দুটি কারণ খুঁজছে অনুসন্ধান কমিটি

| বুধবার , ৮ জুন, ২০২২ at ৬:৩২ পূর্বাহ্ণ

সীতাকুণ্ডে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের কিছু ‘পাত্র’ বিস্ফোরিত হয়েছে এবং কিছু ‘অবিকৃত’ রয়ে গেছে জানিয়ে এর কারণ অনুসন্ধানসহ সেখানে আর কোনো রাসায়নিক ছিল কি না খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটি।

সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বিএম ডিপোতে গত শনিবারের ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের গঠিত ৯ সদস্যের কমিটি গতকাল ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পর এ কথা জানায়। খবর বিডিনিউজের।

পরিদর্শনের সময় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডি, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ- সিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরাও নমুনা সংগ্রহ করেন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান, দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ ও এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নে গত রোববার চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এই কমিটি গঠন করেন। কমিটির আহ্বায়ক চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ডিপো ঘুরে দেখে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের কাছে ডিপোতে থাকা কন্টেনারের তালিকা চাওয়া হয়েছে। সেখানে কত কন্টেনার খালি ছিল, রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেনার কত, রাসায়নিক পণ্যের কন্টেনার কত এসব তথ্য আলাদাভাবে দিতে বলেছি। বুধবার (আজ) তাদের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসব তালিকা নিয়ে আসার কথা রয়েছে।

দুটি বিষয়কে অনুসন্ধানের মূল লক্ষ্য করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা জানতে চাই হাইড্রোজেন পারঅঙাইড বিস্ফোরিত হয়েছে কিনা? এবং সেখানে আর কোনো রাসায়নিক পদার্থ ছিল কিনা?

বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সর্বশেষ যে তালিকা আছে তাতে দাহ্য বা অতি দাহ্য পদার্থের তালিকায় হাইড্রোজেন পারঅঙাইড নেই জানিয়ে বিস্ফারণ কেন হল সে প্রশ্ন তোলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার। তিনি বলেন, তাহলে সেখানে যে হাইড্রোজেন পারঅঙাইড এভাবে বিস্ফোরিত হল কেন? এই বিষয়গুলোই আমরা জানতে চাই।

তিনি আরও বলেন, পরিদর্শনে আমরা ডিপোতে হাইড্রোজেন পারঅঙাইড যেসব জারে ছিল তারমধ্যে কিছু ইনটেক (অবিকল) দেখতে পেয়েছি। আবার কিছু বিস্ফোরিত হয়েছে। এরকম কেন হল তার বৈজ্ঞানিক কারণও আমরা জানতে চাই।

নমুনা সংগ্রহের বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের সাথে সিআইডি, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, পরিবেশ অধিদপ্তরের সদস্যরা নমুনা সংগ্রহ করেছেন। আমরা আরও কিছু নমুনা সংগ্রহ করেছি। সেগুলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। সব নমুনার ফল আসলে তার তথ্য ক্রস চেক করা হবে। তারপর জানা যাবে সেখানে কী কী উপকরণ ছিল।

বিএম ডিপোর অগ্নি নিরাপত্তা ও নির্বাপন ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একদম প্রাথমিক পর্যায়ে এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি। সব কিছুই অনুসন্ধান করা হবে। অনুসন্ধান কমিটি ডিপো সংলগ্ন এলাকার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য নেবে বলেও জানান কমিটির আহ্বায়ক মিজানুর।
অনুসন্ধান কমিটিতে জেলা পুলিশ, চট্টগ্রাম কাস্টমস, পরিবেশ অধিদপ্তর, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়ন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সদস্য হিসেবে আছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাসায়নিক পণ্য যথাসময়ে খালাস করে না নিলে নিলামে বিক্রি
পরবর্তী নিবন্ধপরিবেশ অস্থিতিশীল করলে আম ছালা দুটোই যাবে : প্রধানমন্ত্রী