চট্টগ্রামের ১৬ জনসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২১ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে দুজনের গেজেট প্রকাশিত না হলেও তারা ঢাকায় পৌঁছেছেন। সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনকে কেন্দ্র করে রাজধানী যেমন সরগরম, তেমনি চট্টগ্রামেও আছে প্রত্যাশা। প্রত্যাশা ঘিরে চলছে আলোচনা। রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানামুখী সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা। চট্টগ্রাম থেকে কে কে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাচ্ছেন, কে কোন মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন, কার ভাগ্যে জুটছে প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর দায়িত্ব–এসব নিয়েই চলছে আলোচনা। চায়ের কাপ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সর্বত্র আলোচনার ঝড়।
চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পখাতের অন্যতম কেন্দ্র হওয়ায় এখানকার প্রতিনিধিদের ঘিরে প্রত্যাশাও বেশি। বন্দর, অবকাঠামো, শিল্পায়ন, পর্যটন ও যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রামের শক্ত অবস্থান চান স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বন্দর নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, পাহাড় ও উপকূলঘেঁষা জনপদের অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ– এসব বিষয় সামনে রেখে অনেকে আশা করছেন, এবার মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে বেশ কয়েকজনই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসতে পারেন।
চট্টগ্রাম বিএনপিকে উজাড় করে দিয়েছে। বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২১টি আসনের মধ্যে ১৯টিতে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। এতে করে বিএনপি সরকারের কাছে চট্টগ্রামের মানুষের প্রত্যাশাও অনেক বেড়ে গেছে। অবশ্য অতীতে এই চট্টগ্রাম থেকে বিএনপি জোট সরকার ৮ জন মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী করার রেকর্ড রয়েছে।
চট্টগ্রামের অলিগলি থেকে রাজপথ, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অফিস ও বাসা থেকে চায়ের দোকান–সবখানে এখন একই আলোচনা। চলছে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নাম নিয়ে হিসাব–নিকাশ। মেলানো হচ্ছে নানা সমীকরণ। গতকাল বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম–১১ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে দেওয়া হয় আলাদা গুরুত্ব। বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য তারেক রহমান নিজেই মাইক এগিয়ে দেন। বিষয়টিও চট্টগ্রামের রাজনীতিসচেতন মানুষের নজর কাড়ে। আলোচনা শুরু হয়, তাহলে আমীর খসরু চৌধুরীই কি ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হচ্ছেন?
শুধু খসরু নন, নাম আসতে শুরু করেছে আরো কয়েকজনের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভেসে বেড়াচ্ছে নানা ‘সম্ভাব্য তালিকা’। কেউ কেউ পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার খসড়াও প্রকাশ করছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে দলীয় উচ্চ পর্যায়ের কৌশল, আঞ্চলিক ভারসাম্য, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার উপর।
বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২১ সংসদ সদস্যের মধ্যে অভিজ্ঞ ও নবীন দুই ধারার প্রতিনিধি রয়েছেন। ফলে অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভায় নতুন চমক আসতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে বিগত সময়ে দলের প্রতি আনুগত্য, রাজনৈতিক নিপীড়ন, ত্যাগ, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থা ও সাংগঠনিক ভূমিকা প্রভৃতি বিষয়ও মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের মানুষের দৃষ্টি এখন ঢাকায়। শপথের আনুষ্ঠানিকতা শেষে যখন গঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভা, তখনই স্পষ্ট হবে কারা পাচ্ছেন দায়িত্বের ভার। শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন মন্ত্রী, কে প্রতিমন্ত্রী, আর কে থাকছেন অপেক্ষার তালিকায়, তা জানতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বন্দর নগরীসহ পুরো বৃহত্তর চট্টগ্রাম।












