মা, ভাই–বোন, স্ত্রী–সন্তানকে নিয়ে সুখের সংসার সাজানোর আশায় প্রবাসী হয়েছিলেন রাউজান উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের যুবক আবু জাহেদ। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে আর্থিক স্বচ্ছলতা না পাওয়ায় গত বছর দেশে এসে কিছুটা সময় কাটিয়ে আবার চলে গিয়েছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মস্থলে। এই যাত্রা যে ছিল তার শেষ যাত্রা সেটি কেউ জানত না। নিয়তির নির্মম পরিহাস এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসে যাওয়ার এক বছরের মাথায় পরিবারের কাছে ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে।
প্রবাসী জাহেদ ডাবুয়া ইউনিয়নের হিংগলা গ্রামে মৃত মোহাম্মদ এজার মিয়ার পুত্র। তিনি বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, দুই অবুঝ কন্যা সন্তানসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। নেজাম উদ্দিন রানা নামে তার এক স্বজন জানিয়েছেন, প্রবাসী জাহেদ তার ছোট বোনের স্বামী। গত ১০ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে তার বাসায় সংঘটিত এক অগ্নিকাণ্ডে সৃষ্ট ধোয়ায় দম বন্ধ হয়ে রুমের ভিতর তিনি মারা যান।
গতকাল মঙ্গলবার তার কফিন বন্দি লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে পরিবারের সদস্য, আত্মীয় স্বজনদের গগণবিদারী কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। তার অবুঝ সন্তানদের একজন গত কয়েক দিন ধরে অসুস্থতা নিয়ে ভর্তি আছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সে জানে না তার বাবা চিরকালের জন্য না ফেরার দেশে চলে গেছে। বাবার মুখটি আর কোনোদিন তার দেখা হবে না। ছোট মেয়েটি কফিন ঘিরে সকলের আহজারি দেখে বোবা দৃষ্টিতে এদিক সেদিক দেখছিল।
এদিকে গতকাল রাউজানে ভিন্ন ভিন্ন দুই স্থানে দুই দফা জানাজা শেষে গ্রামের বাড়িতে জাহেদকে দাফন করা হয়।











