দুর্বল থাকায় অন্তর্বর্তী সরকার মব নিয়ন্ত্রণে সফল হতে পারেনি বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ–মার্ক সেরে–শারলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে মন্ত্রী এ দাবি করেন বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন দিয়ে বিদায় নেওয়া মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দেড় বছরে মব তৈরি করে হত্যা, মাজার ভাঙচুর, কবর থেকে লাশ তুলে পোড়ানো, মেয়েদের ফুটবল খেলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধ, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়, ছায়ানট ভবন ও উদীচী কার্যালয়ে হামলা এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। খবর বিডিনিউজের।
ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দুর্বল থাকায় তারা মব নিয়ন্ত্রণে সফল হতে পারেনি, তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তেমন কোনো মবের ঘটনা ঘটেনি। সরকার কোনো ধরনের মব বা বিশৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না।
রাজনৈতিক দলগুলো নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে সভা–সমাবেশ ও গণতান্ত্রিক মত প্রকাশ করতে পারবে বলে তুলে ধরেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে বলেন, আমরা পুলিশ সংস্কারে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করছি। তবে এই উন্নয়ন রাতারাতি সম্ভব নয়। আমরা ধারাবাহিক বা পর্যায়ক্রমিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে চাই। র্যাবের সংস্কার বিষয়ে তিনি বলেন, যে–কোনো রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে একটি এলিট ফোর্সের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। র্যাবের নাম সংশোধন এবং বিদ্যমান জনবল ও লজিস্টিকসকে কাজে লাগিয়ে আইনি পর্যালোচনার মাধ্যমে এই ফোর্সটিকে কার্যকরভাবে রাখা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, মব নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাসবাদ দমন, পুলিশের সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, র্যাবের সংস্কার ও পুনর্গঠন, ফরেনসিক খাতে সহযোগিতা, পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র শনাক্ত করাসহ দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতের কাছে দাঙ্গা প্রতিরোধ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফ্রান্সের কারিগরি সহযোগিতা চান। এ লক্ষ্যে তিনি পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট–এটিইউ এবং ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম–সিটিটিসি ইউনিটকে ফ্রান্স দূতাবাসের সঙ্গে সভা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে চায়। সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র শনাক্ত করে দুই দেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে বলে রাষ্ট্রদূত আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিন বলেন, ফ্রান্স ইতোমধ্যে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার পদক্ষেপ নিয়েছে।












