দুই স্বতন্ত্রের সাথে শক্ত লড়াই হবে চন্দনাইশ ও বাঁশখালীতে

মনোনয়ন টিকাতে পারেননি ১৮ জনের মধ্যে ১৬ স্বতন্ত্র প্রার্থী

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৪:২৮ পূর্বাহ্ণ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে ১৬ আসনের মনোনয়নপত্র বাছাইকালে ১৮ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ১৬ জনই তাদের মনোনয়ন টিকাতে পারেনি।

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা যাচাইকালে সত্যতা না পাওয়ায় (গড়মিলের কারণে) এসব মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় জানিয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্রের সাথে নিজ এলাকার এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরসহ সমর্থনযুক্ত তালিকা দাখিল করতে হয়। জমা দেয়া এই তালিকা থেকে নির্বাচন কমিশন থেকে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০ জনের নাম মাঠ পর্যায়ের যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়। তারা সেগুলো যাচাই বাছাই করেন। এ ১০ জনের মধ্যে একজন ভোটার যদি ভুল পাওয়া যায় তাহলে সে মনোনয়ন ফরম বাতিল হয়ে যায়।

গত ১ জানুয়ারি থেকে ৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের ১৬ আসনের তিন রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র বাছাইকালে ১৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক শতাংশ ভোটারের সত্যতা না পাওয়ায় তাদের মনোনয়ন বাতিল করেন।

এই কঠিন যাত্রায় টিকে যায় চট্টগ্রাম১৪ চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহী এবং চট্টগ্রাম১৬ বাঁশখালী আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী। মনোনয়ন বাঁচিয়ে রাখা দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সাথে শক্ত লড়াই হবে চন্দনাইশ ও বাঁশখালী আসনের বিএনপিজামায়াতের প্রার্থীদের।

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত নথিতে গড়মিলের কারণে চট্টগ্রামের ১৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় জানিয়েছে। চট্টগ্রাম১৪ চন্দনাইশ আসনের স্থানীয় ভোটাররা জানান, এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহীর মাঠ পর্যায়ে অবস্থান ভালো। তার সাথে বিএনপির জসীম উদ্দীন আহমেদ ও এলডিপির ওমর ফারুকের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। অপরদিকে চট্টগ্রাম১৬ বাঁশখালী আসনের স্থানীয় ভোটাররা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা মোহাম্মদ লেয়াকত আলীর কিছু কিছু এলাকায় তৃণমূল পর্যায়ে বেশ শক্ত অবস্থান রয়েছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ জহিরুল ইসলামের সাথে বেশ ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন মোট ১৪৩ জন, তাদের মধ্যে ১৮ জন ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। বাতিল হওয়া মোট ৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১৬জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী। গত ১ থেকে ৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের তিন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থী ও তাদের প্রাতনিধিদের উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই হয়।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে ১৬টি সংসদীয় আসনে জমা পড়া ১৪৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ৪২টি বাতিল হয়েছে এবং বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ১০২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র। যাদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে তারা প্রত্যেকে আপিলের সুযোগ পাবেন। আপিল করা যাবে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তির সময় নয় দিন, ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি।

তিনি জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সাথে নিজ এলাকার এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনযুক্ত যে কাগজ জমা দিতে হয় সেখানে ভোটারদের স্বাক্ষর থাকতে হয়। জমা দেয়া তালিকায় কমিশন থেকে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০ জনের নাম স্থানীয়ভাবে পাঠানো হয়। পরে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সেগুলো যাচাই বাছাই করেন। এ ১০ জনের মধ্যে একজন ভোটার যদি ভুল পাওয়া যায় তাহলে সে মনোনয়ন ফরম বাতিল হয়ে যায়। এই কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়।

চট্টগ্রাম(মীরসরাই) আসনে ১০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বাছাইকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকির মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে এক শতাংশ ভোটারের গড়মিলের কারণে। অপরদিকে চট্টগ্রাম(ফটিকছড়ি) আসনে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বাছাইকালে স্বতন্ত্র আহমদ কবির ও জিন্নাত আকতারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। চট্টগ্রাম(সন্দ্বীপ) আসনে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে বাছাইকালে স্বতন্ত্র মো. মোয়াহেদুল মাওলার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। চট্টগ্রাম৪ সীতাকুণ্ড আসনে ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুর রশীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। চট্টগ্রাম৫ হাটহাজারী আসনে ১০ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম ফজলুল হক, শাকিলা ফারজানা ও মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। চট্টগ্রাম৮ বোয়ালখালীচান্দগাঁও আসনে ৯ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র মো. আজাদ চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। চট্টগ্রাম৯ কোতোয়ালী আসনে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মিলন কান্তি শর্মার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। চট্টগ্রাম১০ ডবলমুরিংহালিশহরপাহাড়তলী আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আরমান আলী ও মো. ওমর ইউসুফ খানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। চট্টগ্রাম১১ বন্দরপতেঙ্গা আসনে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। চট্টগ্রাম১২ পটিয়া আসনে ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ সাদাত আহমেদ ও মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। চট্টগ্রাম১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মিজানুল হক চৌধুরী ও মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত এবং বৈধ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল পারবেন সংক্ষুব্ধরা, যার শেষ সময় ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আগামী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করবে ইসি। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হবে। এরপর প্রতীক বরাদ্দ। ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএকটি মার্সিডিজ গাড়ি ও ৯৯৯ নম্বরে ফোন
পরবর্তী নিবন্ধআনোয়ারায় রাস্তায় ফেলে যাওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজনের মৃত্যু