দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তা বিধান জরুরি

লালন কান্তি দাশ | মঙ্গলবার , ১৭ অক্টোবর, ২০২৩ at ৫:৫৩ পূর্বাহ্ণ

আর কয়েকদিন পরেই শুরু হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এই পূজা উদযাপনের জন্য ভক্তরা সারা বছর অপেক্ষায় থাকে। পূজাকে ঘিরে প্রতিটি হিন্দু পরিবারে খুশির বন্যা বয়ে যায়। পাশাপাশি পূজা কেন্দ্রিক কেনাকাটা ও অন্যান্য কারণে অর্থনীতিতে কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পায়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে হিন্দুমুসলিমবৌদ্ধখ্রিষ্টান এককথায় সকল সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত রক্তের স্রোতধারায় এদেশ স্বাধীন হয়েছে। একটি স্বাধীন দেশে প্রতিটি ধর্মের মানুষ নিরাপদে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি বিগত বছরগুলোতে এ অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। পূজা এলেই একটি অশুভ শক্তি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চালায়। ইতিমধ্যে কয়েকটি জেলায় বিগ্রহ ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ জাতীয় ঘটনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে এবং সমাজে মানুষের নিরাপত্তাহীনতা বাড়ায়। প্রকৃতপক্ষে অতীতে ঘটে যাওয়া এ জাতীয় একটি ঘটনার ও সুষ্ঠু তদন্ত বা বিচার হয়নি। বিচারহীনতার এ সংস্কৃতি অপরাধীদের দিনদিন বলীয়ান করছে। ফলে পূজা এলেই এক ধরনের শঙ্কা বা ভীতি থেকেই যায়। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধ কিংবা সাম্প্রদায়িকতার বিষদাঁত ভেঙে দিতে রাষ্ট্রকেই নিতে হবে মূল দায়িত্ব। পাশাপাশি প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে কেউ যাতে ধর্মীয় উস্কানি এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে এ ব্যাপারে প্রশাসনকে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব ভলান্টিয়ার নিয়োগ ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা গেলে তা শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা স্থাপনে কিছুটা হলেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। দুঃখজনক হলেও সত্যি সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প আজ সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এ থেকে মুক্তি পেতে ধর্মের প্রকৃত অর্থ অনুধাবন, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ও সহনশীলতার কোনও বিকল্প নেই। একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ নির্মাণ করা গেলে যে কোনও ধর্মীয় উৎসবে হয়তো আর পুলিশি পাহারা কিংবা আলাদাভাবে নিরাপত্তা প্রদানের প্রয়োজনও হবে না! প্রতিটি ধর্মের মূল মর্মবাণী হলো শান্তি স্থাপন ও মানুষের কল্যাণএকথা ছড়িয়ে দিতে হবে সবখানে। দুর্গাপূজারব্যাপ্তি কিংবা আনুষ্ঠানিকতা পাঁচ দিন ব্যাপী হলেও সরকারি ছুটি মাত্র একদিনের। ফলে অনেকেই পরিবার ও আত্নীয়দের সাথে পূজার আনন্দ পুরোপুরি ভাগাভাগি করতে পারেন না। পূজার ছুটি বৃদ্ধি বর্তমানে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রাণের দাবী। এ সত্যটুকু উপলব্ধি করে সরকারি ছুটি কমপক্ষে তিনদিন করা হলে তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং উৎসবের আনন্দ অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মর্যাদা সমুন্নত থাকুক, সকলেই নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করুক এটাই সকলের প্রত্যাশা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধডেঙ্গু জ্বরের থাবায় রোগীর স্বজন দিশেহারা
পরবর্তী নিবন্ধছোট্ট রাসেল চলে গেলেও