নির্মাণ কাজ শুরুর দেড় বছরের মধ্যে ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পাঁচ বছরেও তা শেষ করতে পারেনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। গাফিলতির কারণে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
জানা যায়, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার পাবলাখালি শান্তিপূর্ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে ৪ ফেব্রুয়ারি। শ্রেণি সংকট দূর করতে পাঁচ শ্রেণিকক্ষ বিশিষ্ট পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরুর এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কার্যাদেশ পাওয়ার ৫৪৬ দিন বা দেড় বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। অথচ এরপর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় শ্রেণিকক্ষ সংকটে পাঠদান দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ৪শ শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য ১৫টি শ্রেণিকক্ষ থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র চারটি কক্ষ। বেশি বিপাকে পড়েছে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। কক্ষ সংকটে বিভাগ ভিত্তিক পাঠদান করাতে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষকরা।
শান্তিপূর্ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান মিনহাজ ও মো. নাইম ইসলাম জানায়, আমরা ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সময় বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এখন আমরা ক্লাস টেনে উঠেছি কিন্তু এখনো নতুন ভবনের কাজ শেষ হয়নি। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে লাইব্রেরিতে ক্লাস করতে হয়। বর্ষার সময় বৃষ্টি পানি পড়ে। আমরা ক্লাস করতে পারি না। এছাড়া বিভাগ ভিত্তিক ক্লাস করতে হিমশিম খেতে হয়।
বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রত্যয় চাকমা বলেন, আমাদের ক্লাসে ৯২ জন শিক্ষার্থী আছে। এই কক্ষে আমাদের পড়তে অসুবিধা হয়। নানা রকম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। গাদাগাদি করে বসতে হয়। নতুন ভবনের কাজ তাড়াতাড়ি শেষ হলে আমরা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারব।
পর্যাপ্ত ক্লাসরুম না থাকায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষকরা। দ্রুত সময়ে ভবন নির্মাণের কাজ শেষ করে পাঠদান উপযোগী করে তোলার দাবি শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শশাঙ্ক চৌধুরী বলেন, আমাদের ক্লাস নিতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। অন্তত ১৫টি ক্লাসরুম দরকার। কিন্তু আছে মাত্র চারটি। আরেক সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ভবনের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। এ অবস্থা চলতে পারে না। ক্লাসরুম সংকটের কারণে আমাদের অনেক সময় গাছতলায় ক্লাস করাতে হয়। এখানে বিভিন্ন ধর্মের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে কিন্তু আলাদা করে ক্লাস নেওয়ার সুযোগ নাই।
পাবলাখালি শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জ্ঞান চাকমা বলেন, ২০১৯–২০ অর্থ বছরে কাজ শুরু হয়েছে কিন্তু এখনো নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। আমরা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানিয়েছি। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত নেয়নি। এলাকার মানুষের দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে যাতে নির্মাণ কাজ শেষ হয়।
২০১৯–২০ অর্থবছরে ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ পায় বান্দরবানের ঠিকাদার ইউটিমং। তবে কাজটি বাস্তবায়ন করবে থং মারমা নামে খাগড়াছড়ির আরেক উপ–ঠিকাদার। থং মারমা দাবি করেন, শ্রমিক সংকেটর কারণে নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেননি। নতুন শ্রমিক এনে শেষ করা হবে।
এদিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, ইতোমধ্যে প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থও উত্তোলন করে নিয়েছে ঠিকাদার। খাগড়াছড়ি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রিসলি চাকমা বলেন, ঠিকাদার যদি আমাদের বারবার ফাঁকি দেয় আমরা কি করব? তাকে তো ধরে কাজ করাতে পারব না। সে যদি কাজ না করে আমাদেরকে হার্ডলাইনে যেতে হবে।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে কাজ শেষ না করলে তাকে কালো তালিকাভুক্তি করা হবে। তবে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে প্রধান প্রকৌশলী।












