অডিও কেলেঙ্কারির পর প্রতিমন্ত্রিত্ব ও দলীয় পদ হারানো মুরাদ হাসান গতকাল মধ্যরাতে দেশ ছেড়েছেন। তিনি চুপিসারেই ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ওঠেন, তার গন্তব্য কানাডা। এর আগের চার দিন ধরে অগোচরে থাকা মুরাদকে গতকাল রাত ৯টার দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ রজনীগন্ধায় দেখা যায়। ইমিগ্রেশন পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা তখন বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সংস্থাকে বিষয়টি জানিয়েছি, উনার বিষয়ে কোনো এমবার্গো (নিষেধাজ্ঞা) রয়েছে কি না? কোনো এমবার্গো না থাকলে ইমিগ্রেশন করে দিতে হবে। তিনি এখন এয়ারপোর্টে রয়েছেন।’ তখন জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের দুবাই হয়ে কানাডার টরন্টোর যে ফ্লাইট রয়েছে, ওই ফ্লাইটের টিকেট মুরাদের রয়েছে। এরপর মুরাদ নির্বিঘ্নেই ওই ফ্লাইটে ওঠেন; এসময় জিন্স প্যান্ট ও ব্লেজার পরা মুরাদের ডান হাতে ছিল মেরুন রঙের একটি হ্যান্ড লাগেজ, বাম হাতে ধরা ছিল পাসপোর্ট, কাঁধে ছিল একটি চামড়ার ব্যাগ। এমিরেটসের এই ফ্লাইটটি কিছুটা দেরি করে রাত ১টা ২১ মিনিটে শাহজালাল বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। খবর বিডিনিউজের। এর আগে মুরাদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হলেও তার দেশত্যাগে কোনো বাধা নেই বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছিলেন। মুরাদ গত সেপ্টেম্বরেই কানাডা সফর করেছিলেন। তখন অটোয়া, টরন্টো, মন্ট্রিল, কুইবেক, ভ্যাংকুভার মিলিয়ে সপ্তাহ খানেক সে দেশে ছিলেন তিনি। কানাডা থেকে ফিরে অক্টোবরেই আবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন মুরাদ।
অডিও কেলেঙ্কারির পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত মঙ্গলবারই তথ্য ও সমপ্রচার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন মুরাদ। এরপর আওয়ামী লীগে পদ হারালেও তার সংসদ সদস্য পদ এখনও বহাল রয়েছে। সমপ্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনিকে নিয়ে বর্ণ ও নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে সমালোচনায় পড়েন মুরাদ হাসান।এরপর চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে তার অশালীন আচরণের একটি অডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেত্রীদের নিয়ে মুরাদের অশালীন বক্তব্যের আরেকটি অডিও।
এরপর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে মুরাদের বিদায় ঘণ্টা বেজে যায়। সোমবার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, মুরাদকে পদত্যাগ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার থেকেই অগোচরে থাকা মুরাদ পরদিন তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন তার দপ্তরে। এরপর সেদিনই তা গৃহীত হয়। এরমধ্যে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি থেকেও মুরাদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মুরাদকে নিয়ে প্রশ্নে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘এগুলো (মুরাদের বিদেশ যাওয়ার খবর) আমার জানা নেই। উনি বিদেশ যাবেন, নাকি স্বদেশে থাকবেন, সেটা তার ব্যাপার। এ ব্যাপারে আমাদের কিছু বলার নেই।’












