দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার তদন্তও চান শিক্ষামন্ত্রী

চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ

| শুক্রবার , ২৮ জানুয়ারি, ২০২২ at ৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে নিজের পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এ বিষয়ে তদন্ত চেয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে ঢাকায় সরকারি বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি সেখানে তার নিজের ও পরিবারের কারও জমি নেই দাবি করেন। তিনি এ কার্যক্রমে কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি তদন্তের দাবিও জানান। খবর বিডিনিউজের।

২০২০ সালে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাসের পর জেলা শহর থেকে চার কিলোমিটার দক্ষিণে সদর উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামে ৬০ একরের বেশি জায়গায় এ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে প্রশাসন। এ জন্য জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয় ২০২১ সালের ৬ এপ্রিল। এ ভূমি অধিগ্রহণ নিয়েই জেলা প্রশাসনের একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে শিক্ষামন্ত্রীর পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এতে প্রস্তাবিত জমির দাম কয়েকগুণ বেশি দেখিয়ে সরকারের কাছ থেকে কয়েকশ কোটি টাকা বাড়তি আদায়ে কারসাজির অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে। এমন খবর প্রকাশের পর দীপু মনি এ বিষয়ে কথা বলতে সাংবাদিকদের সামনে আসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সব ধরনের অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি এ খবরকে সামনে নির্বাচনের আগে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দাবি করেন। তবে জমি অধিগ্রহণ ছাড়াও আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে দীপু মনি বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম থামবে না। হয়ত অবকাঠামো নির্মাণ কেউ ষড়যন্ত্র করে থামিয়ে দিতে পারে।

তিনি বলেন, যে জমিতে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কথা সেখানে তার চিকিৎসক বড় ভাই হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রম করার জন্য জমি কিনেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হলে তিনি তা হস্তান্তর করে দেন। অন্য কারও জমি থাকতে পারে, সেগুলো তাদের ব্যক্তিগত বৈষয়িক ব্যাপার। আমার জানা নেই, এখন নাম দেখছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত এলাকায় নিজেদের কোনো জমি নেই দাবি করে তিনি বলেন, আমার ও আমার পরিবারের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কোথাও কোনো সুযোগ নেই। আমার ও আমার পরিবারকে জড়িয়ে করা প্রতিবেদন ভিত্তিহীন, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি ষড়যন্ত্র হতে পারে দাবি করে দীপু মনি বলেন, এখানে কোনো দুর্নীতি হয়নি। উনারা বলতে পারেন দুর্নীতির অভিপ্রায় ছিল। যে জমির দাম বেশি দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের দিক থেকে দুর্নীতির বিষয় আসছে না। অন্য কেউ করছে কিনা, যেকোন পর্যায়ে দুর্নীতি হয়েছে কি নাসরকারের বা রাষ্ট্রের বহু রকমের মেকানিজম আছে। দুর্নীতি হয়েছে কি না খতিয়ে দেখতে পারেন। আমি চাইব, দাবি করব সেভাবে যেন এটা তদন্ত হয়। যদি কেউ জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধর‌্যাব নিয়ে চিঠি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যের ব্যক্তিগত : ইইউ রাষ্ট্রদূত
পরবর্তী নিবন্ধজোটে এগোতে গেলেই কোভিড হাজির হয় : ফখরুল