দেশে ধর্ম দিয়ে কাউকে বিচার করা হবে না : তারেক রহমান

জনসভায় এক দল আরেক দলের বিপক্ষে কথা বললে জনগণের কোনো লাভ হবে না

| রবিবার , ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ

জনগণের সমর্থন, ভালোবাসা ও শক্তির ওপর ভর করে বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে আপনাদের প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা ও সমর্থন দরকার। প্রিয় ভাইবোনেরা আপনারা কি এমন বাংলাদেশ চান? তাহলে আমি সকলের কাছে ধানের শীষের পক্ষে সমর্থন চাই। তিনি বলেন, ২৪ সালে অভ্যুত্থান দিয়ে দেশকে রক্ষা করেছি। এখন দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা দেখিনি যে কে কোন ধর্মের, ২৪এও একই। তিনি আরও বলেন, এই দেশে হাজার বছর ধরে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে, আগামীতেও তাই হবে। এই দেশে ধর্ম দিয়ে কাউকে বিচার করা হবে না। খবর বাসসের।

তারেক রহমান বলেন, আমরা জনগণের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি। জনগণের সমর্থন, ভালোবাসা ও জনগণের শক্তিতে বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সাধারণ ও খেটেখাওয়া মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে। নিরাপদে ব্যবসাবাণিজ্য ও চাকরি করতে পারবে। এ সময় বিএনপির চেয়ারম্যান আরও বলেন, খালেদা জিয়া বলতেন যে বাংলাদেশ ছাড়া তার আর কোনো ঠিকানা নেই। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী বিশ্বাস করে, বাংলাদেশই তাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা। আর এ জন্য আমরা জনগণের সামনে দাঁড়িয়েছি। আমরা জনগণের শক্তিতে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই।

তিনি বলেন, আমরা চাই এমন বাংলাদেশ, যেখানে মাবোনেরা নিরাপদে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, নিরাপদে পথে চলতে পারবে। যেখানে শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা সুন্দর শিক্ষা ব্যবস্থা পাবে। যেখানে পড়াশোনা শেষে তরুণরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, বেকার থাকতে হবে না। তারেক রহমান আরও বলেন, আমরা চাই এমন বাংলাদেশ, যেখানে কেউ ন্যূনতম চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না।

একইসঙ্গে ঠাকুরগাঁওবাসীর দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব আমাকে জানিয়েছেন, এই এলাকার এয়ারপোর্টের কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। বিএনপি আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনের পর সরকার গঠন করলে যত দ্রুত সম্ভব আমরা এই এয়ারপোর্ট চালু করব। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে চিনিকল, রেশন কারখানা ও চা শিল্প গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। এর পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওয়ে একটি ক্যাডেট কলেজ স্থাপন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণ ও একটি আইটি পার্ক স্থাপনের প্রতিশ্রুতিও দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনী জনসভায় এক দল আরেক দলের বিপক্ষে কথা বললে জনগণের কোনো লাভ হবে না। জনগণ জানতে চায়, আমরা মানুষের জন্য কী করব। এ জন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। এ সময় তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু দেশের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের নির্বাচন নয়। এবারের নির্বাচন হবে দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন।

বিএনপি’র চেয়ারম্যান বলেন, গত এক যুগ ধরে দেশের মানুষ রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। কথা বলার স্বাধীনতা পায়নি। একইভাবে অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ থেকেও তারা পিছিয়ে পড়েছে। তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়নি। নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড শক্তিশালী করতে যে সহায়তার দরকার ছিল, তা দেয়নি বিগত স্বৈরাচার সরকার। তিনি বলেন, আজ সময় এসেছে। আমরা ১২ তারিখের নির্বাচনে যেমন জনগণের প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করব। একইভাবে আমরা দেশ পুনর্গঠনের কাজে হাত দিবো।

নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, কৃষকদের ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ মওকুফ, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ক্ষুদ্র ঋণ সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিশোধ, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে কৃষি ভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। দেশকে খাদ্যে স্বাবলম্বী করতে চাই। বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। আমরা মাবোনদের শিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিএনপি এককভাবেই সরকার গঠনে সক্ষম হবে : তারেক
পরবর্তী নিবন্ধহজ ভিসা মিলবে আজ থেকে