ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির পাতা ধরে টানাটানি না করে এর শিকড় তুলে ফেলার কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজার মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতির পাতা ধরে টানাটানি করব না; দুর্নীতির শিকড় ধরে তুলে ফেলব। নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর হাতেই নারীদের ইজ্জত এবং জনগণের জান ও মাল নিরাপদ থাকবে। এ বিশ্বাস থেকে আজ অসংখ্য নারী জামায়াতের পক্ষে মাঠে কাজ করছেন এবং রাজপথে নেমেছেন। জনসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, কখনো কি শুনেছেন জামায়াতে ইসলামীর কোনো কর্মী চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজিতে জড়িত? যারা এসব অপকর্মে লিপ্ত, জামায়াতে ইসলামী তাদের বিরুদ্ধেই দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে। একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনই এ দলের মূল লক্ষ্য। খবর বিডিনিউজের।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, যে দলের ১১ জন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে, হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে শহীদ করা হয়েছে, আড়াই শতাধিক সহকর্মীকে আয়নাঘরে বন্দি এবং গুম ও খুনের শিকার করা হয়েছে, সে দলটি হলো জামায়াতে ইসলামী। এমনকি নেতাকর্মীদের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সেই দলটির নিবন্ধন ও প্রতীক কেড়ে নিয়ে সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ‘মজলুম’ এ সংগঠনকে শক্তিশালী করতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের আমির।
জামায়াত প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না : দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট আল্লাহ যখন আমাদের মুক্তি দিয়েছেন, তখন আমরা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছি। জননিরাপত্তা রক্ষায় নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালনের কথা বলেছি। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অন্যায় করা হয়েছে সাতক্ষীরায়। দেশের আর কোনো জেলায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়নি। বুলডোজার দিয়ে নেতাকর্মীদের ঘর ভাঙা হয়েছে। তারা কী কোনো অপরাধ করেছিল?
তিনি বলেন, ২০১৫ সালে সাতক্ষীরায় এসেছিলাম। মোটরসাইকেলে ঘুরে ঘুরে দেখার চেষ্টা করেছিলাম। সেদিন ঘুরতে আসিনি। এসেছিলাম দ্বীনদার ও ঈমানদার ৪৫ শহীদের পরিবারের খোঁজ নিতে। তাদের মা–বাবার পাশে দাঁড়াতে এসেছিলাম। যে সকল মা ও বোনদের বিধবা করা হয়েছিল, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলাম। যেসব শিশু বাবাকে হারিয়ে অন্ধকার দেখছিল, চেয়ে চেয়ে দেখছিল, আমাদের বাবা আসছে না কেন? তাদের চোখের পানি মুছিয়ে দিতে এসেছিলাম। যে সকল যুবকের হাত–পা কেটে নেওয়া হয়েছিল, আমি তাদের প্রশ্নের অংশীদার হতে এসেছিলাম। এই বিচার দুনিয়াতে পাব কিনা জানি না, তবে ইনশাআল্লাহ আখিরাতে বিচার পাওয়া যাবে।
বিএনপিসহ অন্য বিরোধী দলও গত ১৫ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিক, আলেম–ওলামাসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অনেক সময় জুলুমের শিকার মানুষই পরে জালিম হয়ে যায়। তাই ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সরকার গঠনে ভোটারদের সমর্থন চান জামায়াত আমির। ‘মদিনা সনদের’ আদলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই তার দলের লক্ষ্য বলে দাবি করেছেন শফিকুর রহমান।
গণভোট নিয়ে তিনি বলেন, ভোট মানে দুটি পথ ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’। ‘হ্যাঁ’ মানে স্বাধীনতা, ‘না’ মানে পরাধীনতা। ‘হ্যাঁ’র পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।











