রাউজানের সর্বাধিক ব্যস্ততম সড়ক নোয়াপাড়া সেকশন–১ সড়কপথটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। চট্টগ্রাম–কাপ্তাই ও চট্টগ্রাম–রাঙামাটি মহাসড়কের সাথে সংযোগকারী ১২ কিলোমিটার লম্বা এই সড়ক পথের সবখানে খানাখন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিদিন যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ছে। আহত হচ্ছেন চালক ও যাত্রী সাধারণ। স্থানীয় জনসাধারণ ও যানবাহন চালকরা জানিয়েছেন, গত প্রায় দুই বছর ধরে ব্যস্ততম এই সড়ক পথটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তাদের অভিযোগ, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ মাঝে মধ্যে কিছুকিছু খানাখন্দকে দায়সারাভাবে ভাঙা ইট ফেলে গেলেও অল্প কয়েকদিনের মাথায় সেগুলো আবার সরে গিয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। পরে যানবাহন চলাচল সচল রাখতে স্থানীয়রাও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মাঝে মধ্যে সংস্কার কাজ করে থাকেন।
খবর নিয়ে জানা যায়, এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিদিন কয়েক হাজার ছোট বড় যানবাহন চলাচল করে। এই পথে রয়েছে কাগতিয়া দরবার শরীফ, কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল মাদরাসা, রাউজান সরকারি কলেজ, মুনিরীয়া দারুস ছুন্নাহ ফাজিল মাদরাসা, মগদাই উত্তর গুজরা সৈয়দীয়া দাখিল মাদরাসা, পশ্চিম গুজরা উচ্চ বিদ্যালয়, বিনাজুরী নবীন স্কুল এন্ড কলেজ, সাজিনা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়সহ বহু সরকারি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন এ পথে যাওয়া আসা করে। এছাড়া এই সড়ক পথে রয়েছে উপজেলার অন্যতম বড় বাজার কাগতিয়া ও মগদাই বাজার। বাজারে প্রতিদিন যাওয়া আসা করে পণ্যবাহী ট্রাক। যানবাহন চালকরা বলছেন, কাপ্তাই সড়ক সংযোগ নোয়াপাড়া পথের হাট থেকে রাঙামাটি মহাসড়ক সংযোগ পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়ক পথ ক্ষত–বিক্ষত অবস্থায় রয়েছে। একেবারে বিধস্ত অবস্থায় আছে ডোমখালী এলাকার আধা কিলোমিটার সড়ক পথ। এই পথে গাড়ি চালাতে গিয়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ ভাঙছে। দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছেন চালক–যাত্রী সাধারণ। তাদের অভিযোগ, ভাঙা ইট দিয়ে সংস্কার করে করে টাকা নষ্ট করছে সওজ। সড়কটি টেকসই করে নির্মাণের দাবি জানান তারা।
জাহাঙ্গীর আলম নামে কাগতিয়ার এক বাসিন্দা বলেন, এই পথে প্রতিদিন শত শত মানুষ আসেন কাগতিয়া দরবারে। বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থীরা আসা যাওয়া করেন মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। অনেক সময় যাতায়াতকারী অনেকেই দুর্ঘটনায় পড়ে আহত হচ্ছেন। স্থানীয় এক বিএনপি নেতা সরোয়ার খান মঞ্জু বলেছেন, বিধ্বস্ত এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে এলাকার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে মাঝে মধ্যে ভাঙা ইট ফেলে কোনো রকমে যানবাহন চলাচল সচল রেখেছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, এই সড়কটি সংস্কারে তারা গত প্রায় দুই বছরে কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে। সড়কের পাশে থাকা খালের কারণে ডোমখালী এলাকায় ধসের ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক প্রকৌশলী জানান, এই সড়ক পথটির উন্নয়নে একটি বড় প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এটি অনুমোদন হলে সড়কটি টেকসই উন্নয়নের আওতায় আসবে।














