বাংলাদেশে মনুষ্যবিহীন আকাশযান বা ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপনের জন্য চীনের একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয় বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর– আইএসপিআরের এক ফেইসবুক পোস্টে বলা হয়েছে। সেই পোস্টে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে চুক্তির (জিটুজি) আওতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সঙ্গে চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ কর্পোরেশন ইন্টারন্যাশনালের (সিইটিসি) ড্রোন বা ইউএভি তৈরি ও সংযোজন কারখানা স্থাপন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। খবর বিডিনিউজের।
আইএসপিআর বলেছে, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং সিইটিসি ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে বাংলাদেশে একটি অত্যাধুনিক ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজন সুবিধা স্থাপন করবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্প–দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, যা দীর্ঘমেয়াদে ইউএভি উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে সহায়ক হবে।
বিমান বাহিনী প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন ধরনের মাঝারি উচ্চতা, কম সহনশীলতার ইউএভি এবং ‘ভার্টিক্যাল টেইক অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং’ (রানওয়ে ছাড়া সরাসরি উড্ডয়ন ও অবতরণ) ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজনের সক্ষমতা অর্জন করবে। এছাড়া বিমান বাহিনী তাদের নিজস্ব ইউএভি এই প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদন করবে। এই ইউএভিগুলো সামরিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
আইএসপিআর বলছে, এই চুক্তির ফলশ্রুতিতে দেশীয় ইউএভি উৎপাদনে পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে সক্ষমতা সম্প্রসারিত হবে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। একইসঙ্গে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় এবং দক্ষ মহাকাশ কর্মশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতীয় প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতেও উল্লেখ্যযোগ্য অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।












