দুই শিশুকে সড়কের পাশে বসিয়ে রেখে চলে গেল মা, আর ফেরেনি

আনোয়ারায় টেক্সিচালকের সহায়তায় উদ্ধার করল পুলিশ, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি

এম নুরুল ইসলাম, আনোয়ারা | মঙ্গলবার , ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ at ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ

আনোয়ারায় সড়কের পাশ থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা ভাই বোন। এদের একজনের বয়স ৪। নাম আয়শা। অপরজন ১৪ মাস বয়সী মোরশেদ আলম। এক সিএনজি টেক্সিচালকের সহযোগিতায় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। আয়শার উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মা তাদের সড়কের পাশে বসিয়ে রেখে চলে গেছে। আর ফেরেনি। ঘটিনাটি পুরো আনোয়ারা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ঘটনাটি ঘটেছে, গত রোববার রাত ৮ টায় উপজেলার শোলকাটা মনু মিয়া দীঘি এলাকার শোলকাটাবটতলী রুস্তমহাট সড়কের পাশে। তবে এই ঘটনার মূল রহস্য বা কারণ পুলিশ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। ওইদিন রাত দেড়টায় মো. মহিন (৪০) নামে সিএনজি চালক ৯৯৯ ফোন করে পুলিশকে ঘটনাটি জানায়। সিএনজি চালক মো. মহিন হাজীগাঁও আশ্রয়ণ কেন্দ্রের বাসিন্দা।

ফোন পেয়ে একদল পুলিশ রাত ২ টা থেকে সকাল ৬ টা পর্যন্ত আশ্রয়ন প্রকল্পের মহিনের ঘরে অবস্থান করে। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা আকতারের পরামর্শে শিশু দুইটি সেইফ হোমে না ফেরা পর্যন্ত আবারো সিএনজি চালক মহিনের জিম্মায় দেওয়া হয়।

এস আই মোমিন কান্তি দে জানান, উদ্ধার করা ১৪ মাসের শিশু মোরশেদ আলম অসুস্থ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার বোন আয়শার দেওয়া তথ্যমতে, তাদের মায়ের নাম ঝিনু আকতার, বাবার নাম খোরশেদ আলম। তাদের গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার মৌলভীর দোকান এলাকায়। তারা ঝিওরী এলাকার জনৈক ডাক্তার শাহজাহানের কলোনির ভাড়াবাসায় থাকতেন। গত রোববার দুপুর দুইটায় ঝিনু আকতার দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসা থেকে বের হন। এরপর শোলকাটা গ্রামের মনুমিযা দীঘির একাশি গাছের বাগান এলাকায় ব্যাগ আনতে যাবে বলে দুই শিশুকে রাস্তার পাশে রেখে চলে যান। এর পর থেকে আর ফিরে আসেননি ঝিনু আকতার।

সিএনজি চালক মো. মহিন বলেন, রোববার রাত ৮ টায় সিএনজি নিয়ে হাজীগাঁও এর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসায় যাওযার পথে শোলকাটা মনুমিয়া দীঘির আগে মোড়ে কিছু মানুষের ভীড় দেখি। দুর্ঘটনা হয়েছে মনে করে আমি গাড়ি থেকে নেমে পড়ি। এরপর দেখি চার বছরের শিশু কন্যা আয়শা তার প্রতিবন্ধী ভাইকে কোলে নিয়ে বসে আছে। পরে ঘটনাটি জানতে পেরে আমি তাদের উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে যাই। এবং রাত দেড়টার সময় ৯৯৯ ফোন করে থানা পুলিশকে অবহিত করলে তারা রাতে ঘটনাস্থলে আসেন।

এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িযে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। গতকাল আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহিমিনা আক্তার আনোয়ারার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কুড়িয়ে পাওয়া দুই শিশুকে শিশু সেফ হোমে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেন। এবং সেইভ হোমে না ফেরা পর্যন্ত শিশু দুইটি সিএনজি চালকের জিম্মায় রাখা হয়।

স্বপ্নযাত্রীর ফাউন্ডেশন এর সাধারণ সম্পাদক আজিজ খান আজাদীকে জানান, আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে কিছুদিন আগে এক বৃদ্ধকে আমরা বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই দিই। তারই ধারাবাহিকতায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুরোধ আমরা শিশু দুইটির জন্য নিরাপদ সেইভ হোম খুঁজতেছি আশা করি দুএকদিনের মধ্যে তার ব্যবস্থা হবে।

মানবিক সংগঠন জাফরআয়েশা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আশরাফ চৌধুরী জানান, কনকনে শীতের মধ্যে দুই অবুঝ শিশু সন্তানকে সড়কে রেখে চলে যাওয়া অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তবে এই সব ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ গুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর মধ্যে প্রতিবন্ধী অসুস্থ শিশুকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেই সাথে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার্বিক সহযোগিতায় দুই শিশুকে সেইফ হোমে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। সেইফ হোমে না পাঠানো পর্যন্ত সেই সিএনজি চালকের কাছে জিম্মায় রাখা হয়। তাছাড়া চার বছরের শিশু আয়শার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাদের মাবাবার সন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা আক্তার জানান, সড়কের পাশে কুড়িয়ে পাওয়া দুইশিশুকে আনোয়ারা থানা পুলিশ প্রশাসন, সমাজসেবা অফিস ও সামাজিক সংগঠন স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন এর সহযোগিতায় সেইফহোমে পাঠানো হবে ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশৈত্যপ্রবাহ নেই, তাহলে এত শীত কেন?
পরবর্তী নিবন্ধ১০ দলীয় জোট চট্টগ্রাম-৫ আসন খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দিয়েছে