বাংলাদেশের মেয়েরা এএফসি অনূর্ধ্ব–২০ এশিয়ান কাপে তাদের স্বপ্নকেও ছাড়িয়ে যেতে পারতো। কিন্তু তা হলো না। গতকাল বুধবার ব্যাংককে শুরু হওয়া মেয়েদের এই টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক থাইল্যান্ডকে হতবাক করে এক পর্যায়ে ২–০ গোলে লিড নিয়েছিল পিটার বাটলারের দল। তবে ১১ মিনিটের ব্যবধানে দুটি পেনাল্টিসহ তিন গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশের মেয়েরা। শেষ পর্যন্ত জিততে যাওয়া ম্যাচটি বাংলাদেশ হেরেছে ৩–২ গোলে। বাংলাদেশের জোড়া গোল করেছেন ফরোয়ার্ড সাগরিকা। ৩৫ মিনিটে প্রথম ও ৫৫ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে বাংলাদেশের সামনে রঙিন স্বপ্ন দেখানো সাগরিকাকে মাঠ ত্যাগ করতে হয়েছে বিমর্ষ হৃদয়ে। সাগরিকার জোড়া গোলের পর থাইল্যান্ডের জোড়া পেনাল্টি। সেখানেই সম্ভবত নতুন করে লেখা হয়ে যায় ম্যাচের চিত্রনাট্য। বাংলাদেশের এই দলটিতে বেশ কয়েকজন আছেন জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। জাতীয় দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার ছিলেন অনূর্ধ্ব–২০ দলেরও অধিনায়ক। তবে এশিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে আফঈদার পরিবর্তে কোচ পিটার বাটলার অধিনায়কের ব্যান্ড তুলে দেন অর্পিতা বিশ্বাসের হাতে। শুরু থেকে দুর্দান্ত খেলছিল বাংলাদেশ। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল স্কোরবোর্ডেও। ৩৫ মিনিটে সাগরিকার গোল থাইল্যান্ডের দর্শকদের হতাশ করে দিয়েছে। মাঝ মাঠ থেকে লম্বা পাস এলে অনেকটা দৌড়ে বল ধরেন সাগরিকা। তারপর বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঢুকে পড়েন এবং গড়ানো শট নেন। বল দ্বিতীয় পোস্টে বাতাস দিয়ে জড়িয়ে যায় জালে। বিরতির পর খেলা শুরুর পাঁচ মিনিটের মধ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। এবারো গোলদাতা সেই সাগরিকা। ২–০ তে পিছিয়ে পড়া থাইল্যান্ড ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে চাপ বাড়ায় বাংলাদেশের রক্ষণে। সেই ধারাবাহিকতায় স্বাগতিক মেয়েরা ৬৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান ২–১ করে । স্বাগতিক দলের কায়েওয়ান্তাকে বক্সে ফেলে দেন বাংলাদেশের সুরভীন আক্তার আফরিন। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে গোল করেন কুরিসারা। ৭৫ মিনিটে দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে ম্যাচে সমতা ফেরায় থাইল্যান্ডের মেয়েরা। এবার থাইল্যান্ডের পিচাইয়াতিদাকে বক্সে ফেলে দেন নবীরণ। পেনাল্টি থেকে ম্যাচের স্কোর ২–২ করেন রিনিয়াপাথ। ৭৯ মিনিটে বাংলাদেশ রক্ষণকে বোকা বানিয়ে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় থাইল্যান্ড। পিচাইয়াতিদা থাইল্যান্ডের গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস এনে দেন ব্যবধান ৩–২ করে।











