন। তো সে মোতাবেক একদিন পর যে রিপোর্ট দিয়েছিল হাশিশ, তাতে দেখলাম লেখা “১০ টা কলমের মধ্যে ৪ টার নাম সিস্টেমে আর কলমে একই আছে, তারপরও যেহেতু ওগুলো ভুল, তাহলে ভুলটা অবশ্যই ইসামের। ২টার নাম মিলেছে সেলসের দেয়া লিস্টের সাথে, কিন্তু এখন যেহেতু বলছে ওরা ঐ নাম ভুল, তবে এর দায় সেলসের। আর ৪টার নাম সিস্টেমে আর সেলসের দেয়া লিস্টে একই থাকলেও ছাপা হয়েছে ভিন্ন। অতএব এখানে দায়ী সাপ্লায়ার।”
রিপোর্ট পড়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আখেরে ক্ষতি হল কার? এই তিনের ভুলের চক্করে পড়ে টাকাটা তো নষ্ট হল তোমার, তাই না? শুনে হাশিশ এমনভাবে তাকিয়েছিল আমার দিকে যার বাংলা অনুবাদ হয়, “আরে বস তুমি তো দেখছি এক মহাবেকুব? টাকা তো গেছে কোম্পানির!” মনে মনে তাতে হাসি এবং দুঃখ দুটোই পেয়ে ভেবেছিলাম, আচ্ছা ঠিক আছে। বিজনেস প্রসেস নিয়ে কাজ তো করছি, সবই ঠিক হবে। তবে মুখে বলেছিলাম, শোন এইরকম কোন ভুলের পুনরাবৃত্তি আমি চাই না। এখন গিয়ে চিন্তা করো, কিভাবে এড়ানো যায় এরকম ভুল। না হয় আমি তো আছিই–
এরকমই হালে আরেকটা ব্যাপার নজরে আসার পর একইরকম খাবি খাচ্ছিলাম ঐ ঘটনায় “দায়ী কে” তা নিয়ে। সপ্তাহখানেক আগে জেনেছিলাম, ছ’মাস আগে পরিকল্পিত এক সেমিনারে চল্লিশজন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে বার্সেলোনায় যাওয়ার কথা আহমেদ রাদি ও সাদেক খাপাগার। সে অনুযায়ী বিজনেস ক্লাস টিকিটি, হোটেল বুকিং সবই করা হয়েছিল। কিন্তু যেদিন যাওয়ার কথা সেদিন, ১৭ জন বিশেষজ্ঞের টিকিটিরও দেখা যায়নি এয়ারপোর্টে !
এ শুনে মাথা তো আমার এক্কেবারে চক্কর দিয়ে উঠেছিল। অতএব লেগে পড়েছিলাম কারণ অনুসন্ধানে।
উত্তর এসেছিল তাতে, “স্পেনের এম্ব্যাসি ভিসা না দিলে আমরা কী করবো?” এ তে পাল্টা প্রশ্ন করেছিলাম, তা ভিসা যে পাননি তারা, সে খবর নিয়েছিলে কী? উত্তর ছিল “ওটা তো সেলসের ব্যাপার আর ট্রাভেল ডেস্কের লোকের কাজ !”
তাতে এক্কেবারে যাকে বলে তব্দা লেগে যাওয়া, হয়েছিল তাই আমার। নতুন নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি আর ঔষধের আবিষ্কারক হিসেবে, ঐ নতুন ঔষধ ও চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যাপারে নানান সেমিনার সিমপোজিয়াম আয়োজনের মধ্য দিয়ে ডাক্তারদের শিক্ষিত করে তোলা, আমাদের মার্কেটিঙয়ের অন্যতম উপায়। তাতেই নূতন আবিষ্কারের উপকার যেমন পৌছায় বৃহত্তর মানব সমাজে, তেমনি এরই মাধ্যমে হয় কোম্পানির ব্যবসার মোক্ষ লাভ। ব্যবসার হিসাবে বাংলাদেশের ব্যবসার যে আকার, তাতে কোম্পানির ম্যাপে আমার দেশের অবস্থান অতি নগণ্য। তাই এসব বিষয়ে আমাদের মার্কেটিং বরাদ্দ এতোটাই কম যে, তা দিয়ে সারাবছরেও জনা দশেক বিশেশজ্ঞকেও যদি পাঠাতে পারতাম বাংলাদেশ থেকে বিদেশের সেমিনার সিম্পজিয়ামেই, তাতেই বর্তে যেতাম। আর এখানে কি না এক সেমিনারেই, নো শো হয়েছে ১৭ জন! অথচ এ নিয়ে কারোই নেই কোন বিকার! হজম করতে পারছিলাম না ঘটনাটা। ফলে ঐরকম অঘটন ভবিষ্যতে কিভাবে এড়ানো যায় সে ব্যাপারে সেদিন সন্ধ্যায় মিশরি ক্যাফেতে মোহাম্মেদ আল গা’রের সাথে আড্ডা মারার সময় জানতে চেয়েছিলাম তার মত। তাতে জেনেছিলাম, সৌদি আরব থেকে কোন প্রবাসিকে অন্যদেশে যেতে হলে, তাকে ঐ দেশের ভিসা পেলেই শুধু চলবে না। একই সাথে সৌদি ইমিগ্রেশন থেকে নিতে হবে তার, সৌদি থেকে বেরুবার এবং ফের ঢোকার সৌদিতে ঢোকার অনুমতিপত্রও। নাম হল সেটির এক্সিট ও রিএন্ট্রি ভিসা। আর সেটি পেতে হলে, প্রথমেই সংশ্লিষ্ট ভ্রমণকারীকে পেতে হবে তার নিয়োগকর্তার, নো অবজেকশন সার্টিফিকেট। আর তিন ধাপের এই গোটা প্রসেস শেষ করতে অনেক সময়ই লেগে যায় মাস খানেকেরও বেশি।
গা’রের কাছ থেকে সৌদিতে কাজ করতে আসা বিদেশীদের বিদেশ ভ্রমণবিষয়ক এই গুঢ়তত্ত্ব জানার পর, ছ মাস আগে ৪২ জনের ঐ কাফেলাটির ভ্রমণটির পরিকল্পনায় ইংরেজিতে যাকে বলে ফলো আপ, সেটির প্রকট ঘাটতি চোখে পড়েছিল। তাই দিতে পারি এখন আমি সেটির তাৎক্ষণিক নিদান। কিন্তু ঠিক করেছি দেব না তা আমি। বরং এরকম ক্ষমাহীন অপচয় রোধের উপায় বের করার দায়িত্ব দেব, আমারই তৈরি করা কষ্ট অপটিমাইজেশন টিমকেই, যার প্রধান বানিয়েছি রাদিকে।
সে যাক, শুরু করেছিলাম কথা বোমা ফাটার শব্দ নিয়ে।ফেরা যাক সেই প্রসঙ্গে। বিষয় হচ্ছে আজ অফিসে আসার পরপরই, বস ফিল তার রুমে ডেকে, বরাবরের অভ্যাসমাফিক একরাশ সিগারেট ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে আমার দিকে তার সিগারেটের প্যাকেট ঠেলে দিতে দিতে কোন ভূমিকা না করেই বলেছিল-“আই নো ইউ ক্যান ডু ইট। সো আই অ্যাম পুটিং টু হ্যাটস অন ইউর হেড, সেলিম। আজই আমি ঘোষণা দিতে যাচ্ছি যে চিফ মার্কেটিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বের সাথে তুমিই হবে আমাদের হেড অব স্ট্রাটেজি।” শুনে সিগারেটে দম দিতে দিতে বলেছিলাম, শোন এ আমি কিছুটা তো আঁচ করতেই পারছিলাম। আর বাংলাদেশের ব্যবসা ছোট হওয়ায়, ওখানে তো একজনকেই তিনজনের কাজ করতে হয়। তাই কিছুটা হরফুন মৌলাই, আমরা বাঙ্গালিরা। এরপর ফিল হাসতে হাসতে, কোম্পানির সবাইকে ঐ মেইল করতেই শুরু হয়েছিল সেই তুমুল কলরব! সারাদিন ধরেই কোম্পানির নানান জন– “ইয়াল্লা, ডঃ সেলিম কনগ্রাচুলেশনস! মারহাবা! মাব্রুক! মোবারাক! বারাক আল্লাহু ফিক!” ইত্যাকার শব্দের বিচিত্র সব ধ্বনিতে সরগরম করে রেখেছে আমার রুম, আর করিডোর। আবার দাম্মাম, জেদ্দার সহকর্মীরা পাঠিয়েছে ই মেল। ফলে সারদিন কাজই করতে পারিনি।
একটু আগে পাওয়া অবসরে ভাবছিলাম তাই, আচ্ছা এতদিন যে আনঅফিসিয়ালি ঐ ডিপার্টমেন্টের দেখভাল করলাম, তা কি এরা কেউ দেখতে পায়নি? আর দেখেই যদি থাকে তবে তা থেকে তারা কি কিছু বোঝে নি?
নাহ ঐ ভাবনা আমার শেষ হতে না হতেই “হাই সেলিম, মাব্রুক আক ওয়াজিফাহ” বলতে বলতে, সাদা তোব থেকে ভুর ভুর বের হওয়া আতরের তীব্র সুগন্ধে রুম ভরিয়ে, বরাবরের মতো তোবের ডান হাতায় লাগানো মঁ ব্লা কাফ লিং আর কব্জির রোলেক্স ঘড়িটি নাকের সামনে নাড়িয়ে টেবিলের ওপাশ থেকে বাড়ালো হাত, আমাদের পাবলিক রিলেশনস ম্যানেজার সৌদি রাইদ সাইদ!
লেখক : ভ্রমণসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক











